এক ঐতিহাসিক দিন
jugantor
এক ঐতিহাসিক দিন
পদ্মা সেতুর আড়ম্বর উদ্বোধন দেখবে জাতি

  সম্পাদকীয়  

২৫ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। উদ্বোধন হতে যাচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল নয়, সারা দেশের মানুষ আজ উৎসবমুখর। এ যেন শুধু একটি সেতু নয়, সমগ্র জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক। এমন এক মহাযজ্ঞ নিজস্ব অর্থায়নে সম্পন্ন হবে, কেউ ভাবেনি আগে।

বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির ধুয়া তুলে এ প্রকল্পের অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ঘোষণা দিলেন নিজস্ব অর্থায়নেই হবে পদ্মা সেতু, তখন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ তথাকথিত হিসাব-নিকাশ করে দেখিয়েছিলেন এটা সম্ভব নয়। তাদের সেসব ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নেই নির্মিত পদ্মা সেতু এখন এক নিরেট বাস্তবতা।

আজ চারদিকে শুধু উৎসবের আমেজ। সড়ক-মহাসড়ক, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, অলিগলি ছেয়ে গেছে পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড আর তোরণে। বিভিন্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে আলোকসজ্জা। মাওয়া প্রান্তে সেতু উদ্বোধনের পর সেতু পেরিয়ে দক্ষিণ প্রান্তে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতুর আদলে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল নান্দনিক মঞ্চ। শুধু মঞ্চ নয়, পুরো এলাকাই সেজেছে রঙিন আলোয়। উদ্বোধনের পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরতে পরতে লাগবে উন্নয়নের ছোঁয়া। বদলে যেতে থাকবে মানুষের জীবন।

পদ্মা সেতু নির্মাণ ছিল আমাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারায় এখন আরও অনেক চ্যালেঞ্জ উতরানো সহজ হয়ে যাবে। এভাবে বলা যায়-এক বড় স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে, এখন ডানা মেলতে শুরু করেছে আরও অনেক স্বপ্ন। এক সমীক্ষায় পাওয়া গেছে, পদ্মা সেতু চালু হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের যে প্রসার ঘটবে, তাতে দেশের জিডিপি ১ দশমিক ২ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাবে। অর্থনীতির আকার বাড়বে, দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোয় বিনিয়োগ হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে, কমবে দারিদ্র্য। দক্ষিণাঞ্চল থেকে কম সময়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পৌঁছে যাবে পণ্য। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে, গড়ে উঠবে বিভিন্ন রিসোর্ট, হোটেল, মোটেল ও বিনোদন পার্ক। এক কথায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ এক নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ হবেন দেশের অপরাপর অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে।

পদ্মা সেতু বর্তমান সরকারের এক অনন্য কৃতিত্ব। সেতুটি জাতি হিসাবে আমাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে আমাদের মর্যাদা। সবচেয়ে বড় কথা, এই সেতু বাঙালি জাতির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। এই আত্মবিশ্বাস আরও অনেক বড় কাজে আমাদের প্রেরণা জোগাবে, সন্দেহ নেই। বস্তুত মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিণতি এবং পদ্মা সেতু নির্মাণ-আমাদের ইচ্ছাশক্তি ও কর্মনিষ্ঠারই বহিঃপ্রকাশ। তবে পরিতাপের বিষয়, পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে যে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। একটি বড় রাজনৈতিক দল পদ্মা সেতু উদ্বোধনের উৎসবে যোগ দিচ্ছে না। আমরা মনে করি, রাজনীতিতে যত ভেদাভেদই থাকুক না কেন, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য থাকা জরুরি। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে বড় দেশ-সবার মধ্যে এই মানসিকতা জাগ্রত হলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব আরও অনেক দূর।

এক ঐতিহাসিক দিন

পদ্মা সেতুর আড়ম্বর উদ্বোধন দেখবে জাতি
 সম্পাদকীয় 
২৫ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। উদ্বোধন হতে যাচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল নয়, সারা দেশের মানুষ আজ উৎসবমুখর। এ যেন শুধু একটি সেতু নয়, সমগ্র জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক। এমন এক মহাযজ্ঞ নিজস্ব অর্থায়নে সম্পন্ন হবে, কেউ ভাবেনি আগে।

বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির ধুয়া তুলে এ প্রকল্পের অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ঘোষণা দিলেন নিজস্ব অর্থায়নেই হবে পদ্মা সেতু, তখন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ তথাকথিত হিসাব-নিকাশ করে দেখিয়েছিলেন এটা সম্ভব নয়। তাদের সেসব ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নেই নির্মিত পদ্মা সেতু এখন এক নিরেট বাস্তবতা।

আজ চারদিকে শুধু উৎসবের আমেজ। সড়ক-মহাসড়ক, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, অলিগলি ছেয়ে গেছে পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড আর তোরণে। বিভিন্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে আলোকসজ্জা। মাওয়া প্রান্তে সেতু উদ্বোধনের পর সেতু পেরিয়ে দক্ষিণ প্রান্তে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতুর আদলে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল নান্দনিক মঞ্চ। শুধু মঞ্চ নয়, পুরো এলাকাই সেজেছে রঙিন আলোয়। উদ্বোধনের পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরতে পরতে লাগবে উন্নয়নের ছোঁয়া। বদলে যেতে থাকবে মানুষের জীবন।

পদ্মা সেতু নির্মাণ ছিল আমাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারায় এখন আরও অনেক চ্যালেঞ্জ উতরানো সহজ হয়ে যাবে। এভাবে বলা যায়-এক বড় স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে, এখন ডানা মেলতে শুরু করেছে আরও অনেক স্বপ্ন। এক সমীক্ষায় পাওয়া গেছে, পদ্মা সেতু চালু হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের যে প্রসার ঘটবে, তাতে দেশের জিডিপি ১ দশমিক ২ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাবে। অর্থনীতির আকার বাড়বে, দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোয় বিনিয়োগ হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে, কমবে দারিদ্র্য। দক্ষিণাঞ্চল থেকে কম সময়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পৌঁছে যাবে পণ্য। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে, গড়ে উঠবে বিভিন্ন রিসোর্ট, হোটেল, মোটেল ও বিনোদন পার্ক। এক কথায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ এক নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ হবেন দেশের অপরাপর অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে।

পদ্মা সেতু বর্তমান সরকারের এক অনন্য কৃতিত্ব। সেতুটি জাতি হিসাবে আমাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে আমাদের মর্যাদা। সবচেয়ে বড় কথা, এই সেতু বাঙালি জাতির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। এই আত্মবিশ্বাস আরও অনেক বড় কাজে আমাদের প্রেরণা জোগাবে, সন্দেহ নেই। বস্তুত মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিণতি এবং পদ্মা সেতু নির্মাণ-আমাদের ইচ্ছাশক্তি ও কর্মনিষ্ঠারই বহিঃপ্রকাশ। তবে পরিতাপের বিষয়, পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে যে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। একটি বড় রাজনৈতিক দল পদ্মা সেতু উদ্বোধনের উৎসবে যোগ দিচ্ছে না। আমরা মনে করি, রাজনীতিতে যত ভেদাভেদই থাকুক না কেন, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য থাকা জরুরি। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে বড় দেশ-সবার মধ্যে এই মানসিকতা জাগ্রত হলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব আরও অনেক দূর।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : পদ্মা সেতু নির্মাণ