নিত্যপণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি: অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে গতি সঞ্চার জরুরি
jugantor
নিত্যপণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি: অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে গতি সঞ্চার জরুরি

  সম্পাদকীয়  

০১ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যের ভিত্তিতে করা বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গবেষণায় মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যবহৃত ১১টি নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন সেবার মূল্য এক বছরের ব্যবধানে সর্বনিম্ন ৭ থেকে সর্বোচ্চ ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

এর মধ্যে রয়েছে চাল, ডিম, মাংস, সবজি, ভোজ্যতেল, বিবিধ খাদ্যপণ্য, কোমল পানীয়, কাপড় ও জুতা এবং বাসা ভাড়া ও জ্বালানি। এছাড়া গৃহসামগ্রী, গণপরিবহণ, বিনোদন ও শিক্ষা এবং বিবিধ পণ্য ও সেবাও রয়েছে এ তালিকায়।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এসব পণ্য ও সেবার দাম বহুলাংশে বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মানুষের আয় মোটেই বাড়েনি। এ অবস্থায় জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে আপস করে জীবিকা নির্বাহ করছে দেশের সিংহভাগ মানুষ।

গত মাসে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশে পৌঁছার আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলা হয়েছিল-মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে বাংলাদেশ, যা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সবকিছুর ওপর; উপরন্তু মুদ্রাবাজারেও লক্ষ করা যাচ্ছে অস্থিরতা।

এ অবস্থায় পরিকল্পিত মুদ্রানীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। সরকার অবশ্য সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশে এ বছর চালের উৎপাদন কম হয়েছে; বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আমনের চাষ নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে। এতে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা যায়।

অর্থবছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে তা ধরে রাখা যায়নি। সরকারের তরফ থেকে এর পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে বলা হচ্ছে, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশেও মূল্যস্ফীতি হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য হলো, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তা সমন্বয় করতে দেশেও এর দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে অনিবার্যভাবে পণ্য ও সেবা খাতের ব্যয় বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির হারে উল্লম্ফন ঘটিয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যেই জনজীবনে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করেছে। করোনার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের আয়ের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অনেকে কাজ হারিয়েছেন, অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। এতে আয় কমেছে দেশের একটি বড় অংশের মানুষের। এ অবস্থায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে গতি সঞ্চার করা জরুরি।

এটা সত্য, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি সারা বিশ্বেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। আমেরিকায় ৪৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। জার্মানির মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ২৯ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। দেশে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে-সরকারের তরফ থেকে এমনটি বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বাস্তবতার সঙ্গে সরকারের বক্তব্যের যথেষ্ট ফারাক রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রকৃত অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে যাতে বিপর্যয় নেমে না আসে, সেজন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার আরও মনোযোগী হবে, এটাই প্রত্যাশা।

নিত্যপণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি: অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে গতি সঞ্চার জরুরি

 সম্পাদকীয় 
০১ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যের ভিত্তিতে করা বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গবেষণায় মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যবহৃত ১১টি নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন সেবার মূল্য এক বছরের ব্যবধানে সর্বনিম্ন ৭ থেকে সর্বোচ্চ ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

এর মধ্যে রয়েছে চাল, ডিম, মাংস, সবজি, ভোজ্যতেল, বিবিধ খাদ্যপণ্য, কোমল পানীয়, কাপড় ও জুতা এবং বাসা ভাড়া ও জ্বালানি। এছাড়া গৃহসামগ্রী, গণপরিবহণ, বিনোদন ও শিক্ষা এবং বিবিধ পণ্য ও সেবাও রয়েছে এ তালিকায়।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এসব পণ্য ও সেবার দাম বহুলাংশে বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মানুষের আয় মোটেই বাড়েনি। এ অবস্থায় জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে আপস করে জীবিকা নির্বাহ করছে দেশের সিংহভাগ মানুষ।

গত মাসে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশে পৌঁছার আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলা হয়েছিল-মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে বাংলাদেশ, যা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সবকিছুর ওপর; উপরন্তু মুদ্রাবাজারেও লক্ষ করা যাচ্ছে অস্থিরতা।

এ অবস্থায় পরিকল্পিত মুদ্রানীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। সরকার অবশ্য সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশে এ বছর চালের উৎপাদন কম হয়েছে; বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আমনের চাষ নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে। এতে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা যায়।

অর্থবছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে তা ধরে রাখা যায়নি। সরকারের তরফ থেকে এর পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে বলা হচ্ছে, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশেও মূল্যস্ফীতি হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য হলো, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তা সমন্বয় করতে দেশেও এর দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে অনিবার্যভাবে পণ্য ও সেবা খাতের ব্যয় বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির হারে উল্লম্ফন ঘটিয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যেই জনজীবনে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করেছে। করোনার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের আয়ের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অনেকে কাজ হারিয়েছেন, অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। এতে আয় কমেছে দেশের একটি বড় অংশের মানুষের। এ অবস্থায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে গতি সঞ্চার করা জরুরি।

এটা সত্য, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি সারা বিশ্বেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। আমেরিকায় ৪৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। জার্মানির মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ২৯ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। দেশে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে-সরকারের তরফ থেকে এমনটি বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বাস্তবতার সঙ্গে সরকারের বক্তব্যের যথেষ্ট ফারাক রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রকৃত অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে যাতে বিপর্যয় নেমে না আসে, সেজন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার আরও মনোযোগী হবে, এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন