ডিসি পোস্টিং
jugantor
ডিসি পোস্টিং
বিতর্ক সৃষ্টি কাম্য নয়

  সম্পাদকীয়  

০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ডিসি পোস্টিং নিয়ে প্রশাসনে সমালোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এ পদটিতে পদায়ন নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়।

উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর ডিসি পদে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া ২১ ব্যাচের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে সেখানে ২৪ ও ২৫তম ব্যাচ থেকে ১৭ জনকে নতুন পদায়ন এবং কর্মরত ডিসিদের মধ্যে ছয়জনকে অন্য জেলায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, এ প্রক্রিয়ায় কয়েকজন ভালো কর্মকর্তাকে ডিসি পদে নিয়োগ দেওয়া যায়নি। উপরন্তু কর্মরত ডিসিদের মধ্যে যাদের পারফরম্যান্স খুবই ভালো, তাদেরও বড় জেলায় পোস্টিং দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সাধারণত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরাসরি মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পরিচালনা ও মনিটর করে থাকে; বিশেষ করে ডিসি ও ইউএনওসহ মাঠ প্রশাসনের বেশিরভাগ কর্মকর্তাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে জবাবদিহি করতে হয়।

আশ্চর্যজনক হলো, ডিসি পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে তাদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অভিমত হচ্ছে-নতুন ডিসি পদায়নের ক্ষেত্রে মতামত নেওয়ার প্রয়োজন নাও থাকতে পারে; কিন্তু কর্মরত ডিসিদের অন্য জেলায় পদায়ন কিংবা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মতামত নেওয়া জরুরি ছিল।

বস্তুত এ নীতি অনুসরণ না করায় কর্মরত ডিসিদের অন্য জেলায় পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পারফরম্যান্স রিপোর্ট মূল্যায়নে আসেনি, যা অনভিপ্রেত।

সরকারি চাকরিতে বদলির পাশাপাশি পদোন্নতি অতি স্বাভাবিক ও ধারাবাহিক একটি প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় যখন নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে, তখন সংগত কারণেই ঘটনার শিকাররা বিক্ষুব্ধ হন। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের দ্বারা জনপ্রশাসনে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লে সরকারের দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তারপরও কেন এরকম একটি ঘটনা ঘটল, তা বোধগম্য নয়।

কয়েক দশকেরও বেশি সময় ধরে জনপ্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দায় বয়ে বেড়াচ্ছে দেশের মানুষ। সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাবই যে এজন্য দায়ী, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আত্মীয়করণ, দলীয়করণ ও পক্ষপাতিত্বের কারণে জনপ্রশাসনে নানামুখী সংকট সৃষ্টি হয়। বাস্তবে হচ্ছেও তাই। এতে জনপ্রশাসনের ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়ছে। সুদক্ষ ও পেশাদার আমলাতন্ত্রের অভাবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোয় সরকার প্রায় সময়ই সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। মূলত সৎ, যোগ্য ও মেধাবীদের মূল্যায়ন করে দলীয় প্রভাব ও দুর্নীতিমুক্ত পেশাদার জনপ্রশাসন গড়ে তোলার দিকে সরকারের মনোযোগ দেওয়া উচিত। তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে, যা মোটেই কাম্য নয়।

ডিসি পোস্টিং

বিতর্ক সৃষ্টি কাম্য নয়
 সম্পাদকীয় 
০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ডিসি পোস্টিং নিয়ে প্রশাসনে সমালোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এ পদটিতে পদায়ন নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়।

উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর ডিসি পদে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া ২১ ব্যাচের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে সেখানে ২৪ ও ২৫তম ব্যাচ থেকে ১৭ জনকে নতুন পদায়ন এবং কর্মরত ডিসিদের মধ্যে ছয়জনকে অন্য জেলায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, এ প্রক্রিয়ায় কয়েকজন ভালো কর্মকর্তাকে ডিসি পদে নিয়োগ দেওয়া যায়নি। উপরন্তু কর্মরত ডিসিদের মধ্যে যাদের পারফরম্যান্স খুবই ভালো, তাদেরও বড় জেলায় পোস্টিং দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সাধারণত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরাসরি মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পরিচালনা ও মনিটর করে থাকে; বিশেষ করে ডিসি ও ইউএনওসহ মাঠ প্রশাসনের বেশিরভাগ কর্মকর্তাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে জবাবদিহি করতে হয়।

আশ্চর্যজনক হলো, ডিসি পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে তাদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অভিমত হচ্ছে-নতুন ডিসি পদায়নের ক্ষেত্রে মতামত নেওয়ার প্রয়োজন নাও থাকতে পারে; কিন্তু কর্মরত ডিসিদের অন্য জেলায় পদায়ন কিংবা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মতামত নেওয়া জরুরি ছিল।

বস্তুত এ নীতি অনুসরণ না করায় কর্মরত ডিসিদের অন্য জেলায় পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পারফরম্যান্স রিপোর্ট মূল্যায়নে আসেনি, যা অনভিপ্রেত।

সরকারি চাকরিতে বদলির পাশাপাশি পদোন্নতি অতি স্বাভাবিক ও ধারাবাহিক একটি প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় যখন নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে, তখন সংগত কারণেই ঘটনার শিকাররা বিক্ষুব্ধ হন। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের দ্বারা জনপ্রশাসনে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লে সরকারের দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তারপরও কেন এরকম একটি ঘটনা ঘটল, তা বোধগম্য নয়।

কয়েক দশকেরও বেশি সময় ধরে জনপ্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দায় বয়ে বেড়াচ্ছে দেশের মানুষ। সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাবই যে এজন্য দায়ী, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আত্মীয়করণ, দলীয়করণ ও পক্ষপাতিত্বের কারণে জনপ্রশাসনে নানামুখী সংকট সৃষ্টি হয়। বাস্তবে হচ্ছেও তাই। এতে জনপ্রশাসনের ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়ছে। সুদক্ষ ও পেশাদার আমলাতন্ত্রের অভাবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোয় সরকার প্রায় সময়ই সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। মূলত সৎ, যোগ্য ও মেধাবীদের মূল্যায়ন করে দলীয় প্রভাব ও দুর্নীতিমুক্ত পেশাদার জনপ্রশাসন গড়ে তোলার দিকে সরকারের মনোযোগ দেওয়া উচিত। তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে, যা মোটেই কাম্য নয়।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন