নিত্যপণ্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি
jugantor
নিত্যপণ্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি
এই চাপ সামলাবে কিভাবে মানুষ?

  সম্পাদকীয়  

১৫ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিত্যপণ্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি

অব্যাহত মূল্যস্ফীতির কারণে যখন দেশের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, তখন হঠাৎ করে দেশে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে জীবনযাত্রার সর্বক্ষেত্রে নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা চালসহ নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির করে তুলেছে। এতে দম বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে ভোক্তাদের। দুঃখজনক হলো, অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির করে তুললেও বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। অভিযোগ রয়েছে, বাজার পর্যবেক্ষণে জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের যোগসাজশের কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থার অবসান জরুরি। আয় না বাড়লেও যেভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, মানুষ এ চাপ সহ্য করবে কীভাবে? তেলের দাম বৃদ্ধির পরদিন থেকেই সব ধরনের পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে। বিক্রেতারা বলছেন, দাম আরও বাড়বে।

জানা গেছে, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বড় ট্রাকে রাজশাহী থেকে রাজধানীতে চাল আনতে আগের চেয়ে কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া বেড়েছে। এ ধরনের ট্রাকে ১০ টন চাল আনা সম্ভব। এতে পরিবহণ খরচ আগের চেয়ে কেজিপ্রতি ৫০ পয়সার বেশি ব্যয় হওয়ার কথা। অথচ সম্প্রতি মানভেদে এক কেজি চালের দাম চার থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানির অজুহাতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৫০ টাকার বেশি। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫ টাকা বেড়ে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। মাছের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা; বেড়েছে সবজির দামও। বস্তুত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের কারণে অসহনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোজ্যতেল ও চিনির দাম আরেক দফা বাড়বে, এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহণ সেক্টরের নৈরাজ্যও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

এখন অসহায় ক্রেতারা প্রয়োজনের অর্ধেক পণ্য কিনে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। যারা অতি মুনাফা করতে পণ্যের দাম বেশি বৃদ্ধি করছে তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তা না হলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে না। এ পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষার জন্য সামাজিক নিরাপত্তার পরিধি ও সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে, সরকার এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকবে, এটাই প্রত্যাশা।

নিত্যপণ্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি

এই চাপ সামলাবে কিভাবে মানুষ?
 সম্পাদকীয় 
১৫ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
নিত্যপণ্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি
ফাইল ছবি

অব্যাহত মূল্যস্ফীতির কারণে যখন দেশের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, তখন হঠাৎ করে দেশে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে জীবনযাত্রার সর্বক্ষেত্রে নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা চালসহ নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির করে তুলেছে। এতে দম বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে ভোক্তাদের। দুঃখজনক হলো, অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির করে তুললেও বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। অভিযোগ রয়েছে, বাজার পর্যবেক্ষণে জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের যোগসাজশের কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থার অবসান জরুরি। আয় না বাড়লেও যেভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, মানুষ এ চাপ সহ্য করবে কীভাবে? তেলের দাম বৃদ্ধির পরদিন থেকেই সব ধরনের পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে। বিক্রেতারা বলছেন, দাম আরও বাড়বে।

জানা গেছে, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বড় ট্রাকে রাজশাহী থেকে রাজধানীতে চাল আনতে আগের চেয়ে কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া বেড়েছে। এ ধরনের ট্রাকে ১০ টন চাল আনা সম্ভব। এতে পরিবহণ খরচ আগের চেয়ে কেজিপ্রতি ৫০ পয়সার বেশি ব্যয় হওয়ার কথা। অথচ সম্প্রতি মানভেদে এক কেজি চালের দাম চার থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানির অজুহাতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৫০ টাকার বেশি। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫ টাকা বেড়ে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। মাছের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা; বেড়েছে সবজির দামও। বস্তুত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের কারণে অসহনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোজ্যতেল ও চিনির দাম আরেক দফা বাড়বে, এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহণ সেক্টরের নৈরাজ্যও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

এখন অসহায় ক্রেতারা প্রয়োজনের অর্ধেক পণ্য কিনে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। যারা অতি মুনাফা করতে পণ্যের দাম বেশি বৃদ্ধি করছে তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তা না হলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে না। এ পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষার জন্য সামাজিক নিরাপত্তার পরিধি ও সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে, সরকার এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকবে, এটাই প্রত্যাশা।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন