হায়হায় কোম্পানির প্রতারণা

সরকারের কঠোর পদক্ষেপই কাম্য

  যুগান্তর ডেস্ক ১১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইউনি পে টু ইউ (এম এল এম)
ইউনি পে টু ইউ (এম এল এম)। ছবি: সংগৃহীত

মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানির ফাঁদে পড়ে যেসব নিরীহ মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন, তারা তাদের কী পরিমাণ অর্থ ফেরত পেয়েছেন এটি এক বড় প্রশ্ন। এক্ষেত্রে যারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই অর্ধশিক্ষিত ও অশিক্ষিত। অনেক শিক্ষিত মানুষও এসব কোম্পানির ফাঁদে পড়েছেন। এমএলএম কোম্পানির পরিচালনার সঙ্গে যারা যুক্ত তারা যে অতি ধূর্ত প্রকৃতির, এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে। কাজেই এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগকৃত অর্থ যাতে বিনিয়োগকারীরা সহজে ফেরত পান সেজন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া দরকার। গণমাধ্যমে বারবার প্রতিবেদন প্রকাশের পরও এমএলএম কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীরা সচেতন না হওয়ায় এসব বিনিয়োগকারীর অজ্ঞতার স্তরটি স্পষ্ট। কাজেই নিরীহ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় সরকার বিশেষ পদক্ষেপ না নিলে তাদের অনেকের হারানো অর্থ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা যে ক্ষীণ এটাও অনুমেয়।

বুধবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত এমএলএম কোম্পানি ইউনিপেটুইউর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় জব্দ বিপুল পরিমাণ অর্থ কারসাজির মাধ্যমে তুলে নেয়ার পাঁয়তারা চলছে। এ বিষয়ে দুদকের বক্তব্য হল, অর্থ তুলে নেয়ার এমন চেষ্টা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আলোচিত কোম্পানিটির অতীতের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখলে বোঝা যায়, কারসাজির মাধ্যমে তারা অর্থ তুলে নেয়ার কাজে সফল হওয়ার চেষ্টা করবে। বস্তুত তথ্য গোপন করেই এসব ক্ষেত্রে সফল হওয়ার চেষ্টা করা হয়। ইউনিপেটুইউর কর্মকর্তারা যাতে কারসাজি করে জব্দ করা অর্থ উত্তোলনে সফল না হয় এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। বহুল আলোচিত ‘যুবক’, ডেসটিনি, ইউনিপেটুইউ- এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা কবে নাগাদ যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাবেন এটাও এক বড় প্রশ্ন।

এমএলএম কোম্পানির প্রতারণা রোধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও প্রতারকরা যে নানা কৌশলে সফল হওয়ার চেষ্টা করবে, এটাও সহজেই অনুমান করা যায়। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত সব গ্রাহক যাতে তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফিরে পান- এজন্য সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। নিরীহ মানুষ যাতে সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পে সহজে যুক্ত হতে পারে, তার ব্যবস্থা করা না হলে সাধারণ মানুষ বারবার প্রতারকদের ফাঁদে পা দেবে।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.