অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান
jugantor
অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান
আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গতকাল শুরু হয়েছে অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে এ অভিযান পরিচালিত হবে।

জানা গেছে, সম্প্রতি রাজধানীর সিএমএম আদালত এলাকা থেকে পুলিশের চোখে পিপার স্প্রে করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার প্রেক্ষাপট বিবেচনা এবং বিজয় দিবস, বড়দিন ও থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে চলমান অভিযানের পাশাপাশি এই বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। অভিযানে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, মাদকসেবী ও কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার; মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে দুশ্চিন্তা বেড়েছে। আদালত এলাকায় পুলিশের কাছ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় খোদ পুলিশের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। সামনে চলে এসেছে নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতার বিষয়টি।

এছাড়া খুন, ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টা বর্তমান সময়ের প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইদানীং প্রায়ই অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে অনেকের সর্বস্ব খোয়ানোর, এমনকি প্রাণহানির খবরও গণমাধ্যমে আসছে। বেড়েছে গ্যাঞ্জাম পার্টি, মলম পার্টি, সালাম পার্টি ইত্যাদি ছিনতাই চক্রের তৎপরতাও।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযানে এসব অপরাধ চিরতরে নির্মূল হবে, এটিই মানুষ আশা করে। প্রশ্ন হলো, এবারের বিশেষ অভিযানে তেমনটি ঘটবে কি? আমাদের অভিজ্ঞতা হলো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন অপরাধ দমনে কঠোর হয়, তখন দুর্বৃত্তদের তৎপরতা সাময়িকভাবে স্তিমিত হয়; কিন্তু যখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম শিথিল হয়ে পড়ে, তখন দুর্বৃত্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। কাজেই বিশেষ অভিযানটি এমন হওয়া উচিত, যার লক্ষ্য হবে অপরাধের মূলোৎপাটন করা, সাময়িকভাবে স্তিমিত করা নয়।

এ উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারের পর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত, যাতে তারা আর কখনো জনস্বার্থহানিকর কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার সাহস না পায়। বিচারহীনতার সংস্কৃতিও অপরাধ নির্মূল না হওয়ার একটি বড় কারণ। সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তার পাশাপাশি আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া দরকার। সেই সঙ্গে সামাজিকভাবেও সব ধরনের অপশক্তিকে দমন করা প্রয়োজন।

এটা ঠিক, জনবহুল এ দেশে কে কোথায় কীভাবে অপরাধ সংঘটিত করবে, তা আগাম আন্দাজ করা কঠিন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এত জনবল নেই যে, তারা দেশের প্রত্যেক নাগরিককে নজরদারিতে রাখতে পারে। তারপরও আমরা বলব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো গেলে অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব।

আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যখন যারা ক্ষমতায় থাকেন-তারাই এ সুযোগটি নিতে চান। কিন্তু এর পরিণাম কখনো ভালো হয় না; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের প্রবণতা পরিহার করে চলতে হবে সরকারকে। বর্তমানে যে বিশেষ অভিযান চলছে, সেক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য।

অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান

আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে
 সম্পাদকীয় 
০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গতকাল শুরু হয়েছে অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে এ অভিযান পরিচালিত হবে।

জানা গেছে, সম্প্রতি রাজধানীর সিএমএম আদালত এলাকা থেকে পুলিশের চোখে পিপার স্প্রে করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার প্রেক্ষাপট বিবেচনা এবং বিজয় দিবস, বড়দিন ও থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে চলমান অভিযানের পাশাপাশি এই বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। অভিযানে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, মাদকসেবী ও কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার; মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে দুশ্চিন্তা বেড়েছে। আদালত এলাকায় পুলিশের কাছ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় খোদ পুলিশের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। সামনে চলে এসেছে নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতার বিষয়টি।

এছাড়া খুন, ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টা বর্তমান সময়ের প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইদানীং প্রায়ই অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে অনেকের সর্বস্ব খোয়ানোর, এমনকি প্রাণহানির খবরও গণমাধ্যমে আসছে। বেড়েছে গ্যাঞ্জাম পার্টি, মলম পার্টি, সালাম পার্টি ইত্যাদি ছিনতাই চক্রের তৎপরতাও।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযানে এসব অপরাধ চিরতরে নির্মূল হবে, এটিই মানুষ আশা করে। প্রশ্ন হলো, এবারের বিশেষ অভিযানে তেমনটি ঘটবে কি? আমাদের অভিজ্ঞতা হলো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন অপরাধ দমনে কঠোর হয়, তখন দুর্বৃত্তদের তৎপরতা সাময়িকভাবে স্তিমিত হয়; কিন্তু যখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম শিথিল হয়ে পড়ে, তখন দুর্বৃত্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। কাজেই বিশেষ অভিযানটি এমন হওয়া উচিত, যার লক্ষ্য হবে অপরাধের মূলোৎপাটন করা, সাময়িকভাবে স্তিমিত করা নয়।

এ উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারের পর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত, যাতে তারা আর কখনো জনস্বার্থহানিকর কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার সাহস না পায়। বিচারহীনতার সংস্কৃতিও অপরাধ নির্মূল না হওয়ার একটি বড় কারণ। সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তার পাশাপাশি আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া দরকার। সেই সঙ্গে সামাজিকভাবেও সব ধরনের অপশক্তিকে দমন করা প্রয়োজন।

এটা ঠিক, জনবহুল এ দেশে কে কোথায় কীভাবে অপরাধ সংঘটিত করবে, তা আগাম আন্দাজ করা কঠিন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এত জনবল নেই যে, তারা দেশের প্রত্যেক নাগরিককে নজরদারিতে রাখতে পারে। তারপরও আমরা বলব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো গেলে অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব।

আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যখন যারা ক্ষমতায় থাকেন-তারাই এ সুযোগটি নিতে চান। কিন্তু এর পরিণাম কখনো ভালো হয় না; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের প্রবণতা পরিহার করে চলতে হবে সরকারকে। বর্তমানে যে বিশেষ অভিযান চলছে, সেক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন