মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকা
jugantor
মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকা
অপেক্ষার অবসান হোক

  সম্পাদকীয়  

০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আর কদিন পর জাতি ৫২তম বিজয় দিবস উদযাপন করতে যাচ্ছে, এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চূড়ান্ত হয়নি-এটি সত্যিই পরিতাপের বিষয়।

স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ছয়বার মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এক সরকারের আমলে করা তালিকা অন্য সরকার সংশোধন করেছে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার তালিকা আজও চূড়ান্ত রূপ পায়নি। তাই জনমনে প্রশ্ন-কবে চূড়ান্ত হবে এ তালিকা? এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক যুগান্তরকে জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে; এক সপ্তাহের মধ্যে তা প্রকাশ করা হবে।

তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্নকথা। তালিকা চূড়ান্ত করার বিষয়টি ঘুরপাক খাচ্ছে মাঠ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শুনানির মাঝে। জানা যায়, ঢাকা ও সিলেট ছাড়া অন্যসব বিভাগে শুনানির মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ এখনো রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে। কেবল ঢাকা ও সিলেট বিভাগে শুনানির কাজ শেষ পর্যায়ে।

অন্যান্য স্থানে যেসব ক্ষেত্রে আপিল হয়েছে, সেগুলোর কাজ করছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব যাচাই-বাছাই ও শুনানি মুলতুবি রেখে তালিকা চূড়ান্ত করার সুযোগ নেই। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। সেক্ষেত্রে এক সপ্তাহের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা কীভাবে প্রকাশ করা হবে, সেটাই প্রশ্ন।

স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা তৈরি করতে না পারা দুঃখজনক। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা তাদের প্রাপ্য। কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কারণে নয়, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন।

এমনকি অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদ পর্যন্ত নেননি। অথচ মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েও অনেকে কারচুপির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে নাম লিখিয়েছেন। তারা নিশ্চয়ই গর্হিত কাজ করেছেন। এমনকি প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থানকারী কিছু কর্মকর্তা পর্যন্ত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছিলেন চাকরিতে দুই বছর বেশি থাকার জন্য।

এ পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন থেকেই জনদাবি রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিতে হবে। অর্থাৎ বিধিবহির্ভূতভাবে যারা গেজেটভুক্ত হয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে অমুক্তিযোদ্ধা আখ্যা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন আছে অবশ্যই। দেরিতে হলেও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সেই পদক্ষেপ নিয়েছে, এটি প্রশংসার যোগ্য।

এক্ষেত্রে অমুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করার সময় খেয়াল রাখতে হবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যেন এ প্রক্রিয়ায় বাদ না পড়েন। তেমনটি ঘটলে সেটি হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়ে যারা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাদের অবশ্যই ছেঁটে ফেলা দরকার তালিকা থেকে।

তবে যাচাই-বাছাই এবং তালিকা চূড়ান্ত করার কাজটি দ্রুত সম্পাদন করা প্রয়োজন। এ নিয়ে আর দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়। মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকা অবিলম্বে প্রকাশ করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকা

অপেক্ষার অবসান হোক
 সম্পাদকীয় 
০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আর কদিন পর জাতি ৫২তম বিজয় দিবস উদযাপন করতে যাচ্ছে, এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চূড়ান্ত হয়নি-এটি সত্যিই পরিতাপের বিষয়।

স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ছয়বার মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এক সরকারের আমলে করা তালিকা অন্য সরকার সংশোধন করেছে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার তালিকা আজও চূড়ান্ত রূপ পায়নি। তাই জনমনে প্রশ্ন-কবে চূড়ান্ত হবে এ তালিকা? এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক যুগান্তরকে জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে; এক সপ্তাহের মধ্যে তা প্রকাশ করা হবে।

তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্নকথা। তালিকা চূড়ান্ত করার বিষয়টি ঘুরপাক খাচ্ছে মাঠ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শুনানির মাঝে। জানা যায়, ঢাকা ও সিলেট ছাড়া অন্যসব বিভাগে শুনানির মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ এখনো রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে। কেবল ঢাকা ও সিলেট বিভাগে শুনানির কাজ শেষ পর্যায়ে।

অন্যান্য স্থানে যেসব ক্ষেত্রে আপিল হয়েছে, সেগুলোর কাজ করছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব যাচাই-বাছাই ও শুনানি মুলতুবি রেখে তালিকা চূড়ান্ত করার সুযোগ নেই। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। সেক্ষেত্রে এক সপ্তাহের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা কীভাবে প্রকাশ করা হবে, সেটাই প্রশ্ন।

স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা তৈরি করতে না পারা দুঃখজনক। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা তাদের প্রাপ্য। কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কারণে নয়, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন।

এমনকি অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদ পর্যন্ত নেননি। অথচ মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েও অনেকে কারচুপির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে নাম লিখিয়েছেন। তারা নিশ্চয়ই গর্হিত কাজ করেছেন। এমনকি প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থানকারী কিছু কর্মকর্তা পর্যন্ত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছিলেন চাকরিতে দুই বছর বেশি থাকার জন্য।

এ পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন থেকেই জনদাবি রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিতে হবে। অর্থাৎ বিধিবহির্ভূতভাবে যারা গেজেটভুক্ত হয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে অমুক্তিযোদ্ধা আখ্যা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন আছে অবশ্যই। দেরিতে হলেও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সেই পদক্ষেপ নিয়েছে, এটি প্রশংসার যোগ্য।

এক্ষেত্রে অমুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করার সময় খেয়াল রাখতে হবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যেন এ প্রক্রিয়ায় বাদ না পড়েন। তেমনটি ঘটলে সেটি হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়ে যারা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাদের অবশ্যই ছেঁটে ফেলা দরকার তালিকা থেকে।

তবে যাচাই-বাছাই এবং তালিকা চূড়ান্ত করার কাজটি দ্রুত সম্পাদন করা প্রয়োজন। এ নিয়ে আর দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়। মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকা অবিলম্বে প্রকাশ করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন