হরিষে বিষাদ
jugantor
হরিষে বিষাদ
সতর্কতা অবলম্বনের বিকল্প নেই

  সম্পাদকীয়  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোববার হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আগমনি বার্তা তথা মহালয়ায় চারদিক যখন আনন্দমুখর, তখনই পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এদিন করোতোয়া নদীতে যাত্রীবোঝাই নৌকাডুবির ঘটনা মহালয়ার আনন্দকে পরিণত করে বিষাদে। এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় ৩৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ৫০ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করছেন স্বজনরা। জানা যায়, শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে মাড়েয়া ইউনিয়নের বদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বীর লোকজন। নৌকায় যাত্রী ছিল অস্বাভাবিক বেশি। ঘাট থেকে ছেড়ে কিছু দূরে যেতেই বিকল হয়ে যায় নৌকার শ্যালো ইঞ্জিন। নদীতে ছিল তীব্র স্রোত। এতে ভারসাম্য হারিয়ে নৌকাটি নিমিষেই তলিয়ে যায় পানিতে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনই নৌকাডুবির কারণ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। অবশ্য ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। নৌকাডুবিতে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারবর্গের প্রতি রইল আমাদের সমবেদনা।

নদীমাতৃক এ দেশে নৌকাডুবির ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তবে নৌকাডুবিতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে কদাচিৎ। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরেই নৌকাডুবির একটি বড় ঘটনার কথা আমাদের মনে আছে। সেসময় নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় এক নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণ হারান অন্তত ১০ জন। এর কিছুদিন আগে নেত্রকোনাতেই একটি শ্যালোচালিত নৌকা ডুবে প্রাণ হারান ১৭ জন। দেখা যাচ্ছে, এবার পঞ্চগড়ের বোদায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির সংখ্যা সে তুলনায় অনেক বেশি।

প্রতিটি মৃত্যুই প্রিয়জনের কাছে বেদনার। দুর্ঘটনার মৃত্যু আরও বেশি কষ্টের। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌযান, বিশেষত নৌকা অন্যতম পরিবহণ মাধ্যম। গ্রামাঞ্চল, বিশেষত নদীসংলগ্ন স্থানের মানুষ নৌকায় যাতায়াত করে থাকেন বেশি। সাধারণত তারাই বেশি নৌকাডুবির শিকার হন। দেশে শুধু নৌকাডুবি নয়, লঞ্চডুবির ঘটনাও ঘটছে অনেক। এসব থেকে রেহাই পেতে একটাই কথা-যাত্রী ও চালক উভয়কেই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নৌকা ও লঞ্চডুবির একটি বড় কারণ ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন। চালকের দোষেও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। সাধারণ মানুষ ও কর্তৃপক্ষ যদি সতর্ক থাকে, তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত এসব দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। সাধারণত দেখা যায়, আনন্দ-উৎসবে ভ্রমণের নৌকাগুলোই বেশি ডুবে থাকে। আনন্দ-ফুর্তি করতে গিয়ে নৌকার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়ে তা ডুবে যায়। এজন্য আনন্দভ্রমণের সময় নৌকার যাত্রীদের হই-হুল্লোড় করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আবহাওয়া বুঝে নৌকা চালানোও একটি অবশ্য পালনীয় কর্তব্য।

হরিষে বিষাদ

সতর্কতা অবলম্বনের বিকল্প নেই
 সম্পাদকীয় 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোববার হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আগমনি বার্তা তথা মহালয়ায় চারদিক যখন আনন্দমুখর, তখনই পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এদিন করোতোয়া নদীতে যাত্রীবোঝাই নৌকাডুবির ঘটনা মহালয়ার আনন্দকে পরিণত করে বিষাদে। এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় ৩৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ৫০ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করছেন স্বজনরা। জানা যায়, শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে মাড়েয়া ইউনিয়নের বদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বীর লোকজন। নৌকায় যাত্রী ছিল অস্বাভাবিক বেশি। ঘাট থেকে ছেড়ে কিছু দূরে যেতেই বিকল হয়ে যায় নৌকার শ্যালো ইঞ্জিন। নদীতে ছিল তীব্র স্রোত। এতে ভারসাম্য হারিয়ে নৌকাটি নিমিষেই তলিয়ে যায় পানিতে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনই নৌকাডুবির কারণ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। অবশ্য ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। নৌকাডুবিতে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারবর্গের প্রতি রইল আমাদের সমবেদনা।

নদীমাতৃক এ দেশে নৌকাডুবির ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তবে নৌকাডুবিতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে কদাচিৎ। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরেই নৌকাডুবির একটি বড় ঘটনার কথা আমাদের মনে আছে। সেসময় নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় এক নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণ হারান অন্তত ১০ জন। এর কিছুদিন আগে নেত্রকোনাতেই একটি শ্যালোচালিত নৌকা ডুবে প্রাণ হারান ১৭ জন। দেখা যাচ্ছে, এবার পঞ্চগড়ের বোদায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির সংখ্যা সে তুলনায় অনেক বেশি।

প্রতিটি মৃত্যুই প্রিয়জনের কাছে বেদনার। দুর্ঘটনার মৃত্যু আরও বেশি কষ্টের। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌযান, বিশেষত নৌকা অন্যতম পরিবহণ মাধ্যম। গ্রামাঞ্চল, বিশেষত নদীসংলগ্ন স্থানের মানুষ নৌকায় যাতায়াত করে থাকেন বেশি। সাধারণত তারাই বেশি নৌকাডুবির শিকার হন। দেশে শুধু নৌকাডুবি নয়, লঞ্চডুবির ঘটনাও ঘটছে অনেক। এসব থেকে রেহাই পেতে একটাই কথা-যাত্রী ও চালক উভয়কেই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নৌকা ও লঞ্চডুবির একটি বড় কারণ ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন। চালকের দোষেও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। সাধারণ মানুষ ও কর্তৃপক্ষ যদি সতর্ক থাকে, তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত এসব দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। সাধারণত দেখা যায়, আনন্দ-উৎসবে ভ্রমণের নৌকাগুলোই বেশি ডুবে থাকে। আনন্দ-ফুর্তি করতে গিয়ে নৌকার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়ে তা ডুবে যায়। এজন্য আনন্দভ্রমণের সময় নৌকার যাত্রীদের হই-হুল্লোড় করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আবহাওয়া বুঝে নৌকা চালানোও একটি অবশ্য পালনীয় কর্তব্য।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন