চিকিৎসাসামগ্রী খালাসে দীর্ঘসূত্রতা
jugantor
চিকিৎসাসামগ্রী খালাসে দীর্ঘসূত্রতা
বন্দরে পড়ে থাকা কাম্য নয়

  সম্পাদকীয়  

০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনুদানের চিকিৎসাসামগ্রী খালাসে দেরি হওয়া অথবা এক্ষেত্রে কোনোরকম অনিশ্চয়তা তৈরির বিষয়টি উদ্বেগজনক।

এতে চিকিৎসাসামগ্রীর গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, একইসঙ্গে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থ সংকটের কারণে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার দেওয়া কোভিড-১৯ মোকাবিলার স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ও অনুদানসামগ্রী বন্দর থেকে খালাস হওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এতে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরে কাস্টম শুল্ক পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়কে। অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি অবহিত করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান বাস্তবতায় সরকারি অর্থ বরাদ্দ ও খরচের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে। কারণ অতীতে কাস্টমস শুল্ক পরিশোধের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বাড়তি অর্থ বরাদ্দের আবেদন করার নজির রয়েছে। সেক্ষেত্রে সব খাতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। জানা যায়, গত অর্থবছরে দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর অনুদানের স্বাস্থ্য সরঞ্জাম বন্দর থেকে খালাসে দেরি হওয়ায় পোর্ট ডেমারেজ বাবদ বিপুল অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়েছে। এমন ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বন্দরের সার্বিক কর্মকাণ্ডে বাড়তি চাপও তৈরি হয়। জানা গেছে, শিগগিরই দেশে এসে পৌঁছাবে বিদায়ি ২০২১-২২ অর্থবছরে ক্রয়কৃত পণ্য।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট আর্থিক কোডে আগে থেকে বরাদ্দ না থাকলে পণ্য ছাড় বিলম্ব হবে। এতে পোর্টের জরিমানাও বাড়বে। তাছাড়া এ মুহূর্তে ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাপান সরকারের দেওয়া ৭৭ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে আছে।

কাস্টম শুল্কের অর্থ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোডে বরাদ্দ না থাকায় কয়েক মাস ধরে খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে এক্সরে যন্ত্র, রোগীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মনিটর, সিটি স্ক্যানার, ইসিজি যন্ত্র ও অক্সিজেন জেনারেটর বাংলাদেশকে দিয়েছে জাপান। পণ্যসামগ্রীর তালিকায় আরও রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স ও ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক। সব মিলে চিকিৎসা সরঞ্জামের সংখ্যা তিন শতাধিক। এসব পণ্য বন্দর থেকে খালাস করতে কাস্টম শুল্ক বাবদ প্রয়োজন ২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এই অর্থ চেয়ে আরও একটি চিঠি দেওয়া হয় অর্থ বিভাগকে।

সরকারি ক্রয়কৃত বা অনুদানের যে কোনো সরঞ্জাম বা পণ্য বন্দর থেকে খালাসে যাতে কোনোরকম জটিলতা সৃষ্টি না হয় সে জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। অতীতে কী কী কারণে এ খাতে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখে সংকটের পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ খাতে একই সংকটের পুনরাবৃত্তির কারণে সহায়তার ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোর আগ্রহ কমতে পারে। আগামী বছর বিশ্বব্যাপী নানারকম সংকট সৃষ্টির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কাজেই সরকারি কেনাকাটাসহ সব ধরনের আর্থিক বরাদ্দ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে যাতে কোনোরকম বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত না ঘটে সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

চিকিৎসাসামগ্রী খালাসে দীর্ঘসূত্রতা

বন্দরে পড়ে থাকা কাম্য নয়
 সম্পাদকীয় 
০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনুদানের চিকিৎসাসামগ্রী খালাসে দেরি হওয়া অথবা এক্ষেত্রে কোনোরকম অনিশ্চয়তা তৈরির বিষয়টি উদ্বেগজনক।

এতে চিকিৎসাসামগ্রীর গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, একইসঙ্গে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থ সংকটের কারণে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার দেওয়া কোভিড-১৯ মোকাবিলার স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ও অনুদানসামগ্রী বন্দর থেকে খালাস হওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এতে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরে কাস্টম শুল্ক পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়কে। অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি অবহিত করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান বাস্তবতায় সরকারি অর্থ বরাদ্দ ও খরচের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে। কারণ অতীতে কাস্টমস শুল্ক পরিশোধের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বাড়তি অর্থ বরাদ্দের আবেদন করার নজির রয়েছে। সেক্ষেত্রে সব খাতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। জানা যায়, গত অর্থবছরে দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর অনুদানের স্বাস্থ্য সরঞ্জাম বন্দর থেকে খালাসে দেরি হওয়ায় পোর্ট ডেমারেজ বাবদ বিপুল অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়েছে। এমন ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বন্দরের সার্বিক কর্মকাণ্ডে বাড়তি চাপও তৈরি হয়। জানা গেছে, শিগগিরই দেশে এসে পৌঁছাবে বিদায়ি ২০২১-২২ অর্থবছরে ক্রয়কৃত পণ্য।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট আর্থিক কোডে আগে থেকে বরাদ্দ না থাকলে পণ্য ছাড় বিলম্ব হবে। এতে পোর্টের জরিমানাও বাড়বে। তাছাড়া এ মুহূর্তে ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাপান সরকারের দেওয়া ৭৭ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে আছে।

কাস্টম শুল্কের অর্থ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোডে বরাদ্দ না থাকায় কয়েক মাস ধরে খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে এক্সরে যন্ত্র, রোগীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মনিটর, সিটি স্ক্যানার, ইসিজি যন্ত্র ও অক্সিজেন জেনারেটর বাংলাদেশকে দিয়েছে জাপান। পণ্যসামগ্রীর তালিকায় আরও রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স ও ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক। সব মিলে চিকিৎসা সরঞ্জামের সংখ্যা তিন শতাধিক। এসব পণ্য বন্দর থেকে খালাস করতে কাস্টম শুল্ক বাবদ প্রয়োজন ২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এই অর্থ চেয়ে আরও একটি চিঠি দেওয়া হয় অর্থ বিভাগকে।

সরকারি ক্রয়কৃত বা অনুদানের যে কোনো সরঞ্জাম বা পণ্য বন্দর থেকে খালাসে যাতে কোনোরকম জটিলতা সৃষ্টি না হয় সে জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। অতীতে কী কী কারণে এ খাতে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখে সংকটের পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ খাতে একই সংকটের পুনরাবৃত্তির কারণে সহায়তার ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোর আগ্রহ কমতে পারে। আগামী বছর বিশ্বব্যাপী নানারকম সংকট সৃষ্টির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কাজেই সরকারি কেনাকাটাসহ সব ধরনের আর্থিক বরাদ্দ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে যাতে কোনোরকম বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত না ঘটে সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন