বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ
jugantor
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ
পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে

  সম্পাদকীয়  

২১ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রায় ৫৮ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠিত কারিগরি টিম।

এই সুপারিশ ও গণশুনানির ভিত্তিতে বিইআরসি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সরকার যদি ভর্তুকি দেয়, তাহলে দাম না বাড়িয়ে আগের মতোই রাখা যেতে পারে। উল্লেখ্য, বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ানো হয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জন্য।

পিডিবি গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। কারিগরি টিম তাদের সুপারিশে বলেছে, ভোক্তা পর্যায়ে দাম না বাড়ালে পাইকারি মূল্যহার কার্যকর করা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ বিদ্যুতের দাম পাইকারি পর্যায়ে বাড়ানো হলে এর প্রভাব সব শ্রেণির ভোক্তার ওপরই পড়বে।

তাই বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশের খবরে সবাই, বিশেষত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। কারণ বিদ্যুতের দাম বাড়লে খরচ বাড়বে কৃষি, শিল্প উৎপাদন ও সেবা খাতে। ফলে আরেক দফা বাড়বে দ্রব্যমূল্য। ক্ষতিগ্রস্ত হবে রপ্তানি খাত।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে বিইআরসি নানা অজুহাত তুলে ধরেছে। এর কোনো কোনোটি হয়তো যৌক্তিকও বটে। তবে এই বৃদ্ধি বিশেষত সাধারণ মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলবে, সেটাও বিবেচনায় রাখা দরকার। মাস ছয় আগে ডিজেলের দামবৃদ্ধিতে নতুন করে এক দফা দুর্ভোগের শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ।

ডিজেলের দামবৃদ্ধিতে পরিবহণ ভাড়া বেড়েছে, পরিবহণ ভাড়া বাড়ার প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। এ অবস্থায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো মানে সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনে আরেক বড় ধাক্কা। বলা নিষ্প্রয়োজন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শুধু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই বাড়বে না, দেশের শিল্প-কারখানা তথা শিল্পক্ষেত্রেও পড়বে এর নেতিবাচক প্রভাব।

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে বৈশ্বিক করোনা মহামারির অভিঘাত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ওদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী আমদানি পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। এ বাস্তবতায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে দেশের শিল্প খাত প্রতিযোগী সক্ষমতা হারাবে। সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতি বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে রপ্তানিমুখী শিল্পের গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ আত্মঘাতী।

আমরা মনে করি, বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে এ খাতের সিস্টেম লস দূর করার বিষয়ে মনোনিবেশ করা উচিত সরকারের। তাহলে এ খাতের অপচয় দূর হবে। বিদ্যুৎ খাতে সিস্টেম লসের কারণে অপচয় হচ্ছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। ১ শতাংশ সিস্টেম লসেই অন্তত ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয় বিদ্যুৎ খাতে।

এর দায় চাপছে গ্রাহকদের ওপর। এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে আক্ষরিক অর্থেই সাধারণ মানুষের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে। সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছে আমাদের। একদিকে করোনার ক্ষত কাটিয়ে ওঠা, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি ইত্যাদিতে নাকাল হয়ে আছে মানুষের জীবন। এ সময় বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সুপারিশ পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করি আমরা।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ

পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে
 সম্পাদকীয় 
২১ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রায় ৫৮ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠিত কারিগরি টিম।

এই সুপারিশ ও গণশুনানির ভিত্তিতে বিইআরসি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সরকার যদি ভর্তুকি দেয়, তাহলে দাম না বাড়িয়ে আগের মতোই রাখা যেতে পারে। উল্লেখ্য, বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ানো হয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জন্য।

পিডিবি গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। কারিগরি টিম তাদের সুপারিশে বলেছে, ভোক্তা পর্যায়ে দাম না বাড়ালে পাইকারি মূল্যহার কার্যকর করা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ বিদ্যুতের দাম পাইকারি পর্যায়ে বাড়ানো হলে এর প্রভাব সব শ্রেণির ভোক্তার ওপরই পড়বে।

তাই বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশের খবরে সবাই, বিশেষত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। কারণ বিদ্যুতের দাম বাড়লে খরচ বাড়বে কৃষি, শিল্প উৎপাদন ও সেবা খাতে। ফলে আরেক দফা বাড়বে দ্রব্যমূল্য। ক্ষতিগ্রস্ত হবে রপ্তানি খাত।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে বিইআরসি নানা অজুহাত তুলে ধরেছে। এর কোনো কোনোটি হয়তো যৌক্তিকও বটে। তবে এই বৃদ্ধি বিশেষত সাধারণ মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলবে, সেটাও বিবেচনায় রাখা দরকার। মাস ছয় আগে ডিজেলের দামবৃদ্ধিতে নতুন করে এক দফা দুর্ভোগের শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ।

ডিজেলের দামবৃদ্ধিতে পরিবহণ ভাড়া বেড়েছে, পরিবহণ ভাড়া বাড়ার প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। এ অবস্থায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো মানে সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনে আরেক বড় ধাক্কা। বলা নিষ্প্রয়োজন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শুধু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই বাড়বে না, দেশের শিল্প-কারখানা তথা শিল্পক্ষেত্রেও পড়বে এর নেতিবাচক প্রভাব।

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে বৈশ্বিক করোনা মহামারির অভিঘাত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ওদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী আমদানি পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। এ বাস্তবতায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে দেশের শিল্প খাত প্রতিযোগী সক্ষমতা হারাবে। সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতি বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে রপ্তানিমুখী শিল্পের গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ আত্মঘাতী।

আমরা মনে করি, বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে এ খাতের সিস্টেম লস দূর করার বিষয়ে মনোনিবেশ করা উচিত সরকারের। তাহলে এ খাতের অপচয় দূর হবে। বিদ্যুৎ খাতে সিস্টেম লসের কারণে অপচয় হচ্ছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। ১ শতাংশ সিস্টেম লসেই অন্তত ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয় বিদ্যুৎ খাতে।

এর দায় চাপছে গ্রাহকদের ওপর। এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে আক্ষরিক অর্থেই সাধারণ মানুষের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে। সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছে আমাদের। একদিকে করোনার ক্ষত কাটিয়ে ওঠা, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি ইত্যাদিতে নাকাল হয়ে আছে মানুষের জীবন। এ সময় বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সুপারিশ পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করি আমরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন