বিপিসির অযৌক্তিক জ্বালানি নীতি, দেশীয় অকটেন উৎপাদনকে উৎসাহিত করুন
jugantor
বিপিসির অযৌক্তিক জ্বালানি নীতি, দেশীয় অকটেন উৎপাদনকে উৎসাহিত করুন

  সম্পাদকীয়  

১৯ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আমদানি করা কনডেনসেটে (অকটেনের কাঁচামাল) উৎপাদিত অকটেনের দাম ঠিক না করায় এর দেশীয় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। জানা যায়, দেশীয় রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলো গত জুন থেকে কনডেনসেট আমদানি করে রাখলেও উৎপাদনে যেতে পারছে না।

তবে দেশীয় কনডেনসেট থেকে অকটেন উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে, যা কিনছে বিপিসি। ঘাটতির বাকি অকটেন বিদেশ থেকে আমদানি করছে সংস্থাটি। ফলে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদনে দেশে যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ছিল, তা অনেকটাই নেই এখন বলা যায়।

সম্প্রতি সরকার জ্বালানি তেলের রেকর্ড পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বাড়ানো হয়েছে অকটেনের, যা প্রায় ৫২ শতাংশ। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই মূল্যবৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক বলে আসছেন। এর পেছনে যৌক্তিক কারণও রয়েছে।

বিপিসি দেশীয় কাঁচামালে উৎপাদিত প্রতি লিটার অকটেন ৫৭ টাকা দরে কিনে বিক্রি করছে ১৩৫ টাকায়। এক্ষেত্রে লাভ ৭৮ টাকা। তাদের এই অতি মুনাফার মাশুল দিতে হচ্ছে অকটেন ব্যবহারকারীদের। এ ধরনের জ্বালানি নীতি গ্রহণযোগ্য নয়।

আমরা মনে করি, বিপিসির এমন একটি জ্বালানি নীতি গ্রহণ করা উচিত, যার ফলে আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পাবে। সেক্ষেত্রে দেশীয় রিফাইনারির সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এতে বেশি পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করার পর তা দেশে পরিশোধন করে বিক্রি করা সম্ভব হবে। এর ফলে তা সাশ্রয়ী হবে। কিন্তু বিপিসি যেন আমদানিতেই বেশি আগ্রহী, যেমনটি অকটেনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বেসরকারি চারটি রিফাইনারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড দ্বারা অকটেনের চাহিদার পুরোটাই দেশে উৎপাদন সম্ভব। কাজেই বিপিসির উচিত আমদানি করা কনডেনসেটে উৎপাদিত অকটেনের দাম ঠিক করে এর দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করা।

বিপিসির অযৌক্তিক জ্বালানি নীতি, দেশীয় অকটেন উৎপাদনকে উৎসাহিত করুন

 সম্পাদকীয় 
১৯ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আমদানি করা কনডেনসেটে (অকটেনের কাঁচামাল) উৎপাদিত অকটেনের দাম ঠিক না করায় এর দেশীয় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। জানা যায়, দেশীয় রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলো গত জুন থেকে কনডেনসেট আমদানি করে রাখলেও উৎপাদনে যেতে পারছে না।

তবে দেশীয় কনডেনসেট থেকে অকটেন উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে, যা কিনছে বিপিসি। ঘাটতির বাকি অকটেন বিদেশ থেকে আমদানি করছে সংস্থাটি। ফলে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদনে দেশে যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ছিল, তা অনেকটাই নেই এখন বলা যায়।

সম্প্রতি সরকার জ্বালানি তেলের রেকর্ড পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বাড়ানো হয়েছে অকটেনের, যা প্রায় ৫২ শতাংশ। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই মূল্যবৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক বলে আসছেন। এর পেছনে যৌক্তিক কারণও রয়েছে।

বিপিসি দেশীয় কাঁচামালে উৎপাদিত প্রতি লিটার অকটেন ৫৭ টাকা দরে কিনে বিক্রি করছে ১৩৫ টাকায়। এক্ষেত্রে লাভ ৭৮ টাকা। তাদের এই অতি মুনাফার মাশুল দিতে হচ্ছে অকটেন ব্যবহারকারীদের। এ ধরনের জ্বালানি নীতি গ্রহণযোগ্য নয়।

আমরা মনে করি, বিপিসির এমন একটি জ্বালানি নীতি গ্রহণ করা উচিত, যার ফলে আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পাবে। সেক্ষেত্রে দেশীয় রিফাইনারির সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এতে বেশি পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করার পর তা দেশে পরিশোধন করে বিক্রি করা সম্ভব হবে। এর ফলে তা সাশ্রয়ী হবে। কিন্তু বিপিসি যেন আমদানিতেই বেশি আগ্রহী, যেমনটি অকটেনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বেসরকারি চারটি রিফাইনারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড দ্বারা অকটেনের চাহিদার পুরোটাই দেশে উৎপাদন সম্ভব। কাজেই বিপিসির উচিত আমদানি করা কনডেনসেটে উৎপাদিত অকটেনের দাম ঠিক করে এর দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করা।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন