জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব
jugantor
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব
জনদুর্ভোগ কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নিন

  সম্পাদকীয়  

১১ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার অভিঘাত, অব্যাহত মূল্যস্ফীতির প্রভাব, ডলারের বিনিময় হারে অস্থিতিশীলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন কারণে যখন দেশের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, তখন হঠাৎ করে দেশে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার সর্বক্ষেত্রে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আয় না বাড়লেও সব শ্রেণির মানুষের ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। প্রশ্ন হলো, মানুষ এ চাপ সহ্য করবে কীভাবে?

গত এক বছর ধরেই ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষকে অস্থির করে তুলেছে। বাড়িভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রতিটি পরিবারের ব্যয়বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধিতে শিল্প, কৃষি ও গণপরিবহণসহ সব খাতেই পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে। তেলের দামবৃদ্ধির পরদিনই সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, দাম আরও বাড়বে। এ অবস্থায় অসহায় ক্রেতারা প্রয়োজনের অর্ধেক পণ্য কিনে বাড়ি ফিরছেন। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে নিু আয়ের মানুষ। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে দেশে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে মিল মালিকরা।

এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্যের দাম নিজেদের ইচ্ছামতো নির্ধারণ করে ক্রেতাদের ঠকাতে শুরু করেছে। অনেকে পণ্য মজুতের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়াচ্ছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেড়েছে সব ধরনের পরিবহণ ভাড়া। লক্ষ করা যাচ্ছে, অনেক পরিবহণে, বিশেষত বাসে সরকার নির্ধারিত বর্ধিত ভাড়ার চেয়েও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে পরিবহণ শ্রমিক ও যাত্রীদের মধ্যে প্রতিদিনই চলছে বচসা। দুঃখজনক হলো, এ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি যাদের নিয়ন্ত্রণ করার কথা, তাদের কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। পরিবহণ ব্যয়বৃদ্ধির কারণে পণ্যের সরবরাহ ব্যয় আরও বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। কাজেই পরিবহণ খাতের নৈরাজ্য রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সারের দামবৃদ্ধির কয়েকদিন পরই বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম। কৃষি উৎপাদনের সবচেয়ে মৌলিক এ দুটি উপকরণের অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধিতে এ খাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা। এবার বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত অনেক কম হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকের চেয়ে সেচ লাগছে বেশি। ডিজেলের দাম বাড়ানোয় শস্যের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে। অতিরিক্ত খরচের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনেক কৃষক জমির আবাদ কমিয়ে দিতে পারেন। এতে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট যাতে ক্রেতাদের ঠকাতে না পারে, সরকারকে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে; বাজারে তদারকি জোরদার করতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির কারণে মানুষের যখন নাভিশ্বাস উঠেছে, তখন দেশে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর পাওয়া যাচ্ছে; সেসব ঠেকাতে পারলে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হতো। নিম্নআয়ের মানুষের সুরক্ষার জন্য সামাজিক নিরাপত্তার পরিধি বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তার অর্থ বিতরণ অথবা যে কোনো ধরনের সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হলে জনগণের জীবন দুর্বিষহ করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে না। আমরা আশা করব, সরকার সেদিকেও দৃষ্টি দেবে এবং জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকবে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব

জনদুর্ভোগ কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নিন
 সম্পাদকীয় 
১১ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার অভিঘাত, অব্যাহত মূল্যস্ফীতির প্রভাব, ডলারের বিনিময় হারে অস্থিতিশীলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন কারণে যখন দেশের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, তখন হঠাৎ করে দেশে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার সর্বক্ষেত্রে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আয় না বাড়লেও সব শ্রেণির মানুষের ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। প্রশ্ন হলো, মানুষ এ চাপ সহ্য করবে কীভাবে?

গত এক বছর ধরেই ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষকে অস্থির করে তুলেছে। বাড়িভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রতিটি পরিবারের ব্যয়বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধিতে শিল্প, কৃষি ও গণপরিবহণসহ সব খাতেই পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে। তেলের দামবৃদ্ধির পরদিনই সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, দাম আরও বাড়বে। এ অবস্থায় অসহায় ক্রেতারা প্রয়োজনের অর্ধেক পণ্য কিনে বাড়ি ফিরছেন। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে নিু আয়ের মানুষ। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে দেশে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে মিল মালিকরা।

এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্যের দাম নিজেদের ইচ্ছামতো নির্ধারণ করে ক্রেতাদের ঠকাতে শুরু করেছে। অনেকে পণ্য মজুতের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়াচ্ছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেড়েছে সব ধরনের পরিবহণ ভাড়া। লক্ষ করা যাচ্ছে, অনেক পরিবহণে, বিশেষত বাসে সরকার নির্ধারিত বর্ধিত ভাড়ার চেয়েও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে পরিবহণ শ্রমিক ও যাত্রীদের মধ্যে প্রতিদিনই চলছে বচসা। দুঃখজনক হলো, এ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি যাদের নিয়ন্ত্রণ করার কথা, তাদের কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। পরিবহণ ব্যয়বৃদ্ধির কারণে পণ্যের সরবরাহ ব্যয় আরও বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। কাজেই পরিবহণ খাতের নৈরাজ্য রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সারের দামবৃদ্ধির কয়েকদিন পরই বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম। কৃষি উৎপাদনের সবচেয়ে মৌলিক এ দুটি উপকরণের অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধিতে এ খাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা। এবার বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত অনেক কম হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকের চেয়ে সেচ লাগছে বেশি। ডিজেলের দাম বাড়ানোয় শস্যের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে। অতিরিক্ত খরচের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনেক কৃষক জমির আবাদ কমিয়ে দিতে পারেন। এতে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট যাতে ক্রেতাদের ঠকাতে না পারে, সরকারকে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে; বাজারে তদারকি জোরদার করতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির কারণে মানুষের যখন নাভিশ্বাস উঠেছে, তখন দেশে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর পাওয়া যাচ্ছে; সেসব ঠেকাতে পারলে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হতো। নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষার জন্য সামাজিক নিরাপত্তার পরিধি বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তার অর্থ বিতরণ অথবা যে কোনো ধরনের সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হলে জনগণের জীবন দুর্বিষহ করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে না। আমরা আশা করব, সরকার সেদিকেও দৃষ্টি দেবে এবং জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন