প্রকল্প তৈরিতে অদূরদর্শিতা
jugantor
প্রকল্প তৈরিতে অদূরদর্শিতা
দুর্নীতির অভিপ্রায় ছিল কিনা খতিয়ে দেখতে হবে

  সম্পাদকীয়  

০৬ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প তৈরিতে অদূরদর্শিতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আশ্চর্যই বলতে হয়, এত বড় একটি প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হলেও শুধু ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল প্রকল্পটি। ফলে এখন শেষ সময়ে এসে ফাউন্ডেশনের ডিজাইনসহ নানা পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন নতুন কার্যক্রম। এসব কারণে বাড়তি ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৮ কোটি ১১ লাখ টাকা।

শুধু তাই নয়, প্রকল্পটির মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন সব মিলে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, প্রকল্পটির মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ২৫১ কোটি টাকা।

প্রশ্ন হলো, প্রকল্পের ব্যয় ও সময় যে বাড়ল, এর দায় কার? প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্তমান পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেছেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যেগুলো পরিবর্তন না করলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কোনো সার্থকতা থাকবে না। শুরুতেই কেন এসব চিন্তা করা হয়নি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হলে তারা ভুল স্বীকার করেছেন।

আমাদের কথা হলো, শুধু ভুল স্বীকার করলেই কি পার পাওয়া যায়? জানা গেছে, প্রকল্পটি যখন তৈরি করা হয়, তখন কোনো ড্রয়িং বা ডিজাইন করা হয়নি, শুধু ট্রাফিক স্টাডিসহ আনুষঙ্গিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়েছিল। আমরা বলতে চাই, এটি কোনো সাধারণ ভুল নয়। ভুলগুলো ইচ্ছাকৃত কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।

কারণ এর আগেও আমরা দেখেছি, এমনভাবে প্রকল্প তৈরি করা হয়, যাতে পরবর্তী সময়ে সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো যায়। এর ফলে বৃদ্ধি পায় প্রকল্প ব্যয়ও। এসব অনিয়ম করা হয় মূলত দুর্নীতির কথা মাথায় রেখেই। বলা বাহুল্য, কোনো প্রকল্পের মেয়াদ যত বাড়বে, ততই দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আলোচ্য প্রকল্পটিতে যে সংশোধন আনা হয়েছে, তাতে প্রকল্পের ফাউন্ডেশন, সাবস্ট্রাকচার ও সুপার স্ট্রাকচারেরও পরিবর্তন করতে হয়েছে। কাজেই শুধু অনুমানের ওপর ভিত্তি করে যারা প্রকল্পটি তৈরি করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

প্রকল্প তৈরিতে অদূরদর্শিতা

দুর্নীতির অভিপ্রায় ছিল কিনা খতিয়ে দেখতে হবে
 সম্পাদকীয় 
০৬ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প তৈরিতে অদূরদর্শিতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আশ্চর্যই বলতে হয়, এত বড় একটি প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হলেও শুধু ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল প্রকল্পটি। ফলে এখন শেষ সময়ে এসে ফাউন্ডেশনের ডিজাইনসহ নানা পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন নতুন কার্যক্রম। এসব কারণে বাড়তি ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৮ কোটি ১১ লাখ টাকা।

শুধু তাই নয়, প্রকল্পটির মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন সব মিলে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, প্রকল্পটির মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ২৫১ কোটি টাকা।

প্রশ্ন হলো, প্রকল্পের ব্যয় ও সময় যে বাড়ল, এর দায় কার? প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্তমান পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেছেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যেগুলো পরিবর্তন না করলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কোনো সার্থকতা থাকবে না। শুরুতেই কেন এসব চিন্তা করা হয়নি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হলে তারা ভুল স্বীকার করেছেন।

আমাদের কথা হলো, শুধু ভুল স্বীকার করলেই কি পার পাওয়া যায়? জানা গেছে, প্রকল্পটি যখন তৈরি করা হয়, তখন কোনো ড্রয়িং বা ডিজাইন করা হয়নি, শুধু ট্রাফিক স্টাডিসহ আনুষঙ্গিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়েছিল। আমরা বলতে চাই, এটি কোনো সাধারণ ভুল নয়। ভুলগুলো ইচ্ছাকৃত কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।

কারণ এর আগেও আমরা দেখেছি, এমনভাবে প্রকল্প তৈরি করা হয়, যাতে পরবর্তী সময়ে সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো যায়। এর ফলে বৃদ্ধি পায় প্রকল্প ব্যয়ও। এসব অনিয়ম করা হয় মূলত দুর্নীতির কথা মাথায় রেখেই। বলা বাহুল্য, কোনো প্রকল্পের মেয়াদ যত বাড়বে, ততই দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আলোচ্য প্রকল্পটিতে যে সংশোধন আনা হয়েছে, তাতে প্রকল্পের ফাউন্ডেশন, সাবস্ট্রাকচার ও সুপার স্ট্রাকচারেরও পরিবর্তন করতে হয়েছে। কাজেই শুধু অনুমানের ওপর ভিত্তি করে যারা প্রকল্পটি তৈরি করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন