রাজধানীর বৃত্তাকার নৌপথ
jugantor
রাজধানীর বৃত্তাকার নৌপথ
পরিকল্পিতভাবে চালু করা হোক

  সম্পাদকীয়  

০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর যানজট কমাতে সড়ক-রেল-নৌ-তিন পথ কাজে লাগানোর সম্ভাবনা থাকলেও কেবল সড়ক যোগাযোগ ছাড়া বাকি সম্ভাবনাগুলো এখনো কাজে লাগানো যায়নি।

বহু আশার বাণী শুনিয়ে চক্রাকার নৌযান চলাচল শুরু হলেও অল্প সময় পরই প্রকল্পটির মৃত্যু ঘটে। কয়েক দফা চেষ্টা করেও এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আমরা মনে করি, এ প্রকল্পের অঙ্কুরেই মৃত্যু হওয়ার মূল কারণ কর্তৃপক্ষের অদূরদর্শিতা, অদক্ষতা এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতা।

এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করার পাশাপাশি কী কী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, তা চিহ্নিত করতে হয়। আলোচিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা যে যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি সেটা স্পষ্ট। যেসব সমস্যার কারণে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে, সেসব সমস্যা আমাদের দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্যরে কারণে ওয়াটার বাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এ রকম আরও কিছু সমস্যা আছে, যার সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা দরকার। নৌপথে নাব্য সংকট হবে, এটাও নতুন কোনো বিষয় নয়। এ ধরনের সমস্যাগুলোর সমাধান না করে তড়িঘড়ি প্রকল্প চালু করার পেছনে দুর্নীতির কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

জানা যায়, কয়েকটি ওয়াটার বাস অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এগুলো আগেই সচল করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। ওয়াটার বাসে ইট-পাথর ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটেছে। এ থেকে বোঝা যায়, এ প্রকল্প যাতে সফল হতে না পারে, সেজন্য স্বার্থান্বেষী মহল সক্রিয় ছিল। স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতা রোধ করতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

নদীর পানিতে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ ও অন্যান্য সমস্যার সমাধান করে প্রকল্পটি আবার বাস্তবায়ন করা হলে তা রাজধানীর পরিবেশ সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখবে। রাজধানী ও আশপাশের নদীগুলোকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে পরিকল্পিত নৌযোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার যে সম্ভাবনা রয়েছে, তাও কাজে লাগানো দরকার।

রাজধানীর জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে, সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেল ও নৌপথের সম্ভাবনা যথাযথভাবে কাজে লাগানো না গেলে কেবল সড়কপথে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না। কাজেই যথাযথ সমীক্ষা করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এ প্রকল্পটি আবার চালু করা দরকার।

অযোগ্য, অদক্ষ ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণেই মূলত সম্ভাবনাময় প্রকল্পটির মৃত্যু হয়েছিল। এর পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে। রাজধানীকে বাসযোগ্য শহর হিসাবে গড়ে তুলতে হলে দুর্ভোগমুক্ত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

রাজধানীর বৃত্তাকার নৌপথ

পরিকল্পিতভাবে চালু করা হোক
 সম্পাদকীয় 
০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর যানজট কমাতে সড়ক-রেল-নৌ-তিন পথ কাজে লাগানোর সম্ভাবনা থাকলেও কেবল সড়ক যোগাযোগ ছাড়া বাকি সম্ভাবনাগুলো এখনো কাজে লাগানো যায়নি।

বহু আশার বাণী শুনিয়ে চক্রাকার নৌযান চলাচল শুরু হলেও অল্প সময় পরই প্রকল্পটির মৃত্যু ঘটে। কয়েক দফা চেষ্টা করেও এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আমরা মনে করি, এ প্রকল্পের অঙ্কুরেই মৃত্যু হওয়ার মূল কারণ কর্তৃপক্ষের অদূরদর্শিতা, অদক্ষতা এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতা।

এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করার পাশাপাশি কী কী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, তা চিহ্নিত করতে হয়। আলোচিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা যে যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি সেটা স্পষ্ট। যেসব সমস্যার কারণে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে, সেসব সমস্যা আমাদের দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্যরে কারণে ওয়াটার বাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এ রকম আরও কিছু সমস্যা আছে, যার সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা দরকার। নৌপথে নাব্য সংকট হবে, এটাও নতুন কোনো বিষয় নয়। এ ধরনের সমস্যাগুলোর সমাধান না করে তড়িঘড়ি প্রকল্প চালু করার পেছনে দুর্নীতির কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

জানা যায়, কয়েকটি ওয়াটার বাস অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এগুলো আগেই সচল করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। ওয়াটার বাসে ইট-পাথর ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটেছে। এ থেকে বোঝা যায়, এ প্রকল্প যাতে সফল হতে না পারে, সেজন্য স্বার্থান্বেষী মহল সক্রিয় ছিল। স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতা রোধ করতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

নদীর পানিতে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ ও অন্যান্য সমস্যার সমাধান করে প্রকল্পটি আবার বাস্তবায়ন করা হলে তা রাজধানীর পরিবেশ সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখবে। রাজধানী ও আশপাশের নদীগুলোকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে পরিকল্পিত নৌযোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার যে সম্ভাবনা রয়েছে, তাও কাজে লাগানো দরকার।

রাজধানীর জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে, সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেল ও নৌপথের সম্ভাবনা যথাযথভাবে কাজে লাগানো না গেলে কেবল সড়কপথে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না। কাজেই যথাযথ সমীক্ষা করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এ প্রকল্পটি আবার চালু করা দরকার।

অযোগ্য, অদক্ষ ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণেই মূলত সম্ভাবনাময় প্রকল্পটির মৃত্যু হয়েছিল। এর পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে। রাজধানীকে বাসযোগ্য শহর হিসাবে গড়ে তুলতে হলে দুর্ভোগমুক্ত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন