ঈদে বাড়ি ফেরা

যাত্রা নির্বিঘ্ন হোক

  সম্পাদকীয় ১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদে বাড়ি ফেরা

মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের একটি হচ্ছে ঈদুল ফিতর, অন্যটি ঈদুল আজহা। এ দুই উৎসবে রাজধানী ও অন্যান্য শহর থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নাড়ির টানে পরিবার-পরিজনসহ গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে।

আসন্ন ঈদুল ফিতরেও এর ব্যতিক্রম হবে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রতি বছর ঈদ উৎসবের আগমুহূর্ত থেকেই ঘরমুখী মানুষের মনে নিরানন্দের সুর ধ্বনিত হতে দেখা যায়। টিকিট কালোবাজারি, যানজট, ছিনতাই-ডাকাতি ও চাঁদাবাজি, জাল নোট, সড়ক ও লঞ্চপথে দুর্ঘটনা এবং শ্রমিক অসন্তোষের কারণে রাস্তা অবরোধসহ বিভিন্ন ঘটনায় জনদুর্ভোগ চরমে ওঠে।

অতীতের ঘটনা থেকে প্রমাণিত- দেশের কোনো পথই ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রার জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। সড়কপথ, নৌপথ, রেলপথ- ঈদের আগে কোথাও স্বস্তির কোনো চিত্র পরিলক্ষিত হয় না।

নির্ঝঞ্ঝাট ও নিরাপদ ভ্রমণের প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ টিকিটের জন্য বাস, লঞ্চ ও রেলস্টেশনে ভিড় জমায়। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাক্সিক্ষত গন্তব্যের টিকিট পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়ে। মূলত অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের জন্য অবৈধ পন্থায় টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এ সময় মানুষকে উচ্চমূল্যে টিকিট কিনতে বাধ্য করা হয়। ঈদের আগে এ ধরনের অনিয়ম-অব্যবস্থা মোটেই কাম্য নয়।

সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচল নির্বিঘ্ন হবে- এটাই প্রত্যাশিত। দুঃখজনক হল, এ নিয়ম বাস্তবে দেশের কোথাও পরিলক্ষিত হয় না। রাস্তার ওপর ও ফুটপাতে দোকানপাট, অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা ও ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি, খেয়ালখুশি মতো যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, মহাসড়কের ওপর ম্যাক্সি-টেম্পোস্ট্যান্ডসহ রাস্তার মাঝখানে ডাস্টবিন ও হাটবাজার স্থাপন করে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করে রাখা হয়। ফলে ঈদের সময় বাড়তি মানুষের চাপে সড়কপথগুলো স্থবির হয়ে পড়ে।

সড়ক-মহাসড়কগুলো এবারও যাতে একই রূপ ধারণ না করে, সেজন্য আগে থেকেই পদক্ষেপ নেয়া উচিত। ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের কারণে নৌপথে দুর্ঘটনা ঘটে। সুষ্ঠু তদারকির অভাব ও কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারসাজিতে বছরের পর বছর ধরে নৌপথে বিদ্যমান এ অনিয়মের দায় শোধ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, নিজেদের জীবনের বিনিময়ে।

এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হলে প্রচলিত নৌপরিবহন আইন যুগোপযোগী করার পাশাপাশি বিদ্যমান অনিয়ম দূর করার পদক্ষেপ নিতে হবে। রেলের যাত্রী হয়রানির কথা সুবিদিত। রেলপথ নিয়ে নানা ধরনের পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণের কথা শোনা গেলেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ছে না।

অতীতে দুর্ভোগ ও ঝক্কি-ঝামেলা থেকে নিস্তার মেলেনি রেল যাত্রীদের। অন্তত ঈদের সময় রেলযাত্রীদের এ ভোগান্তি যথাসম্ভব কমিয়ে আনার প্রয়াস নিতে হবে।

দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবনে এমনিতেই দুর্ভোগের অন্ত নেই। উৎসব-পার্বণে এ দুর্ভোগ যেন শতগুণ বেড়ে যায়। এর ফলে উৎসবের রঙ ফিকে হয়ে যায়। এবার যেন তেমনটি না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবার লক্ষ রাখা প্রয়োজন।

মানুষ যাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্বিঘেœ ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন, এটাই প্রত্যাশা।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.