গার্ডার যেন মৃত্যুফাঁদ
jugantor
গার্ডার যেন মৃত্যুফাঁদ
দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৭ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর উত্তরায় সোমবার নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের গার্ডারের চাপায় ব্যক্তিগত গাড়ির পাঁচ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটিকে সাধারণ একটি দুর্ঘটনা বলে মেনে নেওয়া যায় না।

যেভাবে কংক্রিটের বিশাল গার্ডারটি অপেক্ষাকৃত কম ওজনের ক্রেন দিয়ে স্থানান্তরকালে অঘটনটি ঘটেছে, তাতে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। বলা যায়, এ গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনা চলে আসছে প্রকল্পটির শুরু থেকেই। কারণ এ প্রকল্পে ১৭ মাসে গার্ডার ধসে তিনটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে ১৫ জুলাই গাজীপুর শহরে গার্ডারের নিচে চাপা পড়ে একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। গত বছর ১৪ মার্চ বিমানবন্দর এলাকায় এবং আবদুল্লাহপুরে একই দিনে দুবার গার্ডারধসের ঘটনা ঘটে। এতে নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট ছয়জন আহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন চীনের নাগরিক। এসব ঘটনায় প্রতীয়মান হয়, যে কোনো সময় যে কেউ এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।

সড়কের ওপর নির্মাণকাজের সময় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব প্রকল্প কর্তৃপক্ষের। অথচ ব্যস্ততম এ সড়কে বিপুল ওজনের এসব গার্ডার বসানোর কাজ চলে আসছে কোনোরকম নিরাপত্তাবেষ্টনী ছাড়াই। এ কাজে যেসব ক্রেন ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। বারবার গার্ডারধসের ঘটনায় বোঝা যায়, কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপত্তার বিষয়টি কখনোই গুরুত্ব পায়নি। এরই মাশুল দিতে হচ্ছে মানুষকে। প্রকল্পের কাজের ধীরগতিও দুর্ঘটনার জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী, বলা যায়। ধীরগতির কারণে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে। উল্লেখ্য, বিআরটি প্রকল্প ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায়। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। এখন ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের দিকে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরুর পর বিমানবন্দর থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত সড়কে চলাচলকারীদের দুর্ভোগ লেগেই আছে। বস্তুত এ ধরনের বড় প্রকল্পের নির্মাণকাজে দীর্ঘসূত্রতা মোটেই কাম্য নয়। কিন্তু জবাবদিহির অভাবে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বছরের পর বছর নির্মাণকাজ চালিয়ে যেতেই যেন বেশি আগ্রহী!

দেশে এ ধরনের নির্মাণাধীন প্রকল্পে গার্ডার ধসের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০১২ সালে চট্টগ্রাম নগরীতে নির্মাণাধীন বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে ১৭ জন প্রাণ হারান। এর আগে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির কাছে নির্মাণাধীন ফুট ওভারব্রিজের বিম ধসে প্রাণ হারান অনেকে।

আমরা মনে করি, এসব স্থাপনার নির্মাণকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা যেমন প্রয়োজন, তেমনই নির্মাণকাজে দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকি হ্রাসের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সোমবার বিআরটি প্রকল্পে দুর্ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করি আমরা। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পসহ এ ধরনের কোনো প্রকল্পে যেন এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে তাদের জবাবদিহির বিষয়টিও।

গার্ডার যেন মৃত্যুফাঁদ

দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৭ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর উত্তরায় সোমবার নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের গার্ডারের চাপায় ব্যক্তিগত গাড়ির পাঁচ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটিকে সাধারণ একটি দুর্ঘটনা বলে মেনে নেওয়া যায় না।

যেভাবে কংক্রিটের বিশাল গার্ডারটি অপেক্ষাকৃত কম ওজনের ক্রেন দিয়ে স্থানান্তরকালে অঘটনটি ঘটেছে, তাতে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। বলা যায়, এ গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনা চলে আসছে প্রকল্পটির শুরু থেকেই। কারণ এ প্রকল্পে ১৭ মাসে গার্ডার ধসে তিনটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে ১৫ জুলাই গাজীপুর শহরে গার্ডারের নিচে চাপা পড়ে একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। গত বছর ১৪ মার্চ বিমানবন্দর এলাকায় এবং আবদুল্লাহপুরে একই দিনে দুবার গার্ডারধসের ঘটনা ঘটে। এতে নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট ছয়জন আহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন চীনের নাগরিক। এসব ঘটনায় প্রতীয়মান হয়, যে কোনো সময় যে কেউ এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।

সড়কের ওপর নির্মাণকাজের সময় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব প্রকল্প কর্তৃপক্ষের। অথচ ব্যস্ততম এ সড়কে বিপুল ওজনের এসব গার্ডার বসানোর কাজ চলে আসছে কোনোরকম নিরাপত্তাবেষ্টনী ছাড়াই। এ কাজে যেসব ক্রেন ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। বারবার গার্ডারধসের ঘটনায় বোঝা যায়, কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপত্তার বিষয়টি কখনোই গুরুত্ব পায়নি। এরই মাশুল দিতে হচ্ছে মানুষকে। প্রকল্পের কাজের ধীরগতিও দুর্ঘটনার জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী, বলা যায়। ধীরগতির কারণে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে। উল্লেখ্য, বিআরটি প্রকল্প ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায়। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। এখন ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের দিকে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরুর পর বিমানবন্দর থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত সড়কে চলাচলকারীদের দুর্ভোগ লেগেই আছে। বস্তুত এ ধরনের বড় প্রকল্পের নির্মাণকাজে দীর্ঘসূত্রতা মোটেই কাম্য নয়। কিন্তু জবাবদিহির অভাবে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বছরের পর বছর নির্মাণকাজ চালিয়ে যেতেই যেন বেশি আগ্রহী!

দেশে এ ধরনের নির্মাণাধীন প্রকল্পে গার্ডার ধসের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০১২ সালে চট্টগ্রাম নগরীতে নির্মাণাধীন বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে ১৭ জন প্রাণ হারান। এর আগে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির কাছে নির্মাণাধীন ফুট ওভারব্রিজের বিম ধসে প্রাণ হারান অনেকে।

আমরা মনে করি, এসব স্থাপনার নির্মাণকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা যেমন প্রয়োজন, তেমনই নির্মাণকাজে দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকি হ্রাসের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সোমবার বিআরটি প্রকল্পে দুর্ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করি আমরা। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পসহ এ ধরনের কোনো প্রকল্পে যেন এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে তাদের জবাবদিহির বিষয়টিও।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন