বেপরোয়া ছাত্রলীগ
jugantor
বেপরোয়া ছাত্রলীগ
নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সরকারি দলের হাইকমান্ডের

  সম্পাদকীয়  

২৮ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠেছে। একদিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার দুই বড় ছাত্রসংগঠন আবারও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।

এদিন ছাত্রদলের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংগঠনটি কর্মসূচি আহ্বান করেছিল। ছাত্রলীগ সেই কর্মসূচি চলাকালে হামলা চালায়। দুপুর ১২টার দিকে হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ হামলায় অংশ নেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

হামলার সময় একাধিক রাউন্ড গুলিও ছোড়া হয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে উচ্চ আদালত চত্বর পর্যন্ত। সেখানে ঢুকে ছাত্রলীগকর্মীরা ছাত্রদলের অনেক সদস্যকে মারধর করেন। এসব ঘটনায় ৪৭ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। ছাত্রলীগকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন তিন সাংবাদিকও।

ছাত্রলীগকর্মীরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন যে, আদালতের পবিত্রতাকেও তারা তুচ্ছজ্ঞান করছেন। আমরা মনে করি, ছাত্রলীগের যেসব নেতাকর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও উচ্চ আদালত চত্বরে হামলা চালিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

অবশ্য এমনও হতে পারে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদেরও এ হামলায় সায় ছিল। তা না হলে ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মীরা এতটা মারমুখী হয়ে উঠতেন না। এই যখন বাস্তবতা, তখন সরকার তথা আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডকেই ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেকদিন শান্তই ছিল। কিন্তু ছাত্রদল ক্যাম্পাসে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করলে ছাত্রলীগ সব ধরনের গণতান্ত্রিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে তাদের ওপর চড়াও হয়। তাদের এ অগণতান্ত্রিক আচরণ নিন্দনীয়। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে প্রত্যেকেরই অধিকার রয়েছে সভা-সমাবেশ বা মিছিল করার।

কিন্তু ছাত্রলীগ ছাত্রদলকে সেই অধিকার ভোগ করতে দিতে নারাজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চিত্র অবশ্য নতুন কিছু নয়। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, যে দল যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন সেই দলের অঙ্গ ছাত্রসংগঠন বিরোধী দলের অঙ্গ সংগঠনকে ক্যাম্পাসে সহ্য করতে পারে না। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ছাত্রদল একইভাবে ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাসে কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা চালাতে দেয়নি।

শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নয়, মানিকগঞ্জেও ছাত্রলীগকর্মীরা যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন। ওদিকে খুলনা ও পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশে যখন পুলিশ হামলা চালায়, তখন ছাত্রলীগ ও যুবলীগকর্মীরা সহযোগিতা করেছেন পুলিশকে। অর্থাৎ আমরা দেখছি, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ছাত্রলীগ ততোই বেপরোয়া হয়ে উঠে বিরোধী পক্ষকে আক্রমণ করছে।

এ প্রবণতা রোধ করতে হবে। ছাত্রলীগের এসব অপকর্মের কারণে সরকার তথা সরকারি দলের ভাবমূর্তি যে ক্ষুণ্ন হচ্ছে, দলটির হাইকমান্ডকে তা উপলব্ধি করতে হবে। বস্তুত, ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করে বশে রাখতে না পারলে আগামী নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে আওয়ামী লীগের ওপর।

আমরা ঐতিহ্যবাহী ছাত্রলীগকে একটি গণতান্ত্রিক, সংযত ও শিক্ষাবান্ধব সংগঠন হিসাবে দেখতে চাই, সরকারের লাঠিয়াল বাহিনী হিসাবে নয়। সরকারকেও এ উপলব্ধিতে পৌঁছাতে হবে। তা না হলে আখেরে যা ক্ষতি হওয়ার, তা হবে সরকারেরই।

বেপরোয়া ছাত্রলীগ

নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সরকারি দলের হাইকমান্ডের
 সম্পাদকীয় 
২৮ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠেছে। একদিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার দুই বড় ছাত্রসংগঠন আবারও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।

এদিন ছাত্রদলের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংগঠনটি কর্মসূচি আহ্বান করেছিল। ছাত্রলীগ সেই কর্মসূচি চলাকালে হামলা চালায়। দুপুর ১২টার দিকে হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ হামলায় অংশ নেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

হামলার সময় একাধিক রাউন্ড গুলিও ছোড়া হয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে উচ্চ আদালত চত্বর পর্যন্ত। সেখানে ঢুকে ছাত্রলীগকর্মীরা ছাত্রদলের অনেক সদস্যকে মারধর করেন। এসব ঘটনায় ৪৭ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। ছাত্রলীগকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন তিন সাংবাদিকও।

ছাত্রলীগকর্মীরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন যে, আদালতের পবিত্রতাকেও তারা তুচ্ছজ্ঞান করছেন। আমরা মনে করি, ছাত্রলীগের যেসব নেতাকর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও উচ্চ আদালত চত্বরে হামলা চালিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

অবশ্য এমনও হতে পারে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদেরও এ হামলায় সায় ছিল। তা না হলে ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মীরা এতটা মারমুখী হয়ে উঠতেন না। এই যখন বাস্তবতা, তখন সরকার তথা আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডকেই ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেকদিন শান্তই ছিল। কিন্তু ছাত্রদল ক্যাম্পাসে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করলে ছাত্রলীগ সব ধরনের গণতান্ত্রিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে তাদের ওপর চড়াও হয়। তাদের এ অগণতান্ত্রিক আচরণ নিন্দনীয়। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে প্রত্যেকেরই অধিকার রয়েছে সভা-সমাবেশ বা মিছিল করার।

কিন্তু ছাত্রলীগ ছাত্রদলকে সেই অধিকার ভোগ করতে দিতে নারাজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চিত্র অবশ্য নতুন কিছু নয়। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, যে দল যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন সেই দলের অঙ্গ ছাত্রসংগঠন বিরোধী দলের অঙ্গ সংগঠনকে ক্যাম্পাসে সহ্য করতে পারে না। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ছাত্রদল একইভাবে ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাসে কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা চালাতে দেয়নি।

শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নয়, মানিকগঞ্জেও ছাত্রলীগকর্মীরা যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন। ওদিকে খুলনা ও পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশে যখন পুলিশ হামলা চালায়, তখন ছাত্রলীগ ও যুবলীগকর্মীরা সহযোগিতা করেছেন পুলিশকে। অর্থাৎ আমরা দেখছি, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ছাত্রলীগ ততোই বেপরোয়া হয়ে উঠে বিরোধী পক্ষকে আক্রমণ করছে।

এ প্রবণতা রোধ করতে হবে। ছাত্রলীগের এসব অপকর্মের কারণে সরকার তথা সরকারি দলের ভাবমূর্তি যে ক্ষুণ্ন হচ্ছে, দলটির হাইকমান্ডকে তা উপলব্ধি করতে হবে। বস্তুত, ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করে বশে রাখতে না পারলে আগামী নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে আওয়ামী লীগের ওপর।

আমরা ঐতিহ্যবাহী ছাত্রলীগকে একটি গণতান্ত্রিক, সংযত ও শিক্ষাবান্ধব সংগঠন হিসাবে দেখতে চাই, সরকারের লাঠিয়াল বাহিনী হিসাবে নয়। সরকারকেও এ উপলব্ধিতে পৌঁছাতে হবে। তা না হলে আখেরে যা ক্ষতি হওয়ার, তা হবে সরকারেরই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন