সুরমায় নাব্য সংকট
jugantor
সুরমায় নাব্য সংকট
কার্যকর ও টেকসই সমাধান জরুরি

  সম্পাদকীয়  

২৬ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক সময়ের প্রমত্তা সুরমা নদী নাব্য হারিয়ে এখন শুকনো মৌসুমে মরা গাঙে পরিণত হয়। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে আসা পলিমাটি আর তীরবর্তী বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা তলদেশে জমে নদীটি ক্রমেই গভীরতা হারাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে সুরমার পানি উপচে পড়ে।

বর্ষা এলে বিষয়টি সবার নজরে এলেও মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ নদী খননের কথা সবাই ভুলে যান। অথচ কয়েক বছর ধরেই প্রতি বর্ষায় সুরমা খননের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন সংশ্লিষ্টরা। সুরমা খননে এক দশকে কয়েক দফা প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও একটিও গৃহীত হয়নি।

সম্প্রতি সিলেটে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেওয়ায় সুরমা খননের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এসেছে। কেবল সুরমা নয়, শুষ্ক মৌসুমে দেশের নদ-নদীগুলোর নাব্য সংকট বেড়ে যায়। এমনকি কোনো নদীতে চাষাবাদের বিষয়টিও আলোচিত। নাব্য সংকটে নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এ সংকটের অন্যতম কারণ উজানে পানি প্রত্যাহার।

এ বাস্তবতায় নদীগুলোতে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য স্বাভাবিক রাখা দরকার। অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য সংকট দূর হবে না। লক্ষ করা যায়, খননযন্ত্রের সাহায্যে নদীর পলি ও বালু উত্তোলন করে কাছাকাছি কোথাও ফেলা হয়। ফলে বৃষ্টি ও অন্যান্য কারণে সেসব পলি ও বালু আবার নদীতে পড়ে নাব্য সংকট সৃষ্টি করে।

কর্তৃপক্ষ কম অর্থ ব্যয় করে নাব্য সংকট সাময়িকভাবে দূর করে মনে করে, তাদের দায়িত্ব শেষ হয়েছে। অথচ ড্রেজার দিয়ে নদীর বালু ও পলি অপসারণ করে সেসব দূরে কোথাও ফেললে নাব্য সংকট জটিল আকার ধারণ করত না। কাজেই ড্রেজিংয়ের কাজটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে।

অন্যদিকে নদী দূষণ ও দখল রোধে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সরকারের একার পক্ষে এ সমস্যার সমাধান করা কঠিন।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতেও অতিবৃষ্টিতে বন্যা প্রকট আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে। নাব্য সংকট দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া হলে বন্যা মোকাবিলা ছাড়াও শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি সেচসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে।

দেশের নদ-নদীগুলোর নাব্য সংকটের কার্যকর ও টেকসই সমাধানের বিকল্প নেই। সারা দেশের নদীগুলোর নাব্য সংকট দূর করার জন্য যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন জরুরি।

সুরমায় নাব্য সংকট

কার্যকর ও টেকসই সমাধান জরুরি
 সম্পাদকীয় 
২৬ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক সময়ের প্রমত্তা সুরমা নদী নাব্য হারিয়ে এখন শুকনো মৌসুমে মরা গাঙে পরিণত হয়। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে আসা পলিমাটি আর তীরবর্তী বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা তলদেশে জমে নদীটি ক্রমেই গভীরতা হারাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে সুরমার পানি উপচে পড়ে।

বর্ষা এলে বিষয়টি সবার নজরে এলেও মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ নদী খননের কথা সবাই ভুলে যান। অথচ কয়েক বছর ধরেই প্রতি বর্ষায় সুরমা খননের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন সংশ্লিষ্টরা। সুরমা খননে এক দশকে কয়েক দফা প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও একটিও গৃহীত হয়নি।

সম্প্রতি সিলেটে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেওয়ায় সুরমা খননের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এসেছে। কেবল সুরমা নয়, শুষ্ক মৌসুমে দেশের নদ-নদীগুলোর নাব্য সংকট বেড়ে যায়। এমনকি কোনো নদীতে চাষাবাদের বিষয়টিও আলোচিত। নাব্য সংকটে নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এ সংকটের অন্যতম কারণ উজানে পানি প্রত্যাহার।

এ বাস্তবতায় নদীগুলোতে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য স্বাভাবিক রাখা দরকার। অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য সংকট দূর হবে না। লক্ষ করা যায়, খননযন্ত্রের সাহায্যে নদীর পলি ও বালু উত্তোলন করে কাছাকাছি কোথাও ফেলা হয়। ফলে বৃষ্টি ও অন্যান্য কারণে সেসব পলি ও বালু আবার নদীতে পড়ে নাব্য সংকট সৃষ্টি করে।

কর্তৃপক্ষ কম অর্থ ব্যয় করে নাব্য সংকট সাময়িকভাবে দূর করে মনে করে, তাদের দায়িত্ব শেষ হয়েছে। অথচ ড্রেজার দিয়ে নদীর বালু ও পলি অপসারণ করে সেসব দূরে কোথাও ফেললে নাব্য সংকট জটিল আকার ধারণ করত না। কাজেই ড্রেজিংয়ের কাজটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে।

অন্যদিকে নদী দূষণ ও দখল রোধে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সরকারের একার পক্ষে এ সমস্যার সমাধান করা কঠিন।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতেও অতিবৃষ্টিতে বন্যা প্রকট আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে। নাব্য সংকট দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া হলে বন্যা মোকাবিলা ছাড়াও শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি সেচসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে।

দেশের নদ-নদীগুলোর নাব্য সংকটের কার্যকর ও টেকসই সমাধানের বিকল্প নেই। সারা দেশের নদীগুলোর নাব্য সংকট দূর করার জন্য যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন জরুরি।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন