শিল্প খাতে লোডশেডিং
jugantor
শিল্প খাতে লোডশেডিং
ব্যবসায়ী নেতাদের সুপারিশ আমলে নিন

  সম্পাদকীয়  

০৬ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআই ভবনে ‘এনার্জি সিকিউরিটি ডেভেলপমেন্ট অব দ্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ব্যবসায়ী নেতারা শিল্পকারখানাতেও লোডশেডিং করা হচ্ছে উল্লেখ করে বলেছেন, বিদ্যুৎ রেশনিং যথাযথভাবে হচ্ছে না।

সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকলেও এরপর বিভিন্ন সময়ে থাকছে না। এতে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা সামগ্রিকভাবে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মধ্যে ৩০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে এ লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ী নেতারা ভারতের মতো আমাদেরও দীর্ঘমেয়াদে কয়লাভিত্তিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া উচিত বলে সুপারিশ করেছেন। বলা প্রয়োজন, দেশে কয়লাভিত্তিক যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে, সবই আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজির মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে।

আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজির মাধ্যমে নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিবেশগত বিরূপ প্রভাব থেকে মুক্ত। অবশ্য এক্ষেত্রে চীন, জার্মানি ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ কী প্রক্রিয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনা করছে, সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো উচিত।

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও গ্যাস পাওয়া না গেলে শিল্পোদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা সীমাহীন ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। বিদ্যুৎবিভ্রাট বা অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ইতঃপূর্বে বলেছিলেন, তাদের একটি কারখানায় একবার বিদ্যুৎবিভ্রাট ঘটলে ৫২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

এ হিসাবে তাদের পাঁচটি কারখানায় ন্যূনতম একবার বিদ্যুৎবিভ্রাট হলেও তারা কমপক্ষে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। এ ছাড়া কম্পিউটারাইজ্ড মেশিনগুলো চালু অবস্থায় হঠাৎ বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে বন্ধ হলে সফটওয়্যার সিস্টেমও নষ্ট হয়ে যায়। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রাপ্যতা নিশ্চিতের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করি আমরা।

উদ্বেগজনক হলো, দেশে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায়ও সমস্যা রয়েছে। রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ স্থানে বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনের অবস্থা বেহাল ও জরাজীর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ না হওয়ায় পুরোনো লাইন ওভারলোডেড হয়ে ঘন ঘন ট্রান্সফরমার জ্বলে যাওয়ার পাশাপাশি লাইন পুড়ে ও ছিঁড়ে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। জানা গেছে, দেশে মোট বিতরণ লাইনের অন্তত ৪০ শতাংশই জরাজীর্ণ।

এ কারণে বিতরণ কোম্পানিগুলোর পক্ষে লাইনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের শিল্প খাতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে ও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কাজেও বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিতরণ লাইন সংস্কারসহ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসায়ী নেতাদের সুপারিশ আমলে নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

শিল্প খাতে লোডশেডিং

ব্যবসায়ী নেতাদের সুপারিশ আমলে নিন
 সম্পাদকীয় 
০৬ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআই ভবনে ‘এনার্জি সিকিউরিটি ডেভেলপমেন্ট অব দ্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ব্যবসায়ী নেতারা শিল্পকারখানাতেও লোডশেডিং করা হচ্ছে উল্লেখ করে বলেছেন, বিদ্যুৎ রেশনিং যথাযথভাবে হচ্ছে না।

সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকলেও এরপর বিভিন্ন সময়ে থাকছে না। এতে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা সামগ্রিকভাবে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মধ্যে ৩০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে এ লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ী নেতারা ভারতের মতো আমাদেরও দীর্ঘমেয়াদে কয়লাভিত্তিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া উচিত বলে সুপারিশ করেছেন। বলা প্রয়োজন, দেশে কয়লাভিত্তিক যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে, সবই আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজির মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে।

আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজির মাধ্যমে নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিবেশগত বিরূপ প্রভাব থেকে মুক্ত। অবশ্য এক্ষেত্রে চীন, জার্মানি ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ কী প্রক্রিয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনা করছে, সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো উচিত।

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও গ্যাস পাওয়া না গেলে শিল্পোদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা সীমাহীন ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। বিদ্যুৎবিভ্রাট বা অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ইতঃপূর্বে বলেছিলেন, তাদের একটি কারখানায় একবার বিদ্যুৎবিভ্রাট ঘটলে ৫২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

এ হিসাবে তাদের পাঁচটি কারখানায় ন্যূনতম একবার বিদ্যুৎবিভ্রাট হলেও তারা কমপক্ষে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। এ ছাড়া কম্পিউটারাইজ্ড মেশিনগুলো চালু অবস্থায় হঠাৎ বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে বন্ধ হলে সফটওয়্যার সিস্টেমও নষ্ট হয়ে যায়। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রাপ্যতা নিশ্চিতের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করি আমরা।

উদ্বেগজনক হলো, দেশে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায়ও সমস্যা রয়েছে। রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ স্থানে বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনের অবস্থা বেহাল ও জরাজীর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ না হওয়ায় পুরোনো লাইন ওভারলোডেড হয়ে ঘন ঘন ট্রান্সফরমার জ্বলে যাওয়ার পাশাপাশি লাইন পুড়ে ও ছিঁড়ে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। জানা গেছে, দেশে মোট বিতরণ লাইনের অন্তত ৪০ শতাংশই জরাজীর্ণ।

এ কারণে বিতরণ কোম্পানিগুলোর পক্ষে লাইনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের শিল্প খাতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে ও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কাজেও বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিতরণ লাইন সংস্কারসহ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসায়ী নেতাদের সুপারিশ আমলে নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন