পাহাড় রক্ষা
jugantor
পাহাড় রক্ষা
অবৈধ দখলদারদের আইনের আওতায় আনুন

  সম্পাদকীয়  

২৬ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত মঙ্গলবার পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ২৪তম সভায় চট্টগ্রামের পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ বাসিন্দাদের সরাতে বেশকিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন গ্রহণ করা হলো না, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দেখা যাচ্ছে, প্রতি বর্ষা মৌসুমে ঘটা করে পাহাড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়; বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ। তবে কিছুদিন যেতে না যেতেই পুনরায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করে দেয় চিহ্নিত পাহাড়খেকো দখলদাররা। আশ্চর্যজনক হলো, এদের মধ্যে জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, পাহাড় কাটা বন্ধ এবং অবৈধ দখল রোধে যাদের কাজ করার কথা, সেই পরিবেশ অধিদপ্তর ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই পাহাড় কাটা ও দখলবাজির সঙ্গে জড়িত, যা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

২০১৯ সালে দেওয়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম নগরীর ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের সংখ্যা অন্তত ১৭। এসব পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে ৮৩৫টি পরিবার। একই সময়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ৬ কিলোমিটার বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড নির্মাণের সময় নতুন করে ১৬টি পাহাড় কাটা হলে সেখানকার ৮টি পাহাড়েও স্থানীয় দখলদারদের ছত্রছায়ায় অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। যদিও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যেসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে, সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে তা রক্ষা করা ও গাছ লাগিয়ে দেওয়া; ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের অবৈধ বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

করাসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে; তবে তা কতটা বাস্তবায়ন হবে, এটাই হলো প্রশ্ন।

দুঃখজনক হলো, বিগত ১৫ বছর ধরে পাহাড় কাটা বন্ধের সুপারিশমালা আলোর মুখ দেখেনি মূলত রক্ষক ভক্ষকে পরিণত হওয়ার কারণে। বস্তুত ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে কিছু দুর্বৃত্ত শুধু পাহাড় নয়, সারা দেশেই দখল বাণিজ্যসহ নানা ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। সরকারের উচিত এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। পাহাড়ের গায়ে জন্মানো বন-জঙ্গল ও গাছপালা এর অভ্যন্তরীণ বন্ধন মজবুত রাখে। অথচ বসতিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে অব্যাহতভাবে পাহাড় কাটায় পাহাড় ধসের পথ সুগম হচ্ছে; পরিণতিতে প্রায় প্রতিবছরই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। এমন মৃত্যু এড়ানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষাসহ নগরীজুড়ে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে পাহাড় কাটা ও দখল বন্ধের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করি আমরা।

পাহাড় রক্ষা

অবৈধ দখলদারদের আইনের আওতায় আনুন
 সম্পাদকীয় 
২৬ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত মঙ্গলবার পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ২৪তম সভায় চট্টগ্রামের পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ বাসিন্দাদের সরাতে বেশকিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন গ্রহণ করা হলো না, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দেখা যাচ্ছে, প্রতি বর্ষা মৌসুমে ঘটা করে পাহাড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়; বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ। তবে কিছুদিন যেতে না যেতেই পুনরায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করে দেয় চিহ্নিত পাহাড়খেকো দখলদাররা। আশ্চর্যজনক হলো, এদের মধ্যে জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, পাহাড় কাটা বন্ধ এবং অবৈধ দখল রোধে যাদের কাজ করার কথা, সেই পরিবেশ অধিদপ্তর ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই পাহাড় কাটা ও দখলবাজির সঙ্গে জড়িত, যা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

২০১৯ সালে দেওয়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম নগরীর ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের সংখ্যা অন্তত ১৭। এসব পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে ৮৩৫টি পরিবার। একই সময়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ৬ কিলোমিটার বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড নির্মাণের সময় নতুন করে ১৬টি পাহাড় কাটা হলে সেখানকার ৮টি পাহাড়েও স্থানীয় দখলদারদের ছত্রছায়ায় অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। যদিও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যেসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে, সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে তা রক্ষা করা ও গাছ লাগিয়ে দেওয়া; ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের অবৈধ বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

করাসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে; তবে তা কতটা বাস্তবায়ন হবে, এটাই হলো প্রশ্ন।

দুঃখজনক হলো, বিগত ১৫ বছর ধরে পাহাড় কাটা বন্ধের সুপারিশমালা আলোর মুখ দেখেনি মূলত রক্ষক ভক্ষকে পরিণত হওয়ার কারণে। বস্তুত ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে কিছু দুর্বৃত্ত শুধু পাহাড় নয়, সারা দেশেই দখল বাণিজ্যসহ নানা ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। সরকারের উচিত এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। পাহাড়ের গায়ে জন্মানো বন-জঙ্গল ও গাছপালা এর অভ্যন্তরীণ বন্ধন মজবুত রাখে। অথচ বসতিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে অব্যাহতভাবে পাহাড় কাটায় পাহাড় ধসের পথ সুগম হচ্ছে; পরিণতিতে প্রায় প্রতিবছরই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। এমন মৃত্যু এড়ানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষাসহ নগরীজুড়ে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে পাহাড় কাটা ও দখল বন্ধের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করি আমরা।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন