প্রকল্প প্রস্তাবে ত্রুটি: এটা কি নিয়মিত ঘটনা হয়ে পড়ল?
jugantor
প্রকল্প প্রস্তাবে ত্রুটি: এটা কি নিয়মিত ঘটনা হয়ে পড়ল?

  সম্পাদকীয়  

০২ জুলাই ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রকল্প প্রস্তাবে ত্রুটি নতুন কোনো বিষয় নয়। এবার সেই ত্রুটি পাওয়া গেছে ‘ডাবল লিফটিং পদ্ধতিতে পদ্মা নদীর পানি উঁচু বরেন্দ্র এলাকায় সরবরাহ ও সেচ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পে। এ প্রকল্পের অধীনে পদ্মা নদী থেকে পানি এনে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বরেন্দ্র অঞ্চলে। এর মাধ্যমে ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে দেওয়া হবে সেচ সুবিধা।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটির আওতায় পদ্মা নদী থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে ৩৫ মিটার উঁচু বরেন্দ্র এলাকায় সরবরাহের জন্য পদ্মার পানি খালে স্থানান্তর করা হবে। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় মজা খাল পুনর্খননের মাধ্যমে খালের পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। সেই সঙ্গে ভূ-উপরিস্থিত পানি ব্যবহারের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির রিচার্জ বাড়ানো হবে।

অনুমোদন পেলে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে রাজশাহী জেলার তানোর, গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলায়।

আলোচ্য প্রকল্পটি নিঃসন্দেহে দেশের কৃষি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাবে। কিন্তু প্রকল্প প্রস্তাবের শুরুতেই যদি ত্রুটি ধরা পড়ে, তাহলে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কতটা সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্প প্রস্তাবে ৮ ধরনের ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে। এর মধ্যে বিদেশ সফরের জন্য ৯৬ লাখ টাকার প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছে কমিশন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিদেশ সফরের প্রস্তাবটি বাতিল করা একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বটে। কিন্তু প্রকল্প প্রস্তাবের অন্যান্য ত্রুটির বিষয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার সদুত্তর কী?

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেছেন, প্রকল্পের গোড়াতেই যদি ভুল থাকে, তাহলে বাস্তবায়ন পর্যায়ে তার মাশুল দিতে হয়। এ ছাড়া পরবর্তীকালে মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

আলোচ্য প্রকল্পটির ত্রুটিগুলো সংশোধনের জন্য প্রকল্পের ডিপিপি কৃষি মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কালভার্ট নির্মাণের যৌক্তিকতাসহ প্রকল্পের ডিজাইন ও বিস্তারিত ব্যয় প্রাক্কলন ডিপিপিতে সংযোজন করা হয়নি।

পরিকল্পনা কমিশন মনে করছে, প্রকল্পের প্রতিটি আইটেমের পরিমাণ ও ব্যয় পর্যালোচনা করে পুরো বিষয়টি যুক্তিযুক্ত করতে হবে। আমরা আশা করব, কৃষি মন্ত্রণালয় ফেরত পাঠানো প্রকল্প প্রস্তাবটি যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এর ত্রুটিগুলো সারিয়ে তা দ্রুতই পরিকল্পনা কমিশনে পেশ করবে।

প্রকল্প প্রস্তাবে ত্রুটি: এটা কি নিয়মিত ঘটনা হয়ে পড়ল?

 সম্পাদকীয় 
০২ জুলাই ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রকল্প প্রস্তাবে ত্রুটি নতুন কোনো বিষয় নয়। এবার সেই ত্রুটি পাওয়া গেছে ‘ডাবল লিফটিং পদ্ধতিতে পদ্মা নদীর পানি উঁচু বরেন্দ্র এলাকায় সরবরাহ ও সেচ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পে। এ প্রকল্পের অধীনে পদ্মা নদী থেকে পানি এনে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বরেন্দ্র অঞ্চলে। এর মাধ্যমে ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে দেওয়া হবে সেচ সুবিধা।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটির আওতায় পদ্মা নদী থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে ৩৫ মিটার উঁচু বরেন্দ্র এলাকায় সরবরাহের জন্য পদ্মার পানি খালে স্থানান্তর করা হবে। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় মজা খাল পুনর্খননের মাধ্যমে খালের পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। সেই সঙ্গে ভূ-উপরিস্থিত পানি ব্যবহারের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির রিচার্জ বাড়ানো হবে।

অনুমোদন পেলে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে রাজশাহী জেলার তানোর, গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলায়।

আলোচ্য প্রকল্পটি নিঃসন্দেহে দেশের কৃষি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাবে। কিন্তু প্রকল্প প্রস্তাবের শুরুতেই যদি ত্রুটি ধরা পড়ে, তাহলে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কতটা সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্প প্রস্তাবে ৮ ধরনের ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে। এর মধ্যে বিদেশ সফরের জন্য ৯৬ লাখ টাকার প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছে কমিশন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিদেশ সফরের প্রস্তাবটি বাতিল করা একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বটে। কিন্তু প্রকল্প প্রস্তাবের অন্যান্য ত্রুটির বিষয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার সদুত্তর কী?

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেছেন, প্রকল্পের গোড়াতেই যদি ভুল থাকে, তাহলে বাস্তবায়ন পর্যায়ে তার মাশুল দিতে হয়। এ ছাড়া পরবর্তীকালে মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

আলোচ্য প্রকল্পটির ত্রুটিগুলো সংশোধনের জন্য প্রকল্পের ডিপিপি কৃষি মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কালভার্ট নির্মাণের যৌক্তিকতাসহ প্রকল্পের ডিজাইন ও বিস্তারিত ব্যয় প্রাক্কলন ডিপিপিতে সংযোজন করা হয়নি।

পরিকল্পনা কমিশন মনে করছে, প্রকল্পের প্রতিটি আইটেমের পরিমাণ ও ব্যয় পর্যালোচনা করে পুরো বিষয়টি যুক্তিযুক্ত করতে হবে। আমরা আশা করব, কৃষি মন্ত্রণালয় ফেরত পাঠানো প্রকল্প প্রস্তাবটি যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এর ত্রুটিগুলো সারিয়ে তা দ্রুতই পরিকল্পনা কমিশনে পেশ করবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন