ডলারের দামে অস্থিরতা
jugantor
ডলারের দামে অস্থিরতা
আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৯ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে অব্যাহত ডলারের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি উদ্বেগজনক। করোনা পরিস্থিতি উন্নতির প্রেক্ষাপটে সারা দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন পণ্য আমদানির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। সেই তুলনায় রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। করোনা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর চিকিৎসা, পড়াশোনা ও ভ্রমণের জন্য অনেকেই বিদেশে যাচ্ছেন। এসব কারণে নগদ ডলারের চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি দামও বেড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে। সব মিলে বাজারে ডলারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

একদিনের ব্যবধানে গত মঙ্গলবার আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম আরও ১০ পয়সা বেড়ে সর্বোচ্চ ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা দরে বিক্রি হয়েছে। মানিচেঞ্জারগুলো প্রতি ডলার বিক্রি করেছে ১০১ থেকে ১০২ টাকায়।

কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১০২ থেকে ১০৩ টাকায়। জানা গেছে, নগদ ডলার বিভিন্ন ব্যাংক ভিন্ন ভিন্ন দরে বিক্রি করছে। সরকারি ব্যাংকগুলোতে এর দাম কিছুটা কম হলেও বেসরকারি ব্যাংকে বেশি। ডলারের পাশাপাশি অন্যান্য মুদ্রার দামও বেড়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো আমদানি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া। ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ে আমদানি ব্যয় কমানোর কাজটি কঠিন হলেও বিলাস পণ্যের ক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ে আমদানি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। এ সময়ে আমদানিনির্ভর নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। কারণ দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ কমে যেতে পারে।

রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর জন্য স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়িয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো সম্ভব। দীর্ঘ মেয়াদে প্রবাসী বাংলাদেশিদের শ্রমনির্ভর কাজের পরিবর্তে মেধানির্ভর কাজে অংশগ্রহণে গুরুত্ব দিতে হবে। রপ্তানির ক্ষেত্রেও শ্রমনির্ভর রপ্তানি পণ্যের পরিবর্তে মেধানির্ভর পণ্যে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহে কাক্সিক্ষত গতি আসবে। প্রবাসীরা যাতে হুন্ডির পরিবর্তে ব্যাংক চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে বেশি আগ্রহী হয় সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের নৈতিকতাবোধের উন্নতিও কাম্য।

অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্নীতির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বিদেশে পাচার করে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ছাড়া অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একই ধরনের বিলাসপণ্য দেশে থাকা সত্ত্বেও বিদেশি পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী হয়। সেক্ষেত্রে বিলাসপণ্য আমদানিকে নিরুৎসাহিত করা হলে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী দেশে যায়। এ প্রবণতা রোধে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়লে মানুষ বেশি দামে পণ্য ক্রয়ে বাধ্য হয়। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমলে তা দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে। নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জিত না হলে আলোচিত বিষয়ে যত পদক্ষেপই নেওয়া হোক না কেন, তা কতটা টেকসই হবে সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

ডলারের দাম বৃদ্ধির পেছনে কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কাজেই উল্লিখিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

ডলারের দামে অস্থিরতা

আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে
 সম্পাদকীয় 
১৯ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে অব্যাহত ডলারের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি উদ্বেগজনক। করোনা পরিস্থিতি উন্নতির প্রেক্ষাপটে সারা দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন পণ্য আমদানির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। সেই তুলনায় রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। করোনা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর চিকিৎসা, পড়াশোনা ও ভ্রমণের জন্য অনেকেই বিদেশে যাচ্ছেন। এসব কারণে নগদ ডলারের চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি দামও বেড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে। সব মিলে বাজারে ডলারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

একদিনের ব্যবধানে গত মঙ্গলবার আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম আরও ১০ পয়সা বেড়ে সর্বোচ্চ ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা দরে বিক্রি হয়েছে। মানিচেঞ্জারগুলো প্রতি ডলার বিক্রি করেছে ১০১ থেকে ১০২ টাকায়।

কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১০২ থেকে ১০৩ টাকায়। জানা গেছে, নগদ ডলার বিভিন্ন ব্যাংক ভিন্ন ভিন্ন দরে বিক্রি করছে। সরকারি ব্যাংকগুলোতে এর দাম কিছুটা কম হলেও বেসরকারি ব্যাংকে বেশি। ডলারের পাশাপাশি অন্যান্য মুদ্রার দামও বেড়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো আমদানি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া। ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ে আমদানি ব্যয় কমানোর কাজটি কঠিন হলেও বিলাস পণ্যের ক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ে আমদানি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। এ সময়ে আমদানিনির্ভর নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। কারণ দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ কমে যেতে পারে।

রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর জন্য স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়িয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো সম্ভব। দীর্ঘ মেয়াদে প্রবাসী বাংলাদেশিদের শ্রমনির্ভর কাজের পরিবর্তে মেধানির্ভর কাজে অংশগ্রহণে গুরুত্ব দিতে হবে। রপ্তানির ক্ষেত্রেও শ্রমনির্ভর রপ্তানি পণ্যের পরিবর্তে মেধানির্ভর পণ্যে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহে কাক্সিক্ষত গতি আসবে। প্রবাসীরা যাতে হুন্ডির পরিবর্তে ব্যাংক চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে বেশি আগ্রহী হয় সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের নৈতিকতাবোধের উন্নতিও কাম্য।

অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্নীতির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বিদেশে পাচার করে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ছাড়া অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একই ধরনের বিলাসপণ্য দেশে থাকা সত্ত্বেও বিদেশি পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী হয়। সেক্ষেত্রে বিলাসপণ্য আমদানিকে নিরুৎসাহিত করা হলে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী দেশে যায়। এ প্রবণতা রোধে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়লে মানুষ বেশি দামে পণ্য ক্রয়ে বাধ্য হয়। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমলে তা দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে। নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জিত না হলে আলোচিত বিষয়ে যত পদক্ষেপই নেওয়া হোক না কেন, তা কতটা টেকসই হবে সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

ডলারের দাম বৃদ্ধির পেছনে কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কাজেই উল্লিখিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন