ভালো থাকুক পরিবেশ

  সঞ্জয় চৌধুরী ০৫ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবেশ
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত

আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তা নিয়েই আমাদের পরিবেশ। আর এই পরিবেশের প্রধান উপাদান বায়ু, পানি ও মাটি ইত্যাদির পরশে আমরা বেঁচে থাকি। প্রতিনিয়তই আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে শিখি আর প্রাকৃতিক পরিবেশেই বেড়ে উঠি।

কিন্তু প্রাকৃতিক সম্পদের উপকারের প্রতিদানে অপকার করি। এই প্রাকৃতিক পরিবেশের অন্যতম সৌন্দর্য তার বনরাজি, সবুজ গাছ আর তরুলতা, যা থেকে প্রাপ্ত অক্সিজেন আমাদের জীবন বাঁচিয়ে রেখেছে। পৃথিবীর সব প্রাণী শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে।

অপরদিকে বৃক্ষরাজি কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ ও অক্সিজেন ত্যাগ করে। বৃক্ষ যেখানে আমাদের পরম বন্ধু সেখানে আমরা শত্রুর মতো বৃক্ষনিধনে মেতে উঠি। আমরা এই বৃক্ষকে সমূলে উৎপাটন করে তার ভালোবাসাকে মূল্যহীন করে দিই। এ যেন নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা!

পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বৃদ্ধিজনিত কারণে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। নির্বিচারে বৃক্ষনিধন করার ফলে অবশিষ্ট বৃক্ষরাজি বায়ুমণ্ডলের এই অতিরিক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করতে পারছে না বিধায় বায়ুমণ্ডল ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানের বিজয় গৌরবে অন্ধ মানুষ প্রতিনিয়তই পৃথিবীর পরিবেশকে বিষাক্ত করছে। এই বিষাক্ত পরিবেশ প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।

ফলে জীবজগতের অস্তিত্বই আজ বিপন্ন। সেই সঙ্গে শিল্পোন্নত দেশগুলোর অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মতো ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে মেরু অঞ্চলের জমাট বাঁধা বরফ গলে গিয়ে সমুদ্রের পানি বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে ঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য যেহেতু শিল্পোন্নত দেশগুলোই দায়ী, তাই ক্ষতিপূরণ হিসেবে এ দেশগুলোর ওপর কার্বন ট্যাক্স কার্যকর করে একটি অর্থ তহবিলের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা দিতে হবে।

সরকারিভাবে অবাধ বৃক্ষ নিধন বন্ধ করে পরিকল্পিতভাবে শিল্পকারখানা স্থাপন করে এগুলোর বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। যানবাহনের কালো ধোঁয়া রোধে ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলার অনুমতি বাতিল করতে হবে। ডাস্টবিনের ময়লা আবর্জনা ও বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত জৈব বর্জ্য বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপন্ন করে বিপন্ন পরিবেশকে রক্ষা করা সম্ভব।

জড় ও জীবের মধ্যে আদান-প্রদান, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও সহযোগিতার মাধ্যমে গড়ে ওঠে পরিবেশতন্ত্র বা ইকো সিস্টেম। এই ইকো সিস্টেমের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। এটিকে টিকিয়ে রাখার মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও আবাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে পারি।

অন্যদিকে যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বন্ধ এবং বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্ট শব্দ নিয়ন্ত্রণে রেখে শব্দদূষণ অনেকাংশে কমিয়ে এনে পরিবেশের সার্বিক অবস্থার উন্নতি ঘটানো যায়। জাতীয় পরিবেশ নীতির সফল বাস্তবায়ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার হার বৃদ্ধি, পরিকল্পিত নগরায়ণ, ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের যথাযথ ব্যবহার, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হ্রাস, উপকূলীয় বনভূমির সম্প্রসারণ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের সমন্বয় সাধন ইত্যাদির মাধ্যমে আমরা ভগ্ন পরিবেশ থেকে সুস্থ ও সুন্দর একটি পরিবেশ ফিরে পেতে পারি।

সঞ্জয় চৌধুরী : প্রাবন্ধিক

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.