বাসে ফের গণধর্ষণ
jugantor
বাসে ফের গণধর্ষণ
পরিবহণ সেক্টরের এই ব্যাধির নিরাময় কী?

  সম্পাদকীয়  

০৮ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাসে ফের গণধর্ষণ

আবারও চলন্ত বাসে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোরে গাজীপুরে যাত্রীবাহী বাসে এ পাশবিক ঘটনার শিকার হয়েছেন এক নারী যাত্রী। জানা গেছে, বাসের শ্রমিকরা ওই নারীর স্বামীকে বাস থেকে ফেলে দিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নওগাঁ থেকে স্বামী-স্ত্রী গাজীপুর সিটির ভোগরা বাইপাস এলাকায় এসে শনিবার ভোরে নামেন। সেখান থেকে তাকওয়া পরিবহণের বাসে ওঠেন তারা। ওই সময় বাসটিতে বেশকজন যাত্রী ছিল। বাসে স্টাফ ছিলেন দুজন। ভোগরা থেকে যাত্রা শুরুর পর তাকওয়া পরিবহণের আরও দুই স্টাফ বাসে ওঠেন। বাসটি হোতাপাড়া পৌঁছার আগে বাসযাত্রী স্বামী-স্ত্রী ছাড়া বাসে থাকা অন্য যাত্রীরা নেমে যান। বাসটি হোতাপাড়া অতিক্রম করার পর এক পর্যায়ে স্বামীকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন স্টাফরা। এর আগে পরিবহণ শ্রমিকরা বাসযাত্রী স্বামী-স্ত্রীর টাকা-পয়সা, মোবাইল ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেন। পরে তারা ওই নারীকে ধর্ষণ করে। এরপর ওই নারীকে বাস থেকে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান তারা। ওই নারীর স্বামী গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকওয়া পরিবহণের বাসটি জব্দ করে। ইতোমধ্যে শ্রীপুর থানা ও গাজীপুর জেলা ডিবি পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পাঁচ পরিবহণ শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে।

মাত্র দুদিন আগে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী একটি নৈশবাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। চলন্ত বাসে নারী ধর্ষণের ঘটনা নতুন নয়। তবে একটি ডাকাত দল টানা তিন ঘণ্টা বাসের যাত্রীদের জিম্মি করে ডাকাতি ও নারী ধর্ষণ শেষে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাবে, ভাবা যায় না। গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোডে একটি বাসের সব যাত্রী নেমে গেলে ওই বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার এক তরুণীকে ধর্ষণ করেছিল। এ সময় বাসচালকও উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে পাশবিক নির্যাতনে যোগ দিয়েছিল। গত বছরেরই ২৬ জুন চট্টগ্রামের মীরসরাই, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট টাঙ্গাইলের মধুপুর, ২০১৩ সালের ২৫ জানুয়ারি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়াসহ চলন্ত বাসে গণধর্ষণের বেশকটি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার ফলে বাসে নারীদের চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারাই জড়িত থাকুক সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। পরিবহণ শ্রমিকরা যাতে যাত্রীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ হয়, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রশাসন, সমাজ ও পরিবারের সমন্বিত উদ্যোগই পারে ধর্ষণের মতো সামাজিক ব্যাধি হ্রাসে ভূমিকা রাখতে।

বাসে ফের গণধর্ষণ

পরিবহণ সেক্টরের এই ব্যাধির নিরাময় কী?
 সম্পাদকীয় 
০৮ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বাসে ফের গণধর্ষণ
প্রতীকী ছবি

আবারও চলন্ত বাসে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোরে গাজীপুরে যাত্রীবাহী বাসে এ পাশবিক ঘটনার শিকার হয়েছেন এক নারী যাত্রী। জানা গেছে, বাসের শ্রমিকরা ওই নারীর স্বামীকে বাস থেকে ফেলে দিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নওগাঁ থেকে স্বামী-স্ত্রী গাজীপুর সিটির ভোগরা বাইপাস এলাকায় এসে শনিবার ভোরে নামেন। সেখান থেকে তাকওয়া পরিবহণের বাসে ওঠেন তারা। ওই সময় বাসটিতে বেশকজন যাত্রী ছিল। বাসে স্টাফ ছিলেন দুজন। ভোগরা থেকে যাত্রা শুরুর পর তাকওয়া পরিবহণের আরও দুই স্টাফ বাসে ওঠেন। বাসটি হোতাপাড়া পৌঁছার আগে বাসযাত্রী স্বামী-স্ত্রী ছাড়া বাসে থাকা অন্য যাত্রীরা নেমে যান। বাসটি হোতাপাড়া অতিক্রম করার পর এক পর্যায়ে স্বামীকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন স্টাফরা। এর আগে পরিবহণ শ্রমিকরা বাসযাত্রী স্বামী-স্ত্রীর টাকা-পয়সা, মোবাইল ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেন। পরে তারা ওই নারীকে ধর্ষণ করে। এরপর ওই নারীকে বাস থেকে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান তারা। ওই নারীর স্বামী গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকওয়া পরিবহণের বাসটি জব্দ করে। ইতোমধ্যে শ্রীপুর থানা ও গাজীপুর জেলা ডিবি পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পাঁচ পরিবহণ শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে।

মাত্র দুদিন আগে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী একটি নৈশবাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। চলন্ত বাসে নারী ধর্ষণের ঘটনা নতুন নয়। তবে একটি ডাকাত দল টানা তিন ঘণ্টা বাসের যাত্রীদের জিম্মি করে ডাকাতি ও নারী ধর্ষণ শেষে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাবে, ভাবা যায় না। গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোডে একটি বাসের সব যাত্রী নেমে গেলে ওই বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার এক তরুণীকে ধর্ষণ করেছিল। এ সময় বাসচালকও উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে পাশবিক নির্যাতনে যোগ দিয়েছিল। গত বছরেরই ২৬ জুন চট্টগ্রামের মীরসরাই, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট টাঙ্গাইলের মধুপুর, ২০১৩ সালের ২৫ জানুয়ারি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়াসহ চলন্ত বাসে গণধর্ষণের বেশকটি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার ফলে বাসে নারীদের চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারাই জড়িত থাকুক সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। পরিবহণ শ্রমিকরা যাতে যাত্রীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ হয়, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রশাসন, সমাজ ও পরিবারের সমন্বিত উদ্যোগই পারে ধর্ষণের মতো সামাজিক ব্যাধি হ্রাসে ভূমিকা রাখতে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন