শিক্ষকের মর্যাদা

  সামিউল ইসলাম ১২ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষকের মর্যাদা

বাংলাদেশ এখন আর গরিব নয়। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছি। মহাশূন্যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। তথ্যপ্রযুক্তিতেও এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা এখন এসব বুক ফুলিয়ে গর্বভরে বলতে পারি। হ্যাঁ, সত্যিই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।

প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র থাকাকালে পড়েছিলাম কবি কাজী কাদের নেওয়াজের ‘শিক্ষকের মর্যাদা’ কবিতা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কবিতাটি প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছি, যদিও এটি এখন আর স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে নেই। না থাকার কারণ বোধগম্য নয়। হয়তো ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষ মনে করেছে বর্তমানে এ কবিতাটি পাঠ্যপুস্তকে থাকলে শিক্ষকদের মর্যাদা দিতে হবে। তাদের দৃষ্টিতে শিক্ষকরা হয়তো মর্যাদার পাওয়ার যোগ্য নন।

অনেক শিক্ষক দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার কিংবা তারও বেশি টাকা খরচ করে শিক্ষা প্রশাসনের কর্তাদের কাছে এসে দেখা করতে পারেন না। তাদের ব্যক্তিগত সহকারীরা বলে দেন, আপনার এ সমস্যার জন্য স্যারের কাছে যেতে পারবেন না, অধস্তন কর্মকর্তাদের কাছে যান। যদি বলা হয়, অধস্তন কর্মকর্তারা তো বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না, তখন বলে দেয়া হয়, তাহলে কিছুই করার নেই, এ বিষয়ে স্যারের সঙ্গে দেখা করা যাবে না। তখন নিরীহ শিক্ষককে নিরুপায় হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। সমস্যার জায়গায় থেকে যায় সমস্যা।

শিক্ষকদের যখন-তখন সরকারি নানা কাজে (ভোটার তালিকা প্রস্তুত, আদমশুমারি, ভোট গ্রহণ ইত্যাদি) লাগানো যায়। ‘শিক্ষকের মর্যাদা’ কবিতা পাঠ্যপুস্তকে থাকলে হয়তো এসব বিষয় বিবেকে একটু নাড়া দেবে। তাই হয়তো বাদ দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সচিবরা সরকারি কোষাগার থেকে মোবাইল ফোন কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকা করে পেতে যাচ্ছেন। শুধু কি তারাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে পারবেন? মনে রাখতে হবে, দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে হলে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে শিক্ষকদের। তাদের কি সরকারিভাবে কোনো মোবাইল/ল্যাপটপ দেয়া হচ্ছে? না। তাদেরকে সামান্য বেতনের টাকা থেকে প্রতি মাসে কিছু কিছু টাকা বাঁচিয়ে অথবা ঋণ করে ল্যাপটপ কিনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠ সহজে বোধগম্য করতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনার জন্য। তারা শিক্ষার্থীদের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। তারা নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে।

শিক্ষকরা মাসে বাড়ি ভাড়া বাবদ এক হাজার টাকা পান। ঢাকা শহরে বস্তিতেও তো এক হাজার টাকায় থাকা যায় না। শিক্ষকরা কি এতই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের পাত্র? এক হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া দিয়ে কি তাদের সঙ্গে ঠাট্টা-মশকরা করা হচ্ছে না? সরকারি চাকুরেরা শতভাগ ঈদ বোনাস পান আর শিক্ষকরা পান সিকিভাগ। তাও আবার কর্তৃপক্ষের গাফলতির কারণে সবসময় ঈদের আগে তা উত্তোলন করা যায় না। শিক্ষকদের বেতন উত্তোলনের জন্য নির্ধারিত শেষদিনের আগে কোনো ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের বিলের কপি জমা নেয় না। সরকারি চাকুরেরা বৈশাখী ভাতা পেলেও ৮ম পে-স্কেল চালুর ৩ বছরের মধ্যেও হতভাগ্য শিক্ষকদের কপালে তা জোটেনি। সরকারি চাকুরেরা ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টসহ পে-স্কেলের যাবতীয় সুবিধা ভোগ করলেও বেসরকারি শিক্ষকদের মূল বেতন ছাড়া আর কিছুই বাড়েনি।

শিক্ষকরা হচ্ছেন জাতি গড়ার কারিগর। এভাবে তাদের অবজ্ঞার চোখে দেখে আমরা কখনও একটি ভালো জাতি প্রত্যাশা করতে পারি না।

সামিউল ইসলাম : শিক্ষক

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.