লাইব্রেরির সংকটকাল
jugantor
লাইব্রেরির সংকটকাল
জ্ঞানের বিশাল জগৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

  সম্পাদকীয়  

০৫ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিগুলোর, বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার লাইব্রেরিগুলোর এখন কী অবস্থা, এর একটা ধারণা পাওয়া যায় গতকাল যুগান্তরের বাংলার মুখ পাতায় প্রকাশিত বিশেষ আয়োজনে। এতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরির ওপর সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

দেখা যাচ্ছে, উপেক্ষা-অবহেলায় এসব লাইব্রেরি টিকে আছে নামমাত্র। কোথাও লাইব্রেরির বইগুলো অগোছালো অবস্থায় বা স্তূপাকারে পড়ে আছে, কোথাও লাইব্রেরি কক্ষকে বানানো হয়েছে স্টোররুম, কোথাও লাইব্রেরি পড়ে আছে তালাবদ্ধ অবস্থায়, কোথাও লাইব্রেরি থাকলেও নেই লাইব্রেরিয়ান, কোথাও লাইব্রেরিয়ান থাকলেও তাকে দিয়ে ক্লাস নেওয়া হয়, সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক-বরিশাল জিলা স্কুলের লাইব্রেরি কক্ষে খাট বিছিয়ে সেখানে করা হয় রাত্রিযাপন।

লাইব্রেরি কক্ষে বিছানা পেতে বসবাসের উদাহরণ এই একটি নয়, একাধিক। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। কারণ লাইব্রেরি হলো জ্ঞানের আধার। একে অবহেলা করে ফেলে রাখা মানে জ্ঞানের বিকাশকে রুদ্ধ করা।

শিক্ষার্থীরা নাকি এখন লাইব্রেরি চেনেই না। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট এসব প্রযুক্তির সহজলভ্যতা তরুণদের লাইব্রেরিবিমুখ করে ফেলেছে। করোনাকালে অনলাইন ক্লাসের অভিজ্ঞতা এ বিমুখতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সন্দেহ নেই।

তবে শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, শিক্ষকদের মাঝেও লাইব্রেরির প্রতি খুব একটা আগ্রহ লক্ষ করা যায় না। সিলেবাসের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের বাইরেও যে জ্ঞানের বিশাল জগৎ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের তার সন্ধান দিতে আমাদের শিক্ষকরা উৎসাহী নন। বস্তুত পাঠ্যবইয়ের পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে পড়ার বিষয়টিকে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিরানন্দ ও বিরক্তিকর কাজে পরিণত করেছে।

ফলে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণ্ডি পেরোনোর পর পড়ার সঙ্গে তাদের সব সম্পর্ক চুকে যায়। এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি নয়, সব ধরনের লাইব্রেরি বা পাঠাগারের প্রতি মানুষের আগ্রহ জাগিয়ে তোলা দরকার। একসময় দেশে যে পাঠাগার আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা ফিরিয়ে আনা জরুরি। তা না হলে বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্ম পরিণত হবে জ্ঞানহীন এক প্রযুক্তিসর্বস্ব সত্তায়।

এর পরিণতি কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি যেন অচিরেই সচল হয়ে ওঠে, সরকারকে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরি ও পাঠের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে যা যা করা প্রয়োজন, তা করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব সর্বাধিক।

লাইব্রেরির সংকটকাল

জ্ঞানের বিশাল জগৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা
 সম্পাদকীয় 
০৫ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিগুলোর, বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার লাইব্রেরিগুলোর এখন কী অবস্থা, এর একটা ধারণা পাওয়া যায় গতকাল যুগান্তরের বাংলার মুখ পাতায় প্রকাশিত বিশেষ আয়োজনে। এতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরির ওপর সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

দেখা যাচ্ছে, উপেক্ষা-অবহেলায় এসব লাইব্রেরি টিকে আছে নামমাত্র। কোথাও লাইব্রেরির বইগুলো অগোছালো অবস্থায় বা স্তূপাকারে পড়ে আছে, কোথাও লাইব্রেরি কক্ষকে বানানো হয়েছে স্টোররুম, কোথাও লাইব্রেরি পড়ে আছে তালাবদ্ধ অবস্থায়, কোথাও লাইব্রেরি থাকলেও নেই লাইব্রেরিয়ান, কোথাও লাইব্রেরিয়ান থাকলেও তাকে দিয়ে ক্লাস নেওয়া হয়, সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক-বরিশাল জিলা স্কুলের লাইব্রেরি কক্ষে খাট বিছিয়ে সেখানে করা হয় রাত্রিযাপন।

লাইব্রেরি কক্ষে বিছানা পেতে বসবাসের উদাহরণ এই একটি নয়, একাধিক। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। কারণ লাইব্রেরি হলো জ্ঞানের আধার। একে অবহেলা করে ফেলে রাখা মানে জ্ঞানের বিকাশকে রুদ্ধ করা।

শিক্ষার্থীরা নাকি এখন লাইব্রেরি চেনেই না। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট এসব প্রযুক্তির সহজলভ্যতা তরুণদের লাইব্রেরিবিমুখ করে ফেলেছে। করোনাকালে অনলাইন ক্লাসের অভিজ্ঞতা এ বিমুখতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সন্দেহ নেই।

তবে শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, শিক্ষকদের মাঝেও লাইব্রেরির প্রতি খুব একটা আগ্রহ লক্ষ করা যায় না। সিলেবাসের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের বাইরেও যে জ্ঞানের বিশাল জগৎ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের তার সন্ধান দিতে আমাদের শিক্ষকরা উৎসাহী নন। বস্তুত পাঠ্যবইয়ের পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে পড়ার বিষয়টিকে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিরানন্দ ও বিরক্তিকর কাজে পরিণত করেছে।

ফলে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণ্ডি পেরোনোর পর পড়ার সঙ্গে তাদের সব সম্পর্ক চুকে যায়। এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি নয়, সব ধরনের লাইব্রেরি বা পাঠাগারের প্রতি মানুষের আগ্রহ জাগিয়ে তোলা দরকার। একসময় দেশে যে পাঠাগার আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা ফিরিয়ে আনা জরুরি। তা না হলে বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্ম পরিণত হবে জ্ঞানহীন এক প্রযুক্তিসর্বস্ব সত্তায়।

এর পরিণতি কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি যেন অচিরেই সচল হয়ে ওঠে, সরকারকে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরি ও পাঠের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে যা যা করা প্রয়োজন, তা করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব সর্বাধিক।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন