জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
jugantor
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দিকনির্দেশনামূলক

  সম্পাদকীয়  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধ অথবা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা-পালটা নিষেধাজ্ঞার মতো বৈরী পন্থা কখনো কোনো জাতির মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। পারস্পরিক আলাপ-আলোচনাই সংকট ও বিরোধ নিষ্পত্তির সর্বোত্তম উপায়। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, জাতিসংঘের এ অধিবেশন এমন একসময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, সহিংসতা ও সংঘাত, কোভিড-১৯ মহামারির মতো একাধিক জটিল এবং বহুমাত্রিক প্রতিকূলতায় পৃথিবী জর্জরিত। আড়াই বছর পর বিশ্ব যখন করোনাভাইরাস মহামারির বিধ্বংসী প্রভাব থেকে পুনরুদ্ধার হতে শুরু করল, তখন রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বিশ্বকে বড় অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত করেছে। তিনি বলেন, আমাদের প্রমাণ করতে হবে-সংকটের মুহূর্তে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো জাতিসংঘ। তাই সর্বস্তরের জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনের জন্য জাতিসংঘকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সবার প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক জলবায়ু কার্যক্রমের প্রসারের জন্য বিশ্বনেতাদের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব। তিনি বলেন, জলবায়ু নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া আর ভাঙার একটি দুষ্টচক্র আমরা অতীতে দেখেছি। আমাদের এখনই এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। একটি দায়িত্বশীল সদস্য রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ তার জনগণের মানবাধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন-জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক অধিকার নিশ্চিতে সামগ্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে সাইবার অপরাধ এবং সাইবার সহিংসতা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক বাধ্যতামূলক চুক্তি প্রণয়নে একসঙ্গে কাজ করার জন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন-দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মূল কারণগুলোর সমাধান ব্যতীত টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ গভীর তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা দেখেছি-বিশ্ব যখন করোনা মহামারির অভিঘাত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় রত, তখনই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এ যুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি; অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বাস্তবায়ন। কাজেই এ সংকট থেকে উত্তরণের একটি উপায় খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বস্তুত প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে উত্তরণের উপায় কী হতে পারে, তার একটি দিকনির্দেশনাও প্রদান করেছেন। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমরা দেখেছি, বিশ্বের অন্যতম খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী এ দুটি দেশ থেকে অন্য দেশে খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছিল। পরে এ সংকট কিছুটা কাটলেও খাদ্য সংকট পরিস্থিতি এখনো অব্যাহত আছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে সারা বিশ্বে বৃদ্ধি পেয়েছে খাদ্যের দাম। নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববাণিজ্যের ক্ষেত্রেও। হুমকির মুখে পড়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা। আর এসবের ফলে সবচেয়ে সংকটে পড়েছে নিু ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো এবং এর জনগণ। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আলোকে জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতাদের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দিকনির্দেশনামূলক
 সম্পাদকীয় 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধ অথবা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা-পালটা নিষেধাজ্ঞার মতো বৈরী পন্থা কখনো কোনো জাতির মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। পারস্পরিক আলাপ-আলোচনাই সংকট ও বিরোধ নিষ্পত্তির সর্বোত্তম উপায়। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, জাতিসংঘের এ অধিবেশন এমন একসময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, সহিংসতা ও সংঘাত, কোভিড-১৯ মহামারির মতো একাধিক জটিল এবং বহুমাত্রিক প্রতিকূলতায় পৃথিবী জর্জরিত। আড়াই বছর পর বিশ্ব যখন করোনাভাইরাস মহামারির বিধ্বংসী প্রভাব থেকে পুনরুদ্ধার হতে শুরু করল, তখন রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বিশ্বকে বড় অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত করেছে। তিনি বলেন, আমাদের প্রমাণ করতে হবে-সংকটের মুহূর্তে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো জাতিসংঘ। তাই সর্বস্তরের জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনের জন্য জাতিসংঘকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সবার প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক জলবায়ু কার্যক্রমের প্রসারের জন্য বিশ্বনেতাদের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব। তিনি বলেন, জলবায়ু নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া আর ভাঙার একটি দুষ্টচক্র আমরা অতীতে দেখেছি। আমাদের এখনই এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। একটি দায়িত্বশীল সদস্য রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ তার জনগণের মানবাধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন-জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক অধিকার নিশ্চিতে সামগ্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে সাইবার অপরাধ এবং সাইবার সহিংসতা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক বাধ্যতামূলক চুক্তি প্রণয়নে একসঙ্গে কাজ করার জন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন-দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মূল কারণগুলোর সমাধান ব্যতীত টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ গভীর তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা দেখেছি-বিশ্ব যখন করোনা মহামারির অভিঘাত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় রত, তখনই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এ যুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি; অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বাস্তবায়ন। কাজেই এ সংকট থেকে উত্তরণের একটি উপায় খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বস্তুত প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে উত্তরণের উপায় কী হতে পারে, তার একটি দিকনির্দেশনাও প্রদান করেছেন। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমরা দেখেছি, বিশ্বের অন্যতম খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী এ দুটি দেশ থেকে অন্য দেশে খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছিল। পরে এ সংকট কিছুটা কাটলেও খাদ্য সংকট পরিস্থিতি এখনো অব্যাহত আছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে সারা বিশ্বে বৃদ্ধি পেয়েছে খাদ্যের দাম। নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববাণিজ্যের ক্ষেত্রেও। হুমকির মুখে পড়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা। আর এসবের ফলে সবচেয়ে সংকটে পড়েছে নিু ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো এবং এর জনগণ। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আলোকে জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতাদের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন