পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি
jugantor
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি
ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কঠোর হতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৮ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে দুর্নীতির বিস্তার সর্বব্যাপী। কিন্তু তাই বলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠবে, এটি আশা করা যায় না। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কত রকম দুর্নীতি চলছে, মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হয়েছে।

জানা গেছে, আর্থিক প্রশাসনে শৃঙ্খলা আনতে শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানকে ৪১ দফা সংবলিত সতর্কপত্র পাঠানো হবে। জ্ঞানের আলোয় সমাজকে আলোকিত করার মহৎ দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানকে এমন সতর্কপত্র পাঠানোর বিষয়টি দুঃখজনক। কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে যদি অনিয়মের তদন্ত করতে হয়, তাহলে আমাদের ভরসার জায়গা থাকে কোথায়?

অতীতেও দেশের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল এবং সেই প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সিন্ডিকেট বা রিজেন্ট বোর্ডে নিজেদের প্রয়োজনমতো নিয়ম পাশ করিয়ে নিতে পারে।

তবে এ স্বাধীনতার অপব্যবহারের বিষয়টি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা মনে করি, আইনগত বাধা না থাকলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়, যা কর্তৃপক্ষের নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ খাতে বিধিবহির্ভূত আর্থিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ মর্যাদার আসন রয়েছে সমাজে। কাজেই তাদের এমন কোনো কাজ করা ঠিক নয়, যা তাদের মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় হলো শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর, সেহেতু সেখানকার অনিয়ম-দুর্নীতি শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনেও প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেবল যে আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতি জেঁকে বসেছে তাই নয়, এর বাইরেও বিভিন্ন রকম অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তো শিউরে ওঠার মতো অভিযোগও উঠেছে অতীতে। অথচ একসময় আমাদের দেশের কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রশ্ন হলো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সেই গৌরবের কত অংশ আজ অবশিষ্ট আছে? বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সঙ্গে যারা সরাসরি যুক্ত, তারা কি এর দায় এড়াতে পারেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের মনে রাখা উচিত, গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানোর মধ্যে কৃতিত্ব নেই। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যারা যুক্ত তাদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রতিটি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, এ লক্ষ্যেই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও নিজেদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর সেই আশা পূরণ করে অতীতে বহু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং তা অব্যাহত রয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা গবেষণার সুনাম ধরে রাখার পাশাপাশি আর্থিক খাতেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন, দেশবাসী এটাই আশা করে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে যদি আত্মসম্মান বোধের দৃষ্টান্ত স্থাপনে অনীহা সৃষ্টি হয়, তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে। কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা আশা করব, উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করার চেষ্টা করবেন।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি

ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কঠোর হতে হবে
 সম্পাদকীয় 
১৮ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে দুর্নীতির বিস্তার সর্বব্যাপী। কিন্তু তাই বলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠবে, এটি আশা করা যায় না। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কত রকম দুর্নীতি চলছে, মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হয়েছে।

জানা গেছে, আর্থিক প্রশাসনে শৃঙ্খলা আনতে শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানকে ৪১ দফা সংবলিত সতর্কপত্র পাঠানো হবে। জ্ঞানের আলোয় সমাজকে আলোকিত করার মহৎ দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানকে এমন সতর্কপত্র পাঠানোর বিষয়টি দুঃখজনক। কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে যদি অনিয়মের তদন্ত করতে হয়, তাহলে আমাদের ভরসার জায়গা থাকে কোথায়?

অতীতেও দেশের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল এবং সেই প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সিন্ডিকেট বা রিজেন্ট বোর্ডে নিজেদের প্রয়োজনমতো নিয়ম পাশ করিয়ে নিতে পারে।

তবে এ স্বাধীনতার অপব্যবহারের বিষয়টি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা মনে করি, আইনগত বাধা না থাকলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়, যা কর্তৃপক্ষের নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ খাতে বিধিবহির্ভূত আর্থিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ মর্যাদার আসন রয়েছে সমাজে। কাজেই তাদের এমন কোনো কাজ করা ঠিক নয়, যা তাদের মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় হলো শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর, সেহেতু সেখানকার অনিয়ম-দুর্নীতি শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনেও প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেবল যে আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতি জেঁকে বসেছে তাই নয়, এর বাইরেও বিভিন্ন রকম অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তো শিউরে ওঠার মতো অভিযোগও উঠেছে অতীতে। অথচ একসময় আমাদের দেশের কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রশ্ন হলো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সেই গৌরবের কত অংশ আজ অবশিষ্ট আছে? বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সঙ্গে যারা সরাসরি যুক্ত, তারা কি এর দায় এড়াতে পারেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের মনে রাখা উচিত, গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানোর মধ্যে কৃতিত্ব নেই। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যারা যুক্ত তাদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রতিটি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, এ লক্ষ্যেই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও নিজেদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর সেই আশা পূরণ করে অতীতে বহু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং তা অব্যাহত রয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা গবেষণার সুনাম ধরে রাখার পাশাপাশি আর্থিক খাতেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন, দেশবাসী এটাই আশা করে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে যদি আত্মসম্মান বোধের দৃষ্টান্ত স্থাপনে অনীহা সৃষ্টি হয়, তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে। কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা আশা করব, উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করার চেষ্টা করবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন