এটিএম বুথে খুন
jugantor
এটিএম বুথে খুন
নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৪ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাজধানীর উত্তরায় একটি এটিএম বুথে যা ঘটেছে, তা রাজধানীবাসী তথা দেশবাসীকে গভীর চিন্তায় ফেলেছে। এটিএম বুথে টাকা তুলতে যেতে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন এখন। গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১টায় শরীফ উল্লাহ নামের এক ব্যবসায়ী উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ সড়কের একটি বাড়ির নিচতলায় অবস্থিত ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে যান। তিনি টাকা তুলে গুনতে থাকলে আবদুস সামাদ নামের এক ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। ছিনতাইকারী বুথের ভেতর ঢুকে টাকা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। শরীফ এতে বাধা দিলে ছিনতাইকারী তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। শরীফের চিৎকারে বুথের নিরাপত্তাকর্মী এবং কাছাকাছি থাকা কয়েকজন এগিয়ে আসেন। তারা শরীফকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওদিকে ছিনতাইকারী সামাদ পালানোর চেষ্টা করলে কয়েকজন তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। জানা যায়, সামাদ পেশাদার ছিনতাইকারী নন। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করতেন। কিছুদিন হলো তিনি বেকার হয়ে পড়ায় ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে তিনি ছিনতাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আলোচ্য ছিনতাইকারী পেশাদার না অপেশাদার, সেটা বড় প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন হলো রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন কেমন? এটিএম বুথে একজন করে নিরাপত্তাকর্মী থাকেন। তা সত্ত্বেও একজন ছিনতাইকারী বুথের ভেতর ঢুকে কাউকে হত্যা করেছে, এ এক বড় উদ্বেগের বিষয়। শুধু বৃহস্পতিবারের আলোচ্য ঘটনাটিই নয়, বর্তমানে প্রায়ই রাজধানীর এখানে-সেখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে চলেছে। কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের এক সংবাদকর্মী হাতিরঝিলে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে অহরহ। আরও কথা হলো, সব ছিনতাইয়ের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় না। নীরবে ছিনতাইয়ের ঘটনা হজম করে ফেলেন, এমন ভুক্তভোগীর সংখ্যা অনেক। তাই আমরা বলব, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। এটিএম বুথগুলোর নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বড়ানো যায় কি না, তা নিয়েও ভাবতে হবে। আরেকটি বিষয় লক্ষ করা যায়, কেউ ছিনতাইয়ের কবলে পড়লে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে ভয় পায়। আত্মকেন্দ্রিক মনোভাবই এর কারণ। আমরা মনে করি, আশপাশের লোকজন একজোট হয়ে ছিনতাইকারীকে প্রতিহত করার দু-চারটি উদাহরণ তৈরি করতে পারলে ছিনতাইয়ের ঘটনা কমে আসবে। আলোচ্য ছিনতাইকারী সামাদ তার কৃতকর্মের যথাযথ আইনি শাস্তি পাবে, এটাই প্রত্যাশা।

এটিএম বুথে খুন

নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
 সম্পাদকীয় 
১৪ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাজধানীর উত্তরায় একটি এটিএম বুথে যা ঘটেছে, তা রাজধানীবাসী তথা দেশবাসীকে গভীর চিন্তায় ফেলেছে। এটিএম বুথে টাকা তুলতে যেতে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন এখন। গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১টায় শরীফ উল্লাহ নামের এক ব্যবসায়ী উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ সড়কের একটি বাড়ির নিচতলায় অবস্থিত ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে যান। তিনি টাকা তুলে গুনতে থাকলে আবদুস সামাদ নামের এক ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। ছিনতাইকারী বুথের ভেতর ঢুকে টাকা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। শরীফ এতে বাধা দিলে ছিনতাইকারী তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। শরীফের চিৎকারে বুথের নিরাপত্তাকর্মী এবং কাছাকাছি থাকা কয়েকজন এগিয়ে আসেন। তারা শরীফকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওদিকে ছিনতাইকারী সামাদ পালানোর চেষ্টা করলে কয়েকজন তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। জানা যায়, সামাদ পেশাদার ছিনতাইকারী নন। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করতেন। কিছুদিন হলো তিনি বেকার হয়ে পড়ায় ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে তিনি ছিনতাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আলোচ্য ছিনতাইকারী পেশাদার না অপেশাদার, সেটা বড় প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন হলো রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন কেমন? এটিএম বুথে একজন করে নিরাপত্তাকর্মী থাকেন। তা সত্ত্বেও একজন ছিনতাইকারী বুথের ভেতর ঢুকে কাউকে হত্যা করেছে, এ এক বড় উদ্বেগের বিষয়। শুধু বৃহস্পতিবারের আলোচ্য ঘটনাটিই নয়, বর্তমানে প্রায়ই রাজধানীর এখানে-সেখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে চলেছে। কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের এক সংবাদকর্মী হাতিরঝিলে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে অহরহ। আরও কথা হলো, সব ছিনতাইয়ের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় না। নীরবে ছিনতাইয়ের ঘটনা হজম করে ফেলেন, এমন ভুক্তভোগীর সংখ্যা অনেক। তাই আমরা বলব, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। এটিএম বুথগুলোর নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বড়ানো যায় কি না, তা নিয়েও ভাবতে হবে। আরেকটি বিষয় লক্ষ করা যায়, কেউ ছিনতাইয়ের কবলে পড়লে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে ভয় পায়। আত্মকেন্দ্রিক মনোভাবই এর কারণ। আমরা মনে করি, আশপাশের লোকজন একজোট হয়ে ছিনতাইকারীকে প্রতিহত করার দু-চারটি উদাহরণ তৈরি করতে পারলে ছিনতাইয়ের ঘটনা কমে আসবে। আলোচ্য ছিনতাইকারী সামাদ তার কৃতকর্মের যথাযথ আইনি শাস্তি পাবে, এটাই প্রত্যাশা।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন