চালের বাজারে অব্যাহত অস্থিরতা
jugantor
চালের বাজারে অব্যাহত অস্থিরতা
বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

০২ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকায় চালের বাজারের অস্থিরতা কমছে না। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চালের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও এক্ষেত্রে সরকারের কোনো উদ্যোগেরই সুফল মিলছে না। মিলারদের কারসাজিতে ফের বেড়েছে চালের দাম। গত দুই মাস ধরে নানা অজুহাতে বাড়ানো হচ্ছে চালের দাম। ধানের দাম বেশি, সরবরাহ কম-মিলারদের এমন অজুহাতের শেষ নেই। এবার এক মাসের ব্যবধানে মিল পর্যায়ে প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) চালের দাম ২০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম আবারও হু-হু করে বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। চালসহ নিত্যপণ্য ক্রয় করতে ক্রেতার হাঁসফাঁস অবস্থার সৃষ্টি হলেও তা দেখার যেন কেউ নেই।

দুই মাস আগে মিলারদের কারণেই অস্থির হয়ে ওঠে চালের বাজার। তখন বাজার স্বাভাবিক রাখতে ১০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং জোরদারের পাশাপাশি দুদফা চালের আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। এ ছাড়া স্বল্পমূল্যের ওএমএসের প্রভাবে বাজারে চালের চাহিদা কমেছে। এ অবস্থায়ও মিলাররা কারসাজি করে চালের বাজার অস্থির করে তুলেছে। বস্তুত চাল নিয়ে দেশে এমন জটিলতা গত এক যুগে কখনোই তৈরি হয়নি। একদিকে দেশে গত কয়েকটি মৌসুমে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি; অন্যদিকে শুল্ক কমিয়ে বেসরকারি খাতকে চাল আমদানির সুযোগ দিয়েও সুফল পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন হলো, মানুষকে জিম্মি করে চালবাজরা আর কতদিন অনৈতিক ব্যবসা চালিয়ে যাবে? গরিব মানুষ এখন অনেক জরুরি পণ্য না কিনেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছে। লক্ষ করা যাচ্ছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির করে তুললেও বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর তৎপরতা একেবারেই দৃশ্যমান নয়। অভিযোগ রয়েছে, বাজার পর্যবেক্ষণে জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের যোগসাজশের কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। এসব ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নীরব কেন?

অসাধু ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফা করতে সুযোগ খোঁজে। অজুহাত পেলেই তারা তা কাজে লাগিয়ে ভোক্তার পকেট কাটে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। মানুষ তার আয়ের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ব্যয় করে খাদ্য খাতে। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষ চাল-আটা কিনতেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে থাকে। কাজেই চাল-আটার দামের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনমান। চালসহ নিত্যপণ্য নিয়ে কেউ যাতে কারসাজি করতে না পারে, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

চালের বাজারে অব্যাহত অস্থিরতা

বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে
 সম্পাদকীয় 
০২ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকায় চালের বাজারের অস্থিরতা কমছে না। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চালের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও এক্ষেত্রে সরকারের কোনো উদ্যোগেরই সুফল মিলছে না। মিলারদের কারসাজিতে ফের বেড়েছে চালের দাম। গত দুই মাস ধরে নানা অজুহাতে বাড়ানো হচ্ছে চালের দাম। ধানের দাম বেশি, সরবরাহ কম-মিলারদের এমন অজুহাতের শেষ নেই। এবার এক মাসের ব্যবধানে মিল পর্যায়ে প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) চালের দাম ২০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম আবারও হু-হু করে বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। চালসহ নিত্যপণ্য ক্রয় করতে ক্রেতার হাঁসফাঁস অবস্থার সৃষ্টি হলেও তা দেখার যেন কেউ নেই।

দুই মাস আগে মিলারদের কারণেই অস্থির হয়ে ওঠে চালের বাজার। তখন বাজার স্বাভাবিক রাখতে ১০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং জোরদারের পাশাপাশি দুদফা চালের আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। এ ছাড়া স্বল্পমূল্যের ওএমএসের প্রভাবে বাজারে চালের চাহিদা কমেছে। এ অবস্থায়ও মিলাররা কারসাজি করে চালের বাজার অস্থির করে তুলেছে। বস্তুত চাল নিয়ে দেশে এমন জটিলতা গত এক যুগে কখনোই তৈরি হয়নি। একদিকে দেশে গত কয়েকটি মৌসুমে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি; অন্যদিকে শুল্ক কমিয়ে বেসরকারি খাতকে চাল আমদানির সুযোগ দিয়েও সুফল পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন হলো, মানুষকে জিম্মি করে চালবাজরা আর কতদিন অনৈতিক ব্যবসা চালিয়ে যাবে? গরিব মানুষ এখন অনেক জরুরি পণ্য না কিনেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছে। লক্ষ করা যাচ্ছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির করে তুললেও বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর তৎপরতা একেবারেই দৃশ্যমান নয়। অভিযোগ রয়েছে, বাজার পর্যবেক্ষণে জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের যোগসাজশের কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। এসব ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নীরব কেন?

অসাধু ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফা করতে সুযোগ খোঁজে। অজুহাত পেলেই তারা তা কাজে লাগিয়ে ভোক্তার পকেট কাটে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। মানুষ তার আয়ের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ব্যয় করে খাদ্য খাতে। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষ চাল-আটা কিনতেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে থাকে। কাজেই চাল-আটার দামের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনমান। চালসহ নিত্যপণ্য নিয়ে কেউ যাতে কারসাজি করতে না পারে, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন