ব্যাংক লুটেরাদের শাস্তি দাবি

এফবিসিসিআইয়ের সুপারিশ আমলে নিন

  সম্পাদকীয় ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই নেতৃবৃন্দ উচ্চ সুদের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংককে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন।

বস্তুত ব্যাংক ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশের মতো উচ্চসুদ আদায়ের নজির বিশ্বের আর কোথাও নেই। ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে ব্যাংকগুলোর সুদের হার ৬ শতাংশ ও সার্ভিস চার্জ নমনীয় পর্যায়ে রাখা হলেও আমাদের দেশে ঠিক এর বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনার দাবি জানালেও বিদ্যমান সুদের হার ১৬ থেকে ২১ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা মোটেই কাম্য নয়। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে একদিকে যেমন দেশে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে না, অন্যদিকে চলমান শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও সম্প্রসারিত হচ্ছে না।

ফলে সংকুচিত হচ্ছে কর্মসংস্থানের পথ। এছাড়া ঋণের উচ্চ সুদের কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এতে আমদানিকৃত পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারিয়ে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো দেউলিয়াত্বের মুখে পড়েছে, যা মেনে নেয়া কষ্টকর।

ব্যাংক ঋণ শিল্পবান্ধব না হওয়ায় উদ্যোক্তা, ব্যাংক, সর্বোপরি দেশের অর্থনীতি বিপর্য়য়ের মুখে পড়লেও এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তেমন কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। দেশের অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংকের মালিক ও পরিচালক রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালকরাও রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পান। এ কারণেই তাদের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব শিথিল কিনা- এ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

এফবিসিসিআই নেতৃবৃন্দ মনে করেন, মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে, যা নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিষয়টি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যাংকের টাকা লুটপাটকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বজায় রাখতে তাদের এ দাবির বাস্তবায়ন জরুরি। স্মর্তব্য, গত মার্চে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত ‘আর্টিকেল ফোর মিশন’ সম্পন্ন করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এ মিশনের সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ নিয়ে গত শুক্রবার সংস্থাটি যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তিনটি পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হল, শক্তিশালী প্রবিধান, কঠোর নজরদারি ও সুশাসন নিশ্চিত করা।

বিরাজমান শৃঙ্খলা ও সুশাসনের ঘাটতি কাটিয়ে উঠে ব্যাংকিং খাতকে অবশ্যই মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। তা না হলে দেশের অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চারের কাজ বিঘ্নিত হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এজন্য অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেয়া উচিত। বিগত কয়েক বছর ধরেই ব্যাংকিং খাতে সংকট চলছে, সম্প্রতি যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

এ খাতে জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ধারাবাহিকতায় বেসিক ব্যাংক থেকে অন্তত সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি এখনও আলোচিত-সমালোচিত। এর সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে ফারমার্স ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতি।

এসবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি ব্যাংক নতুন নতুন অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির জন্ম দিচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে। এ প্রেক্ষাপটে এফবিসিসিআই নেতৃবৃন্দের দাবি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনার পাশাপাশি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ব্যাংক লুটেরাদের শাস্তি নিশ্চিত করে দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা উচিত।

 

 

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.