খুলেছে দখিনের দুয়ার
jugantor
খুলেছে দখিনের দুয়ার
এবার সুফল দেখার পালা

  সম্পাদকীয়  

২৬ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে খুলে গেল দখিনের দুয়ার, অবসান হলো দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার। শনিবার বেলা ১২টায় পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রমত্তা পদ্মার দুই পারে চলেছে মহাকর্মযজ্ঞ। বস্তুত সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে গত কয়েকদিন ধরেই পদ্মাপার এলাকা সেজেছে বর্ণিল রূপে। নানা রঙের ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পদ্মাপার। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে পদ্মার বুকে লাল-সবুজের ৮০টি নৌকা ছিল প্রস্তুত। উদ্বোধনের আগে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে মাওয়া প্রান্তে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। আবেগাপ্লুত গলায় তিনি বলেন-অনেক বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে, ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আমরা এই পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। এই সেতু শুধু একটি সেতু নয়, অথবা এই সেতু যে কেবল দুপারের বন্ধন সৃষ্টি করেছে তা নয়, কিংবা এই সেতু শুধু ইট-সিমেন্ট-স্টিল-কংক্রিটের অবকাঠামো নয়; এই সেতু আমাদের অহংকার, আমাদের গর্ব, এই সেতু আমাদের সক্ষমতার প্রতীক, মর্যাদার স্বাক্ষর। প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু নির্মাণসংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যারা সেতুটির জন্য জমি দান করেছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পদ্মা সেতু নির্মাণে সাহস জোগানো বাংলাদেশের জনগণকেও স্যালুট জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, মানুষের শক্তিই বড় শক্তি, সেই শক্তিতে বলীয়ান হয়েই পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পেরেছি আমরা। তিনি বলেছেন, আমরা মাথা নোয়াইনি, আমরা মাথা নোয়াবো না। জাতির পিতা আমাদের মাথা নোয়াতে শেখাননি।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট সাড়ে ৩ হাজার নাগরিককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ভোর থেকে শুরু হয় অতিথিদের আগমন। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মশিউর রহমান রাঙা, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ আরও অনেকে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, জমকালো আয়োজনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সাত নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা আসবেন না বলে আগেই জানিয়েছেন। আমরা বিএনপির নেতাদের এই অবস্থান মেনে নিতে পারছি না। পদ্মা সেতু নির্মাণ দেশ ও জাতির জন্য এক বড় অগ্রগতি। এই সাফল্যে অংশীদার হওয়া উচিত ছিল তাদেরও। তুচ্ছ রাজনৈতিক স্বার্থে জাতির এই মহাখুশির দিনে তাদের নিশ্চুপ বসে থাকা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে জাতির মহাসম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ এখন থেকে যুক্ত হলো যোগাযোগের বিশাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে। এই যোগাযোগের ফলে তাদের অর্থনৈতিক তৎপরতা বাড়বে, জীবনে আসবে নতুন গতি। বস্তুত যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু এবং পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত পদ্মা সেতু আমাদের দুই বড় কীর্তি, যা মানুষের জীবনকে করেছে গতিশীল, কর্মচঞ্চল। পদ্মা সেতু নির্মিত হওয়ায় দেশের জিডিপি বাড়বে, বড় হবে অর্থনীতির আকার। ফলে মানুষের জীবনে আসবে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য। সবচেয়ে বড় কথা, এই সেতু নির্মাণের পর এই জাতির আত্মবিশ্বাস যেভাবে বেড়েছে, তাতে ভবিষ্যতে প্রগতির পথ হবে আরও মসৃণ। আমরা সবশেষে পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর সফল ও দৃঢ়চেতা নেতৃত্বের জন্য তাকে আরেক দফা ধন্যবাদ দিতে চাই।

খুলেছে দখিনের দুয়ার

এবার সুফল দেখার পালা
 সম্পাদকীয় 
২৬ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে খুলে গেল দখিনের দুয়ার, অবসান হলো দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার। শনিবার বেলা ১২টায় পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রমত্তা পদ্মার দুই পারে চলেছে মহাকর্মযজ্ঞ। বস্তুত সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে গত কয়েকদিন ধরেই পদ্মাপার এলাকা সেজেছে বর্ণিল রূপে। নানা রঙের ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পদ্মাপার। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে পদ্মার বুকে লাল-সবুজের ৮০টি নৌকা ছিল প্রস্তুত। উদ্বোধনের আগে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে মাওয়া প্রান্তে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। আবেগাপ্লুত গলায় তিনি বলেন-অনেক বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে, ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আমরা এই পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। এই সেতু শুধু একটি সেতু নয়, অথবা এই সেতু যে কেবল দুপারের বন্ধন সৃষ্টি করেছে তা নয়, কিংবা এই সেতু শুধু ইট-সিমেন্ট-স্টিল-কংক্রিটের অবকাঠামো নয়; এই সেতু আমাদের অহংকার, আমাদের গর্ব, এই সেতু আমাদের সক্ষমতার প্রতীক, মর্যাদার স্বাক্ষর। প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু নির্মাণসংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যারা সেতুটির জন্য জমি দান করেছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পদ্মা সেতু নির্মাণে সাহস জোগানো বাংলাদেশের জনগণকেও স্যালুট জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, মানুষের শক্তিই বড় শক্তি, সেই শক্তিতে বলীয়ান হয়েই পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পেরেছি আমরা। তিনি বলেছেন, আমরা মাথা নোয়াইনি, আমরা মাথা নোয়াবো না। জাতির পিতা আমাদের মাথা নোয়াতে শেখাননি।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট সাড়ে ৩ হাজার নাগরিককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ভোর থেকে শুরু হয় অতিথিদের আগমন। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মশিউর রহমান রাঙা, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ আরও অনেকে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, জমকালো আয়োজনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সাত নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা আসবেন না বলে আগেই জানিয়েছেন। আমরা বিএনপির নেতাদের এই অবস্থান মেনে নিতে পারছি না। পদ্মা সেতু নির্মাণ দেশ ও জাতির জন্য এক বড় অগ্রগতি। এই সাফল্যে অংশীদার হওয়া উচিত ছিল তাদেরও। তুচ্ছ রাজনৈতিক স্বার্থে জাতির এই মহাখুশির দিনে তাদের নিশ্চুপ বসে থাকা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে জাতির মহাসম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ এখন থেকে যুক্ত হলো যোগাযোগের বিশাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে। এই যোগাযোগের ফলে তাদের অর্থনৈতিক তৎপরতা বাড়বে, জীবনে আসবে নতুন গতি। বস্তুত যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু এবং পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত পদ্মা সেতু আমাদের দুই বড় কীর্তি, যা মানুষের জীবনকে করেছে গতিশীল, কর্মচঞ্চল। পদ্মা সেতু নির্মিত হওয়ায় দেশের জিডিপি বাড়বে, বড় হবে অর্থনীতির আকার। ফলে মানুষের জীবনে আসবে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য। সবচেয়ে বড় কথা, এই সেতু নির্মাণের পর এই জাতির আত্মবিশ্বাস যেভাবে বেড়েছে, তাতে ভবিষ্যতে প্রগতির পথ হবে আরও মসৃণ। আমরা সবশেষে পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর সফল ও দৃঢ়চেতা নেতৃত্বের জন্য তাকে আরেক দফা ধন্যবাদ দিতে চাই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন