সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, অনেক প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া গেছে
jugantor
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, অনেক প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া গেছে

  সম্পাদকীয়  

২৪ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন কিছু কথা বলেছেন, যা গুরুত্বের দাবি রাখে।

পদ্মা সেতু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, সাহস নিয়ে নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করার ফলে বাংলাদেশের সম্মান ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষের একটা ধারণা ছিল, অন্যের অর্থায়ন ছাড়া আমরা কিছু করতে পারব না। এটা হলো পরনির্ভরশীলতা, পরমুখাপেক্ষিতা। এই মানসিকতা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পেরেছি। নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসাবে।

প্রধানমন্ত্রীর এসব কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ নেই। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংক যখন সরে গেল, তখন আমরা ভেবেছিলাম, সেতুটি বুঝি আর হলো না। প্রধানমন্ত্রী যখন ঘোষণা দিলেন, নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু হবে, তখনো অনেকের মনে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিল যে, এটা হয়তো সম্ভব হবে না। অনেক অর্থনীতিবিদও হতাশাজনক বক্তব্য রেখেছিলেন তখন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, ঠিকই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে।

এটা নিঃসন্দেহে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা, সাহস ও দূরদর্শিতার ফলেই সম্ভব হয়েছে। এ পর্যায়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে আরেকবার ধন্যবাদ জানাতে চাই। তারই কল্যাণে পদ্মা সেতু এখন আমাদের সক্ষমতার প্রতীক হিসাবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, জনগণের ভোট কেড়ে নিয়ে তিনি ক্ষমতায় থাকতে চান না। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করছেন যারা, এই বক্তব্য তাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক বৈকি। বিএনপিসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে রয়েছে মাঠে। তাদের কথা, বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন করলে সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বলছেন, তিনি জনগণের ভোট কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চান না, সেহেতু আমরা ধরে নিতে পারি, আগামী নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে না। আমরা আশা করতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর এ কথার ওপর বিরোধী দল আস্থা রাখবে। আমরা এটাও আশা করতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর এ প্রতিশ্রুতি শুধু কথার কথা হয়ে থাকবে না, বাস্তবেও এর প্রতিফলন দেখা যাবে।

দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকি রয়েছে, কিন্তু তা মোকাবিলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের। ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, বন্যার পর কৃষক সমাজ যাতে তাদের কৃষিকাজ যথাযথভাবে চালিয়ে যেতে পারে, সে ব্যাপারেও সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যা-পরবর্তী সময়ে কৃষকের জন্য বীজ, সার ইত্যাদি সরবরাহ করা হবে। আগামীতে বন্যা পরিস্থিতি যাতে সফলভাবে মোকাবিলা করা যায়, সেজন্য আরও আশ্রয়কেন্দ্র ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করার কথাও বলেন তিনি।

আমরা একটা বিষয় লক্ষ করছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি নজর রাখছেন এবং প্রয়োজনমতো দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। এটা তার এক বড় কৃতিত্ব বলে মনে করি আমরা। বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি যেসব কথা বলেছেন, সেগুলোও তার রাষ্ট্রনায়কোচিত মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, অনেক প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া গেছে

 সম্পাদকীয় 
২৪ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন কিছু কথা বলেছেন, যা গুরুত্বের দাবি রাখে।

পদ্মা সেতু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, সাহস নিয়ে নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করার ফলে বাংলাদেশের সম্মান ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষের একটা ধারণা ছিল, অন্যের অর্থায়ন ছাড়া আমরা কিছু করতে পারব না। এটা হলো পরনির্ভরশীলতা, পরমুখাপেক্ষিতা। এই মানসিকতা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পেরেছি। নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসাবে।

প্রধানমন্ত্রীর এসব কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ নেই। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংক যখন সরে গেল, তখন আমরা ভেবেছিলাম, সেতুটি বুঝি আর হলো না। প্রধানমন্ত্রী যখন ঘোষণা দিলেন, নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু হবে, তখনো অনেকের মনে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিল যে, এটা হয়তো সম্ভব হবে না। অনেক অর্থনীতিবিদও হতাশাজনক বক্তব্য রেখেছিলেন তখন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, ঠিকই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে।

এটা নিঃসন্দেহে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা, সাহস ও দূরদর্শিতার ফলেই সম্ভব হয়েছে। এ পর্যায়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে আরেকবার ধন্যবাদ জানাতে চাই। তারই কল্যাণে পদ্মা সেতু এখন আমাদের সক্ষমতার প্রতীক হিসাবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, জনগণের ভোট কেড়ে নিয়ে তিনি ক্ষমতায় থাকতে চান না। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করছেন যারা, এই বক্তব্য তাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক বৈকি। বিএনপিসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে রয়েছে মাঠে। তাদের কথা, বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন করলে সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বলছেন, তিনি জনগণের ভোট কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চান না, সেহেতু আমরা ধরে নিতে পারি, আগামী নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে না। আমরা আশা করতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর এ কথার ওপর বিরোধী দল আস্থা রাখবে। আমরা এটাও আশা করতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর এ প্রতিশ্রুতি শুধু কথার কথা হয়ে থাকবে না, বাস্তবেও এর প্রতিফলন দেখা যাবে।

দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকি রয়েছে, কিন্তু তা মোকাবিলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের। ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, বন্যার পর কৃষক সমাজ যাতে তাদের কৃষিকাজ যথাযথভাবে চালিয়ে যেতে পারে, সে ব্যাপারেও সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যা-পরবর্তী সময়ে কৃষকের জন্য বীজ, সার ইত্যাদি সরবরাহ করা হবে। আগামীতে বন্যা পরিস্থিতি যাতে সফলভাবে মোকাবিলা করা যায়, সেজন্য আরও আশ্রয়কেন্দ্র ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করার কথাও বলেন তিনি।

আমরা একটা বিষয় লক্ষ করছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি নজর রাখছেন এবং প্রয়োজনমতো দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। এটা তার এক বড় কৃতিত্ব বলে মনে করি আমরা। বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি যেসব কথা বলেছেন, সেগুলোও তার রাষ্ট্রনায়কোচিত মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন