সাধ বনাম সাধ্য

  তুফান মাজহার খান ২০ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাধ বনাম সাধ্য
প্রতীকী ছবি

আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি। কেউ বাড়ির স্বপ্ন, কেউ গাড়ির স্বপ্ন, আবার কেউবা দেখি ক্ষমতা আর প্রভাব-প্রতিপত্তির স্বপ্ন। আমরা স্বপ্ন দেখি বলেই সফলতার পথে হাঁটতে পারি।

সফলতার মূলমন্ত্রই হল স্বপ্ন। যে স্বপ্ন দেখতে জানে না, সে সফলতার দেখা পায় না। স্বপ্নই মানুষকে সফল হওয়ার প্রেরণা দেয়। কেউ কেউ এমনও বলে থাকে, স্বপ্নই নাকি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।

যা হোক, স্বপ্ন দেখা পাপ নয়। তবে আমরা প্রায়ই যে ভুলটি করি সেটা হল স্বপ্ন আর বাস্তবতার আকাশ-পাতাল ব্যবধান করে ফেলি। আমার দ্বারা যে স্বপ্নটি সফল হবে না বা সফল করা সম্ভব নয়, জেনেও যখন আমরা সেসব স্বপ্নকে লালন করতে থাকি, তখন তা আমাদের জন্য হয়ে দাঁড়ায় নেতিবাচক।

এটা সুফলের পরিবর্তে কুফলই বয়ে আনে আমাদের জীবনে। সেসব স্বপ্নকে আমরা বলি অলীক স্বপ্ন। অর্থাৎ এ স্বপ্ন কখনই সফল করা সম্ভব নয় জেনেও আমরা তা দেখতে থাকি। অলীক স্বপ্ন মানুষকে সুখী করে না, বরং দুঃখ আর না পাওয়ার হাহাকারে জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে।

মনে করুন, আপনার পকেটে দশ টাকা আছে। কিন্তু আপনি স্বপ্ন দেখছেন ফাইভ স্টার হোটেলে খাওয়ার। এটা কি আদৌ সম্ভব? অবশ্যই না। সেটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই হবে না।

আপনাকে বেলা শেষে তখন মুড়ি খেতে খেতেই বাড়ি ফিরতে হবে। অথচ আপনি যদি সেই দশ টাকাকে কাজে লাগিয়ে বিশ টাকা বানাতে পারতেন, তাহলে অন্তত কিছুটা লাভবান হতেন। ফাইভ স্টার হোটেলের দিকে তাকিয়ে থেকে সময়ও নষ্ট করতে হতো না আর আফসোসের ঝোলা কাঁধে নিয়ে ঘরেও ফিরতে হতো না।

কিছু মানুষ আছে যারা মাস শেষে অল্প টাকা বেতন পাওয়া সত্ত্বেও তাদের চাহিদা থাকে অনেক। হাতে টাকা থাকাকালীন বেহিসাবি খাওয়া-দাওয়া আর চলাফেরা করে মাসের অর্ধেক পার হতে না হতেই বেতনের টাকা সাবাড় করে ফেলে। তখন করতে হয় ঋণ। অবশ্য প্রতি মাসে ঋণ করারও ব্যবস্থা থাকে না। তখন নুন আর পানতা খেয়ে দিনাতিপাত করতে হয়। অথচ সেই টাকা বেহিসাবি খরচ না করে প্রথম থেকেই যদি সাধ্য অনুযায়ী পরিমিত খরচ করা হতো তবে পুরো মাস কিন্তু মোটামুটি ভালোই চলে যেত। ভাগ্য ভালো থাকলে কিছু টাকা বেঁচেও যেতে পারত।

সবসময় আমাদের সাধ আর সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় থাকা উচিত। সাধ্যের চেয়ে বেশি সাধ থাকলে শেষে কষ্টকেই বরণ করতে হয়। মূল কথা হল, মাসের প্রথম দিকে পকেট গরম থাকে বলে বিবেচনাহীনভাবে খরচ করতে হবে এমন কোনো কথা নেই।

যদি পরিমিত খরচ করে মাসের প্রথম থেকেই চলা যায়, তাহলে কিন্তু অনায়াসে কোনোরকম কষ্ট-ক্লেশ ছাড়াই মাস কাটিয়ে দেয়া যায়। পকেটে টাকা না থাকলে যেমন মন ভালো থাকে না, তেমনি দুটো টাকা পাওয়ার জন্য অনেকে অনেক অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তেও দ্বিধাবোধ করে না।

আবার শুধু পকেট খালি থাকার কারণেই কেউ অনৈতিক কাজে জড়ায় তা নয়। বিশেষ কোনো চাহিদা থাকলে অথবা সাধ যদি সাধ্যের চেয়ে বেশি থাকে তাহলেও একজন মানুষ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারে।

তাই প্রত্যেক মানুষের সাধ অবশ্যই সাধ্য অনুযায়ী হওয়া বাঞ্ছনীয়। এতে করে যেমন সবাই সুখে থাকবে তেমনি দেশ থাকবে নিরাপদ।

তুফান মাজহার খান : প্রাবন্ধিক, ডেমরা, ঢাকা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter