শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা
jugantor
শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা
ঝুঁকিমুক্ত করার পদক্ষেপ নিতে হবে

  সম্পাদকীয়  

০৪ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সমগ্র বিশ্বেই ভিআইপিদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বড় ধরনের হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে বিমানবন্দরসংলগ্ন কয়েকটি স্থাপনা।

এসব স্থাপনা থেকে বিমানবন্দরের প্রতিটি স্পর্শকাতর স্থান দেখা যায়। ফলে বিমানবন্দরে দেশি-বিদেশি ভিআইপিদের চলাচলে মারাত্মক হুমকি হতে পারে এই স্থাপনাগুলো। এসব স্থাপনার ছাদ ব্যবহার করে নাশকতার আশঙ্কাও রয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) স্পর্শকাতর এ এলাকায় এসব স্থাপনা তৈরির অনুমতি কীভাবে দিল, সেটা একটা প্রশ্ন বটে।

এসব স্থাপনায় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম শুরু হলে তা এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। এমন স্পর্শকাতর এলাকায় স্থাপনা তৈরির অনুমোদন দিয়ে বেবিচক চরম অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। এ অবস্থায় কেপিআই (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) কর্তৃপক্ষ, ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), এনএসআই ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর ছাড়পত্র ছাড়া বিমানবন্দরের প্রবেশমুখের একটি ১২ তলা ৫ তারকা হোটেল, একটি ১৩ তলা ৩ তারকা হোটেল, একটি ৬ তলা শপিং কমপ্লেক্স, একটি ১২ তলা কার পার্কিং ও অফিস কমপ্লেক্স এবং একটি ৩ তলা ব্যাংকুয়েট হল যাতে চালু করা না হয়, সেজন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ঘটনায় বেবিচক দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটি শাহজালালের সীমানা প্রাচীর থেকে নির্মিত ভবনগুলোর দূরত্ব নির্ধারণপূর্বক প্রতিবেদন তৈরি করে বেবিচক ও কেপিআইডিসির কাছে পাঠাবে।

কেপিআইর অভ্যন্তরে কোনো ভবন নির্মাণ করতে হলে কেপিআইডিসির অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। কেপিআইডিসির অনুমোদন ছাড়া বেবিচক সিঙ্গাপুরের সংস্থা ইপকো ডেভেলপমেন্টকে ২০০০ সালে ৬০ বছরের জন্য ১৫ দশমিক ৭৪ একর জমি লিজ দেয়। শুরুতে ইপকো ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড ও বেঙ্গল গ্রুপ যৌথভাবে ২০০০ সালেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে হোটেল ও শপিং কমপ্লেক্সের নকশার অনুমোদন নেয়; এরপর বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে কয়েকটি বহুতল স্থাপনা তৈরির কাজ শুরু হয়। ভবনগুলোর কাজ প্রায় অর্ধেক সম্পন্ন হওয়ার পর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়। এরপর প্রকল্পের মালিকানায় যোগ হয় আরও দুটি প্রতিষ্ঠান। ২০১১ সালে পুনরায় ভবনগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালে ভবনগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয়। জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর বেবিচকের জরিপ কর্তৃপক্ষ কেপিআইডিসির কাছ থেকে ভবন নির্মাণের অনুমতি নিয়েছে। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ (চিঠি) নেই কোনো সংস্থার কাছে। এমনকি চুক্তির বিষয়টি কেপিআইডিসির সভাপতি ও জরিপ কমিটির সভাপতিকে জানানো হয়নি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। যেহেতু এটি দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সেহেতু এ বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় ঝুঁকি সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করে এমন প্রতিটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কর্তৃপক্ষকে দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে। এ বিমানবন্দরের নিরাপত্তার প্রশ্নে ঢাকা থেকে সরাসরি কার্গো চলাচল নিষিদ্ধ করেছিল যুক্তরাজ্য, যা অব্যাহত ছিল প্রায় দুবছর। যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও ইইউর ওপর। কাজেই দেশের প্রধান বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা

ঝুঁকিমুক্ত করার পদক্ষেপ নিতে হবে
 সম্পাদকীয় 
০৪ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সমগ্র বিশ্বেই ভিআইপিদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বড় ধরনের হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে বিমানবন্দরসংলগ্ন কয়েকটি স্থাপনা।

এসব স্থাপনা থেকে বিমানবন্দরের প্রতিটি স্পর্শকাতর স্থান দেখা যায়। ফলে বিমানবন্দরে দেশি-বিদেশি ভিআইপিদের চলাচলে মারাত্মক হুমকি হতে পারে এই স্থাপনাগুলো। এসব স্থাপনার ছাদ ব্যবহার করে নাশকতার আশঙ্কাও রয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) স্পর্শকাতর এ এলাকায় এসব স্থাপনা তৈরির অনুমতি কীভাবে দিল, সেটা একটা প্রশ্ন বটে।

এসব স্থাপনায় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম শুরু হলে তা এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। এমন স্পর্শকাতর এলাকায় স্থাপনা তৈরির অনুমোদন দিয়ে বেবিচক চরম অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। এ অবস্থায় কেপিআই (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) কর্তৃপক্ষ, ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), এনএসআই ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর ছাড়পত্র ছাড়া বিমানবন্দরের প্রবেশমুখের একটি ১২ তলা ৫ তারকা হোটেল, একটি ১৩ তলা ৩ তারকা হোটেল, একটি ৬ তলা শপিং কমপ্লেক্স, একটি ১২ তলা কার পার্কিং ও অফিস কমপ্লেক্স এবং একটি ৩ তলা ব্যাংকুয়েট হল যাতে চালু করা না হয়, সেজন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ঘটনায় বেবিচক দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটি শাহজালালের সীমানা প্রাচীর থেকে নির্মিত ভবনগুলোর দূরত্ব নির্ধারণপূর্বক প্রতিবেদন তৈরি করে বেবিচক ও কেপিআইডিসির কাছে পাঠাবে।

কেপিআইর অভ্যন্তরে কোনো ভবন নির্মাণ করতে হলে কেপিআইডিসির অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। কেপিআইডিসির অনুমোদন ছাড়া বেবিচক সিঙ্গাপুরের সংস্থা ইপকো ডেভেলপমেন্টকে ২০০০ সালে ৬০ বছরের জন্য ১৫ দশমিক ৭৪ একর জমি লিজ দেয়। শুরুতে ইপকো ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড ও বেঙ্গল গ্রুপ যৌথভাবে ২০০০ সালেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে হোটেল ও শপিং কমপ্লেক্সের নকশার অনুমোদন নেয়; এরপর বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে কয়েকটি বহুতল স্থাপনা তৈরির কাজ শুরু হয়। ভবনগুলোর কাজ প্রায় অর্ধেক সম্পন্ন হওয়ার পর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়। এরপর প্রকল্পের মালিকানায় যোগ হয় আরও দুটি প্রতিষ্ঠান। ২০১১ সালে পুনরায় ভবনগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালে ভবনগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয়। জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর বেবিচকের জরিপ কর্তৃপক্ষ কেপিআইডিসির কাছ থেকে ভবন নির্মাণের অনুমতি নিয়েছে। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ (চিঠি) নেই কোনো সংস্থার কাছে। এমনকি চুক্তির বিষয়টি কেপিআইডিসির সভাপতি ও জরিপ কমিটির সভাপতিকে জানানো হয়নি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। যেহেতু এটি দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সেহেতু এ বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় ঝুঁকি সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করে এমন প্রতিটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কর্তৃপক্ষকে দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে। এ বিমানবন্দরের নিরাপত্তার প্রশ্নে ঢাকা থেকে সরাসরি কার্গো চলাচল নিষিদ্ধ করেছিল যুক্তরাজ্য, যা অব্যাহত ছিল প্রায় দুবছর। যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও ইইউর ওপর। কাজেই দেশের প্রধান বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন