উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি
jugantor
উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি
মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে না কেন?

  সম্পাদকীয়  

০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মাধ্যমিক স্তরের বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের শিক্ষাদানে অদক্ষতার বিষয়টি বারবার আলোচনায় এলেও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের দক্ষতা কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা সেভাবে আলোচনায় আসে না।

দেশে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র কয়েকশ। এ তথ্য থেকেও দেশে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দক্ষ শিক্ষকের সংখ্যার বিষয়ে একটি ধারণা পাওয়া যায়।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এরপরও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত ১৬ লাখ আসন শূন্য থাকবে।

পাশ করা শিক্ষার্থীর তুলনায় এ স্তরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আসন বেশি থাকায় শিক্ষার্থীরা ভর্তি নিয়ে চিন্তামুক্ত থাকবে, এটাই স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে কিনা, এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা এখন চিন্তিত। জিপিএ-৫সহ ভালো ও মধ্যমমানের ফল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবার অনেক বেশি। ফলে পছন্দের শীর্ষে থাকা কিছু প্রতিষ্ঠানে তুমুল ভর্তিযুদ্ধ হবে। এর বিপরীতে অখ্যাত, নামসর্বস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী সংকটে পড়বে।

বস্তুত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরেও নামকরা ও ভালো মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম। এ অবস্থায় দেশে শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে কী করে উন্নীত হবে, এটা এক প্রশ্ন। উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিগ্গির শুরু হবে ভর্তি কার্যক্রম। এ কার্যক্রমে যাতে কোনো রকম জটিলতা সৃষ্টি না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। লক্ষ করা যায়, নতুন শিক্ষাবর্ষে এবং নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘উন্নয়ন ফি’ নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। নিয়মবহির্ভূত এসব অর্থ প্রদান করতে গিয়ে অনেক অভিভাবক দিশেহারা হয়ে পড়েন। এসব অনিয়ম রোধে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

গত এক দশকে দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে; বেড়েছে ভর্তি ও পাশের হার। শিক্ষাবিদদের মতে, দেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি মান। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিতে অদক্ষতার বিষয়টি বারবার আলোচনায় আসে। এ সমস্যার সমাধানে শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফল অর্জনের পরও অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছেন না। এ থেকেও শিক্ষার মানের বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়। শিক্ষার মান বাড়াতে হলে এ খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করার জন্যও পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা যদি আমাদের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে চাই, তাহলে শিক্ষার সব স্তরে মান উন্নয়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শিক্ষা খাতে সংযোজন-বিয়োজন অব্যাহত থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শিক্ষা খাতের অর্জন নিশ্চিত করতে দরকার যোগ্য, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করার জন্য কেবল সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা যাতে অক্ষুণ্ন থাকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করার লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। তবে অপরিকল্পিত খরচ দেশের কোনো কাজে লাগবে না। কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে শিক্ষা খাতে সঠিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি

মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে না কেন?
 সম্পাদকীয় 
০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মাধ্যমিক স্তরের বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের শিক্ষাদানে অদক্ষতার বিষয়টি বারবার আলোচনায় এলেও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের দক্ষতা কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা সেভাবে আলোচনায় আসে না।

দেশে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র কয়েকশ। এ তথ্য থেকেও দেশে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দক্ষ শিক্ষকের সংখ্যার বিষয়ে একটি ধারণা পাওয়া যায়।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এরপরও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত ১৬ লাখ আসন শূন্য থাকবে।

পাশ করা শিক্ষার্থীর তুলনায় এ স্তরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আসন বেশি থাকায় শিক্ষার্থীরা ভর্তি নিয়ে চিন্তামুক্ত থাকবে, এটাই স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে কিনা, এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা এখন চিন্তিত। জিপিএ-৫সহ ভালো ও মধ্যমমানের ফল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবার অনেক বেশি। ফলে পছন্দের শীর্ষে থাকা কিছু প্রতিষ্ঠানে তুমুল ভর্তিযুদ্ধ হবে। এর বিপরীতে অখ্যাত, নামসর্বস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী সংকটে পড়বে।

বস্তুত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরেও নামকরা ও ভালো মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম। এ অবস্থায় দেশে শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে কী করে উন্নীত হবে, এটা এক প্রশ্ন। উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিগ্গির শুরু হবে ভর্তি কার্যক্রম। এ কার্যক্রমে যাতে কোনো রকম জটিলতা সৃষ্টি না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। লক্ষ করা যায়, নতুন শিক্ষাবর্ষে এবং নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘উন্নয়ন ফি’ নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। নিয়মবহির্ভূত এসব অর্থ প্রদান করতে গিয়ে অনেক অভিভাবক দিশেহারা হয়ে পড়েন। এসব অনিয়ম রোধে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

গত এক দশকে দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে; বেড়েছে ভর্তি ও পাশের হার। শিক্ষাবিদদের মতে, দেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি মান। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিতে অদক্ষতার বিষয়টি বারবার আলোচনায় আসে। এ সমস্যার সমাধানে শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফল অর্জনের পরও অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছেন না। এ থেকেও শিক্ষার মানের বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়। শিক্ষার মান বাড়াতে হলে এ খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করার জন্যও পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা যদি আমাদের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে চাই, তাহলে শিক্ষার সব স্তরে মান উন্নয়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শিক্ষা খাতে সংযোজন-বিয়োজন অব্যাহত থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শিক্ষা খাতের অর্জন নিশ্চিত করতে দরকার যোগ্য, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করার জন্য কেবল সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা যাতে অক্ষুণ্ন থাকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করার লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। তবে অপরিকল্পিত খরচ দেশের কোনো কাজে লাগবে না। কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে শিক্ষা খাতে সঠিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন