জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি
jugantor
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি

  সম্পাদকীয়  

০৭ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার হঠাৎ করেই সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৮০ থেকে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছে; পেট্রোলের দাম ৮৬ থেকে ১৩০ টাকা এবং অকটেনের দাম ৮৯ থেকে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির এ হার দেশে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন হলো-এভাবে রাতারাতি জ্বালানি তেলের দাম ৪২ থেকে ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি করা কতটা যৌক্তিক? উদ্বেগজনক হলো, তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার গ্যাস ও বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যখন নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, দেশব্যাপী লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানায় উৎপাদনে ধস নেমেছে, ঠিক তখন জ্বালানি তেলের পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির এই তোড়জোড় মোটেই কাম্য নয়। ইতঃপূর্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন, জনগণের দুর্ভোগ হয়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না। অথচ যে হারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, তাতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠবে। বেড়ে যাবে গণপরিবহণ ভাড়াসহ সব ধরনের পণ্য ও সেবার দাম। আশ্চর্যজনক হলো, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত সাধারণত সপ্তাহের শেষদিনে নেওয়ার কথা। কিন্তু সরকার হঠাৎ করে বন্ধের দিন গভীর রাতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে, যা একটি বিরল ঘটনা।

দেশের মানুষ যখন তীব্র মূল্যস্ফীতির সঙ্গে টিকে থাকার লড়াই করছে, তখন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি তাদের এ লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বস্তুত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি কৃষি ও শিল্প উৎপাদনসহ জনজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করবে, যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনা মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি থমকে যাওয়ায় দেশের সাধারণ মানুষের আয়ের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন, অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আয় কমেছে দেশের একটি বড় অংশের মানুষের। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে বিপর্যয় নেমে আসবে, তা বলাই বাহুল্য। অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিধারা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে তেল-গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানির দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা জরুরি। আমরা মনে করি, তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা থাকা উচিত। এতে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হয়।

সরকারকে বুঝতে হবে, মূল্যস্ফীতি ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনধারণ করাটা বর্তমানে দুরূহ হয়ে পড়েছে। অনেকে সঞ্চয়ের শেষ কড়িটি পর্যন্ত খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারি হিসাবেই গত এক বছরে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে-চাল ৭৯ শতাংশ, খোলা আটা ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, খোলা ময়দা ৩৭ দশমিক ৬৮, সয়াবিন ২৮ দশমিক ১১ শতাংশ, পাম অয়েল ৩৮ শতাংশ এবং মসুর ডাল ৩৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির প্রভাবে চরম দুরবস্থায় নিপতিত দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কষ্ট-দুর্দশা লাঘবে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে-এটাই প্রত্যাশা।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি

 সম্পাদকীয় 
০৭ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার হঠাৎ করেই সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৮০ থেকে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছে; পেট্রোলের দাম ৮৬ থেকে ১৩০ টাকা এবং অকটেনের দাম ৮৯ থেকে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির এ হার দেশে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন হলো-এভাবে রাতারাতি জ্বালানি তেলের দাম ৪২ থেকে ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি করা কতটা যৌক্তিক? উদ্বেগজনক হলো, তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার গ্যাস ও বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যখন নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, দেশব্যাপী লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানায় উৎপাদনে ধস নেমেছে, ঠিক তখন জ্বালানি তেলের পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির এই তোড়জোড় মোটেই কাম্য নয়। ইতঃপূর্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন, জনগণের দুর্ভোগ হয়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না। অথচ যে হারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, তাতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠবে। বেড়ে যাবে গণপরিবহণ ভাড়াসহ সব ধরনের পণ্য ও সেবার দাম। আশ্চর্যজনক হলো, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত সাধারণত সপ্তাহের শেষদিনে নেওয়ার কথা। কিন্তু সরকার হঠাৎ করে বন্ধের দিন গভীর রাতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে, যা একটি বিরল ঘটনা।

দেশের মানুষ যখন তীব্র মূল্যস্ফীতির সঙ্গে টিকে থাকার লড়াই করছে, তখন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি তাদের এ লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বস্তুত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি কৃষি ও শিল্প উৎপাদনসহ জনজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করবে, যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনা মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি থমকে যাওয়ায় দেশের সাধারণ মানুষের আয়ের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন, অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আয় কমেছে দেশের একটি বড় অংশের মানুষের। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে বিপর্যয় নেমে আসবে, তা বলাই বাহুল্য। অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিধারা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে তেল-গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানির দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা জরুরি। আমরা মনে করি, তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা থাকা উচিত। এতে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হয়।

সরকারকে বুঝতে হবে, মূল্যস্ফীতি ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনধারণ করাটা বর্তমানে দুরূহ হয়ে পড়েছে। অনেকে সঞ্চয়ের শেষ কড়িটি পর্যন্ত খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারি হিসাবেই গত এক বছরে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে-চাল ৭৯ শতাংশ, খোলা আটা ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, খোলা ময়দা ৩৭ দশমিক ৬৮, সয়াবিন ২৮ দশমিক ১১ শতাংশ, পাম অয়েল ৩৮ শতাংশ এবং মসুর ডাল ৩৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির প্রভাবে চরম দুরবস্থায় নিপতিত দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কষ্ট-দুর্দশা লাঘবে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে-এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন