একটি মর্মান্তিক মৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা কি অসম্ভব?
jugantor
একটি মর্মান্তিক মৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা কি অসম্ভব?

  সম্পাদকীয়  

০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু যেহেতু ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, সেহেতু প্রতিদিনই আমাদের এ বিষয়ে নানা খবর শুনতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেও কিছুদিন পরপর সড়কে এমন কিছু দুর্ঘটনা ঘটে, যা আমাদের বিশেষভাবে আলোড়িত করে।

শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে এমনই একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, মোটরসাইকেল আরোহী এক নারী যাত্রী একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় পড়ে যান। পড়ার পর ওই নারীর পোশাক প্রাইভেট কারের সঙ্গে আটকে যায়। এরপর গাড়িচালক ওই নারীকে টেনেহিচঁড়ে নিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন।

প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ওই নারী যাত্রী গাড়িটির দুই চাকার মাঝখানে ঝুলে রয়েছেন। এ অবস্থায় চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করেন। এতে বোঝা যায় তিনি কতটা মানবিক মূল্যবোধহীন। পথচারী ও আশপাশের লোকজন তাড়া করে একপর্যায়ে গাড়িচালককে আটক করতে সক্ষম হন। কিন্তু ততক্ষণে গাড়িটিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে গেছেন ওই চালক। গাড়ির নিচ থেকে ওই নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়; পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

জানা যায়, এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষক। যে ব্যক্তি উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন এবং জ্ঞানদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি এমন নিন্দনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারলেন, যা ভেবে অবাক হতে হয়। এ প্রসঙ্গে পরিবহণকর্মীদের ন্যূনতম শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া এবং মানসম্মত জীবনযাপনের সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। অনেকে মনে করেন, দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবহণকর্মীকে যথাযথ শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে। অথচ শুক্রবারের ওই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি। কাজেই সড়ক দুর্ঘটনার জন্য কেবল যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব দায়ী, এ ধারণা সঠিক নয়।

দেশে সড়ক যোগাযোগ ও পরিবহণ খাতে কতটা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজমান, তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য দিয়ে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। কারণ অনেক ঘটনা গণমাধ্যমের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। বস্তুত সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কর্তৃপক্ষ কতটা উদ্বিগ্ন, তা স্পষ্ট নয়। সড়কে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন ট্র্যাজেডি।

এমন মূল্যবান জীবন সংখ্যায় পরিণত হবে; আর কর্তৃপক্ষ নানারকম আশ্বাস প্রদান করবে-এটা কতদিন চলবে? প্রযুক্তির ব্যবহারে যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগও মোকাবিলা করা সম্ভব, সেখানে সড়ক দুর্ঘটনার ফাঁদে পড়ে মূল্যবান জীবন সংখ্যায় পরিণত হবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। শাহবাগের আলোচিত দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে, এটাই কাম্য।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামানের মতে, সড়ক দুর্ঘটনার সমস্যাটি রাজনৈতিক। কারিগরিভাবে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সত্যিকার অর্থে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া কোনোভাবেই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়।

আমরা মনে করি, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কর্তৃপক্ষের উচিত এ অধ্যাপকের বক্তব্য আমলে নেওয়া। বস্তুত এ খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত; কর্তৃপক্ষের কী করণীয়, তাও আলোচিত। এ খাতের দুর্নীতি বন্ধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ না নিয়ে লোক দেখানো পদক্ষেপ নেওয়া হলে সমস্যাগুলো ফুলেফেঁপে আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে, যা কারোই কাম্য নয়।

একটি মর্মান্তিক মৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা কি অসম্ভব?

 সম্পাদকীয় 
০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু যেহেতু ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, সেহেতু প্রতিদিনই আমাদের এ বিষয়ে নানা খবর শুনতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেও কিছুদিন পরপর সড়কে এমন কিছু দুর্ঘটনা ঘটে, যা আমাদের বিশেষভাবে আলোড়িত করে।

শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে এমনই একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, মোটরসাইকেল আরোহী এক নারী যাত্রী একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় পড়ে যান। পড়ার পর ওই নারীর পোশাক প্রাইভেট কারের সঙ্গে আটকে যায়। এরপর গাড়িচালক ওই নারীকে টেনেহিচঁড়ে নিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন।

প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ওই নারী যাত্রী গাড়িটির দুই চাকার মাঝখানে ঝুলে রয়েছেন। এ অবস্থায় চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করেন। এতে বোঝা যায় তিনি কতটা মানবিক মূল্যবোধহীন। পথচারী ও আশপাশের লোকজন তাড়া করে একপর্যায়ে গাড়িচালককে আটক করতে সক্ষম হন। কিন্তু ততক্ষণে গাড়িটিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে গেছেন ওই চালক। গাড়ির নিচ থেকে ওই নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়; পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

জানা যায়, এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষক। যে ব্যক্তি উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন এবং জ্ঞানদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি এমন নিন্দনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারলেন, যা ভেবে অবাক হতে হয়। এ প্রসঙ্গে পরিবহণকর্মীদের ন্যূনতম শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া এবং মানসম্মত জীবনযাপনের সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। অনেকে মনে করেন, দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবহণকর্মীকে যথাযথ শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে। অথচ শুক্রবারের ওই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি। কাজেই সড়ক দুর্ঘটনার জন্য কেবল যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব দায়ী, এ ধারণা সঠিক নয়।

দেশে সড়ক যোগাযোগ ও পরিবহণ খাতে কতটা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজমান, তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য দিয়ে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। কারণ অনেক ঘটনা গণমাধ্যমের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। বস্তুত সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কর্তৃপক্ষ কতটা উদ্বিগ্ন, তা স্পষ্ট নয়। সড়কে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন ট্র্যাজেডি।

এমন মূল্যবান জীবন সংখ্যায় পরিণত হবে; আর কর্তৃপক্ষ নানারকম আশ্বাস প্রদান করবে-এটা কতদিন চলবে? প্রযুক্তির ব্যবহারে যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগও মোকাবিলা করা সম্ভব, সেখানে সড়ক দুর্ঘটনার ফাঁদে পড়ে মূল্যবান জীবন সংখ্যায় পরিণত হবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। শাহবাগের আলোচিত দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে, এটাই কাম্য।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামানের মতে, সড়ক দুর্ঘটনার সমস্যাটি রাজনৈতিক। কারিগরিভাবে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সত্যিকার অর্থে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া কোনোভাবেই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়।

আমরা মনে করি, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কর্তৃপক্ষের উচিত এ অধ্যাপকের বক্তব্য আমলে নেওয়া। বস্তুত এ খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত; কর্তৃপক্ষের কী করণীয়, তাও আলোচিত। এ খাতের দুর্নীতি বন্ধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ না নিয়ে লোক দেখানো পদক্ষেপ নেওয়া হলে সমস্যাগুলো ফুলেফেঁপে আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে, যা কারোই কাম্য নয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন