অর্থনীতিতে নানামুখী চাপ
jugantor
অর্থনীতিতে নানামুখী চাপ
বাজেটে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৮ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সোমবার রাজধানীতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য রেখেছেন অর্থনীতিবিদরা।

তারা বলেছেন, অর্থনীতিতে রাজস্ব আয়ের ঘাটতির পাশাপাশি নতুন করে যোগ হয়েছে বিশ্ব সংকট। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয়ে ঘাটতির কারণে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে অসহনীয় হয়ে উঠছে দ্রব্যমূল্য।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিতে করোনার যে অভিঘাত, তা কাটিয়ে ওঠা এখনো সম্ভব হয়নি। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক করোনা-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যায়নি। সব মিলে গত ১৩-১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে চাপে রয়েছে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি।

বস্তুত দেশের অর্থনীতির সামনে এক কঠিন বাস্তবতা অপেক্ষা করছে বলা যায়। আমাদের অর্থনীতির শক্তির জায়গা ছিল বৈদেশিক খাত। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সে অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে টাকার রেকর্ড অবমূল্যায়ন হয়েছে। ডলারের এ ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে দেশের অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। বাড়বে মূল্যস্ফীতি।

আসন্ন জাতীয় বাজেটে সে পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এজন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি আমরা। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালে তা এ মুহূর্তে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হবে না। এতে দ্রব্যমূল্যসহ মানুষের সব ধরনের ব্যয় আরও বাড়বে। এমনিতেই ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় মানুষের সঞ্চয় কমে যাচ্ছে।

আমরা মনে করি, সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে উৎসাহিত করা উচিত। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করা উচিত বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। আমরা আশা করব, সরকারের নীতিনির্ধারকরা অর্থনীতিবিদদের এসব পরামর্শ আমলে নেবেন। একইসঙ্গে অর্থনীতির উন্নয়নে ও বিনিয়োগ টানতে সরকার আর্থিক খাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হবে এবং নানামুখী চাপ মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেবে।

অর্থনীতিতে নানামুখী চাপ

বাজেটে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে
 সম্পাদকীয় 
১৮ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সোমবার রাজধানীতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য রেখেছেন অর্থনীতিবিদরা।

তারা বলেছেন, অর্থনীতিতে রাজস্ব আয়ের ঘাটতির পাশাপাশি নতুন করে যোগ হয়েছে বিশ্ব সংকট। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয়ে ঘাটতির কারণে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে অসহনীয় হয়ে উঠছে দ্রব্যমূল্য।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিতে করোনার যে অভিঘাত, তা কাটিয়ে ওঠা এখনো সম্ভব হয়নি। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক করোনা-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যায়নি। সব মিলে গত ১৩-১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে চাপে রয়েছে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি।

বস্তুত দেশের অর্থনীতির সামনে এক কঠিন বাস্তবতা অপেক্ষা করছে বলা যায়। আমাদের অর্থনীতির শক্তির জায়গা ছিল বৈদেশিক খাত। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সে অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে টাকার রেকর্ড অবমূল্যায়ন হয়েছে। ডলারের এ ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে দেশের অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। বাড়বে মূল্যস্ফীতি।

আসন্ন জাতীয় বাজেটে সে পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এজন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি আমরা। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালে তা এ মুহূর্তে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হবে না। এতে দ্রব্যমূল্যসহ মানুষের সব ধরনের ব্যয় আরও বাড়বে। এমনিতেই ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় মানুষের সঞ্চয় কমে যাচ্ছে।

আমরা মনে করি, সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে উৎসাহিত করা উচিত। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করা উচিত বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। আমরা আশা করব, সরকারের নীতিনির্ধারকরা অর্থনীতিবিদদের এসব পরামর্শ আমলে নেবেন। একইসঙ্গে অর্থনীতির উন্নয়নে ও বিনিয়োগ টানতে সরকার আর্থিক খাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হবে এবং নানামুখী চাপ মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন