রাজনৈতিক সহিংসতা
jugantor
রাজনৈতিক সহিংসতা
সংঘাত নয়, সহনশীলতাই কাম্য

  সম্পাদকীয়  

০২ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত নয় মাসে দেশে রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে মোট ৩৮৭টি। এতে নিহত হয়েছেন ৫৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৪০০ জন। এ পরিসংখ্যান সঠিক হয়ে থাকলে তা উদ্বেগজনক বৈকি। আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনসহ রাজনৈতিক কারণে দেশের প্রায় সব জেলায় এসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন-ভবিষ্যতে, বিশেষ করে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তেমনটি ঘটলে তা হবে দেশ ও জনগণের জন্য অশুভ ও অকল্যাণকর, যা বলাই বাহুল্য। বস্তুত ইতোমধ্যেই এ লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় উভয় দলের রাজনীতিকদের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া জরুরি। আমরা জানি, বিশ্ব একটি অর্থনৈতিক সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলার মধ্যেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে, এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। অথচ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুভবুদ্ধি উদয়ের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে না। বিষয়টি হতাশাজনক।

আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যা সমাধানের উদ্যোগকেই শ্রেয় বলে মনে করি আমরা। বস্তুত পরস্পরের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো যদি আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসা যায় এবং সেখানে সমাধানের পথ খোঁজা হয়, তাহলে রাজনীতিতে সংঘাত, সংঘর্ষ ও নৈরাজ্য হ্রাস পেতে বাধ্য। অনেকে মনে করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার সম্পর্ক বৈরিতায় পর্যবসিত হওয়ায় দেশে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন হুমকির মুখে পড়েছে। গত দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে বৈরী সম্পর্ক চলছে, তা দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে। দেশে সমঝোতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হলে এ অবস্থার অবসান ঘটবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক দলগুলো যদি প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণতার রাজনীতি পরিহার করে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে উন্নয়ন আরও বেগবান হবে, যা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

সংঘাত-সহিংসতার পথ ধরে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হতে পারে, যা কারও কাম্য নয়। সহিংস পরিস্থিতিতে কেবল সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না; অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম এবং দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ সরকারের রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাছাড়া সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাত ও রফতানিমুখী শিল্প ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় এসব শিল্পের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার শ্রমিকের ভাগ্য হয়ে পড়বে অনিশ্চিত। সবচেয়ে বড় কথা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম না হলে বিনিয়োগ ও উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে না। এসব বিষয় মাথায় রেখে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে সবাই সহনশীলতার পরিচয় দেবেন, এটাই প্রত্যাশা।

রাজনৈতিক সহিংসতা

সংঘাত নয়, সহনশীলতাই কাম্য
 সম্পাদকীয় 
০২ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত নয় মাসে দেশে রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে মোট ৩৮৭টি। এতে নিহত হয়েছেন ৫৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৪০০ জন। এ পরিসংখ্যান সঠিক হয়ে থাকলে তা উদ্বেগজনক বৈকি। আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনসহ রাজনৈতিক কারণে দেশের প্রায় সব জেলায় এসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন-ভবিষ্যতে, বিশেষ করে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তেমনটি ঘটলে তা হবে দেশ ও জনগণের জন্য অশুভ ও অকল্যাণকর, যা বলাই বাহুল্য। বস্তুত ইতোমধ্যেই এ লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় উভয় দলের রাজনীতিকদের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া জরুরি। আমরা জানি, বিশ্ব একটি অর্থনৈতিক সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলার মধ্যেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে, এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। অথচ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুভবুদ্ধি উদয়ের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে না। বিষয়টি হতাশাজনক।

আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যা সমাধানের উদ্যোগকেই শ্রেয় বলে মনে করি আমরা। বস্তুত পরস্পরের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো যদি আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসা যায় এবং সেখানে সমাধানের পথ খোঁজা হয়, তাহলে রাজনীতিতে সংঘাত, সংঘর্ষ ও নৈরাজ্য হ্রাস পেতে বাধ্য। অনেকে মনে করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার সম্পর্ক বৈরিতায় পর্যবসিত হওয়ায় দেশে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন হুমকির মুখে পড়েছে। গত দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে বৈরী সম্পর্ক চলছে, তা দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে। দেশে সমঝোতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হলে এ অবস্থার অবসান ঘটবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক দলগুলো যদি প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণতার রাজনীতি পরিহার করে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে উন্নয়ন আরও বেগবান হবে, যা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

সংঘাত-সহিংসতার পথ ধরে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হতে পারে, যা কারও কাম্য নয়। সহিংস পরিস্থিতিতে কেবল সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না; অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম এবং দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ সরকারের রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাছাড়া সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাত ও রফতানিমুখী শিল্প ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় এসব শিল্পের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার শ্রমিকের ভাগ্য হয়ে পড়বে অনিশ্চিত। সবচেয়ে বড় কথা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম না হলে বিনিয়োগ ও উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে না। এসব বিষয় মাথায় রেখে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে সবাই সহনশীলতার পরিচয় দেবেন, এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন