আবেগে জড়ানো বিশ্বকাপ

  ইফতেখার হোসেন সিদ্দিকী ১৩ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপ ফুটবল
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে দিন গুনছে। আমাদের দেশে এ উন্মাদনা মনে হয় একটু বেশিই। সবাই খেলতে না পারলেও খেলা দেখার প্রতি আগ্রহ প্রচণ্ড।

ভাবতে খারাপ লাগে, দেশে এখন খুব বেশি খেলার মাঠ নেই। মাঠ ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে বড় রাস্তা, ঘরবাড়ি। তাই আমার চারপাশের নতুন প্রজন্মের অনেককেই মাঠের অভাবে খেলতে দেখি না। রাস্তার অলিগলিতে হয়তো তারা একটু-আধটু খেলে, কিন্তু এতে কি মন ভরে? খেলার জন্য চাই উন্মুক্ত মাঠ, রাজধানী শহরে যার বড়ই অভাব।

আমরা জানি, খেলাধুলা একটি জাতির জন্য কত প্রয়োজন। ইউরোপের ছোট্ট দেশ ক্রোয়েশিয়া তো এক বিশ্বকাপ ফুটবল দিয়েই সারা বিশ্বে নিজেদের পরিচিতি বাড়িয়েছে। তারাও স্বপ্ন দেখে বিশ্বকাপ ছিনিয়ে নেয়ার।

ছোট দেশ বড় স্বপ্ন আর কী! যা হোক, এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে দেশে যেন উৎসবের আমেজ চলছে। শহরে, গ্রামেগঞ্জে বাসাবাড়ির ছাদে, মার্কেটগুলোতে উড়ছে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী কিছু দেশের পতাকা। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকাই বেশি। স্পেন, জার্মানি, পর্তুগালের পতাকাও শোভা পাচ্ছে, তবে তা সংখ্যায় কম।

রাস্তায় বের হলেই দেখা মিলছে পতাকার ফেরিওয়ালা। একজনকে জিজ্ঞেস করে জানা গেল ভালোই বিক্রি হচ্ছে, লাভও ভালো। দর্জিপাড়াগুলোতেও যেন পতাকা তৈরির ধুম পড়ে গেছে। স্কুল-কলেজগামী অনেক ছেলেমেয়েকে দেখা যাচ্ছে তাদের প্রিয় দলের জার্সি পরিহিত অবস্থায় দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে বের হতে।

রাস্তার পাশের ছোট্ট তরকারি-সবজির দোকানেও শোভা পাচ্ছে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার পতাকা। বিষয়টি এমন যে, ভিনদেশী পতাকা টানিয়েও সে যেন গর্বিত। আসলে এখানে জড়িয়ে আছে আবেগ।

জড়িয়ে আছে খেলার প্রতি ভালোবাসা। এটি হয়তো দোষের কিছু নয়, তবুও খেয়াল রাখা দরকার- বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র, আমাদেরও রয়েছে নিজস্ব জাতীয় পতাকা।

অনেক সমর্থকের পুরো বাড়ি বা ভবন দেখা যাচ্ছে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার রঙে রাঙানো হয়েছে। জার্মান সমর্থক মাগুরার আমজাদ হোসেন এবার সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মান পতাকা তৈরি করে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তিনি ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ উপলক্ষেও নিজের ৩০ শতক জমি বিক্রি করে আড়াই লাখ টাকায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মান পতাকা তৈরি করেছিলেন!

বিশ্বকাপ ফুটবলের কথা এলেই চলে আসে আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তী দিয়াগো মারাদোনার নাম। বলা যায়, ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে মারাদোনার একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

এরপর থেকেই এদেশে আর্জেন্টিনার সমর্থক বহুগুণ বেড়ে যায়। ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে ক্যামেরুনের কাছে পরাজয় বরণের পরও আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ক্যানেজিয়া ও মারাদোনার অসাধারণ পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছায় এবং ফাইনালে জার্মানির কাছে ট্রাইব্রেকারে ১-০ গোলের ব্যবধানে পরাজয় বরণ করে।

পরবর্তী সময়ে ১৯৯৪ সালের আমেরিকা বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপ লিগের ম্যাচের পরই ডোপ পরীক্ষায় ধরা পড়েন মারাদোনা, সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ থেকে হন বহিষ্কৃত।

ব্রাজিলবাসীর কাছে ফুটবল যেন ধ্যান-জ্ঞান। বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরেই পুরো জাতির স্বপ্ন-সাধনা। বিশ্বকাপের সব পর্বে অংশগ্রহণকারী একমাত্র দল হিসেবে তাদের রয়েছে অহংকার। তাছাড়া ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে আছেন কালো মানিক পেলে, যাকে ফুটবলের আরেক জীবন্ত কিংবদন্তী হিসেবে অভিহিত করা হয়। ফিফার দৃষ্টিতে সর্বকালের সেরা ফুটবলার তিনি।

ফিফার সদস্য দেশগুলোর ফুটবল র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান শেষদিকে। তাই বলা যায়, বিশ্বকাপ পর্যায়ের ফুটবল থেকে আমাদের অবস্থান আকাশ-পাতাল ব্যবধান। তবুও আমাদের স্বপ্ন- একদিন বাংলাদেশ ফুটবল দলও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করে নেবে। কারণ খেলাটির প্রতি আমাদের রয়েছে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও আবেগ।

ইফতেখার হোসেন সিদ্দিকী : প্রাবন্ধিক

[email protected]

 

 

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.