বাসযোগ্যতার সূচকে ঢাকা
jugantor
বাসযোগ্যতার সূচকে ঢাকা
একুশ শতকের উপযোগী রাজধানী চাই

  সম্পাদকীয়  

২৫ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) জরিপে বাসযোগ্যতার বিচারে বিশ্বের ১৭২ শহরের মধ্যে ১৬৬তম অবস্থানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার নাম থাকা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।

মহামারি করোনার ধাক্কা সামলে উন্নত দেশগুলোর অনেক শহর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার পাশাপাশি বাসযোগ্যতার তালিকায় হারানো অবস্থান ফিরে পেলেও দুঃখজনক হলো, গত এক বছরে ঢাকার উন্নতি হয়েছে সামান্যই।

যেমন-গত বছর ১৪০টি শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ১৩৭তম; অর্থাৎ তালিকার নিচের দিক থেকে চার নম্বরে, যা এবার সাত নম্বরে উঠে এসেছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের কোন্ শহর কতটা বাসযোগ্য তা বোঝার জন্য স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো-এ পাঁচ মানদণ্ডে বিচার করে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

খ্রিষ্টীয় ৭ম শতক থেকে ঢাকায় মানুষ বসবাস শুরু করে। এরপর ১৬০৮ সালে ঢাকায় প্রথম মোগলদের পা পড়ে এবং ১৬১০ সালে ঢাকার নামকরণ করা হয় জাহাঙ্গীরনগর। মোগল-পরবর্তী যুগে ঢাকা প্রায় ১৯০ বছর ব্রিটিশ শাসনাধীন থাকে। পরবর্তী সময়ে ১৯৪৭ সালে ঢাকা পূর্ববঙ্গের রাজধানী হিসাবে পাকিস্তানের অন্তর্গত হয়। ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ ঢাকাকে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী হিসাবে মর্যাদা দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী ঢাকাকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করা হয়। আধুনিক ঢাকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান কেন্দ্র হলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এ নগরীতে বিভিন্ন পরিষেবার অভাব প্রকট।

একটি বড় শহরের জনঘনত্বের জন্য মানদণ্ড ধরা হয় প্রতি একরে ৭০ থেকে ৮০ জন, যা কেন্দ্রীয় শহর এলাকায় সর্বোচ্চ ১২০ পর্যন্ত হতে পারে। ঢাকার লালবাগ, চকবাজারের জনঘনত্ব প্রতি একরে ৬০০ থেকে ৭০০ জন, যা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ হলেও সেখানে অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত।

বস্তুত ঢাকার সমস্যা বহুমাত্রিক। তবে এটি কোনো দৈব-দুর্বিপাক সৃষ্ট ফল নয়; বরং মানুষের হাতেই এসব সমস্যার উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। অপ্রিয় হলেও সত্য, অপরিকল্পিত অবকাঠামো ছাড়াও অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ, অপরাধপ্রবণতা, জলাবদ্ধতা, শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম-নৈরাজ্যসহ দখল-দূষণ ও যানজটে প্রায় সারা বছরই বিপর্যস্ত থাকে ঢাকার জনজীবন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে, যা থেকে মুক্তির উপায় খোঁজা জরুরি। প্রাচীন ঐতিহ্য ও গৌরবের সঙ্গে আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে একুশ শতকের রাজধানী হিসাবে ঢাকা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, এটাই প্রত্যাশা।

বাসযোগ্যতার সূচকে ঢাকা

একুশ শতকের উপযোগী রাজধানী চাই
 সম্পাদকীয় 
২৫ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) জরিপে বাসযোগ্যতার বিচারে বিশ্বের ১৭২ শহরের মধ্যে ১৬৬তম অবস্থানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার নাম থাকা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।

মহামারি করোনার ধাক্কা সামলে উন্নত দেশগুলোর অনেক শহর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার পাশাপাশি বাসযোগ্যতার তালিকায় হারানো অবস্থান ফিরে পেলেও দুঃখজনক হলো, গত এক বছরে ঢাকার উন্নতি হয়েছে সামান্যই।

যেমন-গত বছর ১৪০টি শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ১৩৭তম; অর্থাৎ তালিকার নিচের দিক থেকে চার নম্বরে, যা এবার সাত নম্বরে উঠে এসেছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের কোন্ শহর কতটা বাসযোগ্য তা বোঝার জন্য স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো-এ পাঁচ মানদণ্ডে বিচার করে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

খ্রিষ্টীয় ৭ম শতক থেকে ঢাকায় মানুষ বসবাস শুরু করে। এরপর ১৬০৮ সালে ঢাকায় প্রথম মোগলদের পা পড়ে এবং ১৬১০ সালে ঢাকার নামকরণ করা হয় জাহাঙ্গীরনগর। মোগল-পরবর্তী যুগে ঢাকা প্রায় ১৯০ বছর ব্রিটিশ শাসনাধীন থাকে। পরবর্তী সময়ে ১৯৪৭ সালে ঢাকা পূর্ববঙ্গের রাজধানী হিসাবে পাকিস্তানের অন্তর্গত হয়। ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ ঢাকাকে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী হিসাবে মর্যাদা দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী ঢাকাকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করা হয়। আধুনিক ঢাকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান কেন্দ্র হলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এ নগরীতে বিভিন্ন পরিষেবার অভাব প্রকট।

একটি বড় শহরের জনঘনত্বের জন্য মানদণ্ড ধরা হয় প্রতি একরে ৭০ থেকে ৮০ জন, যা কেন্দ্রীয় শহর এলাকায় সর্বোচ্চ ১২০ পর্যন্ত হতে পারে। ঢাকার লালবাগ, চকবাজারের জনঘনত্ব প্রতি একরে ৬০০ থেকে ৭০০ জন, যা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ হলেও সেখানে অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত।

বস্তুত ঢাকার সমস্যা বহুমাত্রিক। তবে এটি কোনো দৈব-দুর্বিপাক সৃষ্ট ফল নয়; বরং মানুষের হাতেই এসব সমস্যার উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। অপ্রিয় হলেও সত্য, অপরিকল্পিত অবকাঠামো ছাড়াও অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ, অপরাধপ্রবণতা, জলাবদ্ধতা, শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম-নৈরাজ্যসহ দখল-দূষণ ও যানজটে প্রায় সারা বছরই বিপর্যস্ত থাকে ঢাকার জনজীবন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে, যা থেকে মুক্তির উপায় খোঁজা জরুরি। প্রাচীন ঐতিহ্য ও গৌরবের সঙ্গে আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে একুশ শতকের রাজধানী হিসাবে ঢাকা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন