বাসে ঈদ সেলামির নামে চাঁদাবাজি

  রজত আর্য ১৯ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাসে ঈদ সেলামির নামে চাঁদাবাজি

ঈদের দু’দিন আগের কথা। শাহবাগ থেকে ফার্মগেট অফিসে যাব। ঈদ উদযাপনের জন্য মানুষ ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যাওয়ায় ফাঁকা হচ্ছে রাজধানী। ফলে রাজপথে গণপরিবহনের সংখ্যা খুবই কম।

অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাসে উঠেছি। বাসের হেল্পার যথারীতি ভাড়া চাইতে এলো। শাহবাগ থেকে ফার্মগেটের ন্যায্য ভাড়াটাই তাকে দিলাম। কিন্তু সে আমাকে অবাক করে দিয়ে শাহবাগ-ফার্মগেট ২০ টাকা ভাড়া চেয়ে বসল।

আমি তাদের ব্যাপারটা বুঝে গেলাম। ঈদের সেলামির পরিবর্তে এরা চাঁদাবাজি শুরু করেছে। আমি নাছোড়বান্দা। কিছুতেই তার দাবিকৃত অন্যায্য ভাড়া দেব না।

বাসে দাঁড়িয়েই ব্যাপারটা খেয়াল করলাম। সব যাত্রীর কাছেই সে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দাবি করছে। যারা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে আপত্তি জানাচ্ছে, তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। যারা গাবতলী বা এর কাছাকাছি এলাকায় যাচ্ছে সেসব যাত্রীই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশি।

৩০-৩৫ টাকার ভাড়া ৭০-৮০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে নিচ্ছে। যে ১০০ টাকার নোট দিচ্ছে তার সবটাই যাচ্ছে গচ্চা। এটি স্পষ্ট চাঁদাবাজি।

আমি হেল্পারকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করায় সে বলল, এই সময় বাস মালিকের কাছ থেকে বাস নেয়ার জন্য প্রতিদিনের চেয়ে পাঁচ হাজার টাকা বেশি দিতে হবে। তাই সে সবার কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ অর্থাৎ অন্যায্য ভাড়া দাবি করছে।

আমি তাকে বলি- বিআরটিসির প্রধান কেন্দ্রে এ ব্যাপারে কথা বলব আসলেই তারা বাসের বিনিময়ে চালক-হেল্পারদের কাছ থেকে অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি টাকা নিচ্ছে কিনা। এ কথা শোনার পর বাসের হেল্পার নির্ধারিত ভাড়া নিয়েই চলে যায়।

বুধবার রাজধানীর সায়েদাবাদে সাংবাদিকদের ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার দাবি করেন, ঈদ উপলক্ষে বাসে বাড়তি ভাড়ার নামে কোথাও নীরব চাঁদাবাজি চলছে না। পুলিশ রাজপথে তৎপর আছে।

যদিও ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, এসব নীরব চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে; তবে সাধারণ যাত্রীরা এসব ব্যাপারে জানেই না।

ফলে তারা বাসের হেল্পারদের জোরজবরদস্তি ও ব্ল্যাকমেইলের কারণে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ রাজধানীর মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্স আছে। সেখানে তারা অনায়াসেই অভিযোগ ও বিড়ম্বনার কথা জানাতে পারে। কিন্তু যাত্রাপথে ভোগান্তি চান না বলে তারা বাসের হেল্পারদের অন্যায্য দাবি মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তাদের মনিটরিংয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি। কারণ অধিকাংশ যাত্রীই যাত্রাপথের এরকম চাঁদাবাজির ব্যাপারে তাদের করণীয় সম্পর্কে জানে না।

যদিও অভিযোগ ছাড়া পুলিশ কর্মকর্তাদের অসাধু বাসের চালক-হেল্পারদের বিরুদ্ধে কিছুই করার নেই; তবু রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে হেল্পারদের চাঁদাবাজি রুখতে পুলিশের পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণ কিংবা মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা উচিত যাতে সাধারণ মানুষ এ ব্যাপারে সচেতন থাকে।

সর্বোপরি আগে নিজেকে সচেতন করতে হবে। কোনো অন্যায়কেই ছাড় দেয়া যাবে না, যা আপনাকে প্রতারিত করতে পারে। অতএব যাত্রাপথে চাঁদাবাজি রুখতে সোচ্চার হোন।

রজত আর্য : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

r[email protected]

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.