প্রকল্পে বাড়তি ব্যয়: নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে
jugantor
প্রকল্পে বাড়তি ব্যয়: নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৯ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্ধারিত সময়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে এর জন্য কী পরিমাণ খেসারত দিতে হয়, এর একটি ধারণা পাওয়া যায় গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত শীর্ষ প্রতিবেদনে। এ প্রতিবেদনে হিসাব করে দেখানো হয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১০টি প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় এখন পর্যন্ত প্রকল্পগুলোর অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৪৪১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যা দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ ব্যয়ের সমান।

বলা হয়েছে, এজন্য দায়ী মূলত দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতি, নকশায় ত্রুটি, সঠিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই না করা, পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়া এবং যথাসময়ে অর্থ না পাওয়া। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনের ব্যয়বৃদ্ধি, অহেতুক দীর্ঘসূত্রতা, বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম এবং নতুন কাজ অন্তর্ভুক্ত করার কারণেও এমনটি ঘটেছে। এ দশ প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পদ্মা সেতু প্রকল্প, যার মেয়াদ ছিল ৮ বছর, এখন লাগছে ১৪ বছর; কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প, যার মেয়াদ ছিল সাড়ে ৪ বছর, লাগছে ৮ বছর; ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প, মেয়াদ ছিল ৫ বছর, লাগছে সাড়ে ১২ বছর। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্র বলছে, প্রায় ৭০ শতাংশ প্রকল্পই নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় না। এ পরিস্থিতি হতাশাজনক।

বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি মানেই ব্যয়বৃদ্ধি। আর বাড়তি এই ব্যয় হওয়া মানে জনগণের টাকার অপচয়। আমাদের মতো সীমিত সম্পদের দেশে কোনোভাবেই এ অপচয় মেনে নেওয়া যায় না। শুধু অপচয় নয়, কোনো প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন না হলে অহেতুক ব্যয় যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি বাড়ে জনদুর্ভোগও। কাজেই যারা এজন্য দায়ী, তাদের শাস্তির আওতায় আনা দরকার। জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের। বস্তুত সব ধরনের প্রকল্পেরই ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতা দূর করা জরুরি। দূর করতে হবে সব ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি। অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করার জন্যই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন ধীরগতিতে করা হয়। এসব কারসাজি রোধে কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা তথা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রকল্পে বাড়তি ব্যয়: নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে

 সম্পাদকীয় 
২৯ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্ধারিত সময়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে এর জন্য কী পরিমাণ খেসারত দিতে হয়, এর একটি ধারণা পাওয়া যায় গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত শীর্ষ প্রতিবেদনে। এ প্রতিবেদনে হিসাব করে দেখানো হয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১০টি প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় এখন পর্যন্ত প্রকল্পগুলোর অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৪৪১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যা দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ ব্যয়ের সমান।

বলা হয়েছে, এজন্য দায়ী মূলত দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতি, নকশায় ত্রুটি, সঠিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই না করা, পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়া এবং যথাসময়ে অর্থ না পাওয়া। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনের ব্যয়বৃদ্ধি, অহেতুক দীর্ঘসূত্রতা, বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম এবং নতুন কাজ অন্তর্ভুক্ত করার কারণেও এমনটি ঘটেছে। এ দশ প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পদ্মা সেতু প্রকল্প, যার মেয়াদ ছিল ৮ বছর, এখন লাগছে ১৪ বছর; কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প, যার মেয়াদ ছিল সাড়ে ৪ বছর, লাগছে ৮ বছর; ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প, মেয়াদ ছিল ৫ বছর, লাগছে সাড়ে ১২ বছর। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্র বলছে, প্রায় ৭০ শতাংশ প্রকল্পই নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় না। এ পরিস্থিতি হতাশাজনক।

বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি মানেই ব্যয়বৃদ্ধি। আর বাড়তি এই ব্যয় হওয়া মানে জনগণের টাকার অপচয়। আমাদের মতো সীমিত সম্পদের দেশে কোনোভাবেই এ অপচয় মেনে নেওয়া যায় না। শুধু অপচয় নয়, কোনো প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন না হলে অহেতুক ব্যয় যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি বাড়ে জনদুর্ভোগও। কাজেই যারা এজন্য দায়ী, তাদের শাস্তির আওতায় আনা দরকার। জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের। বস্তুত সব ধরনের প্রকল্পেরই ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতা দূর করা জরুরি। দূর করতে হবে সব ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি। অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করার জন্যই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন ধীরগতিতে করা হয়। এসব কারসাজি রোধে কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা তথা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন