স্বেচ্ছায় অঙ্গদান
jugantor
স্বেচ্ছায় অঙ্গদান

  সম্পাদকীয়  

২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিভিন্ন দেশে কিডনি ও অন্যান্য বিকল অঙ্গের মানুষ মরণোত্তর অঙ্গদান এবং স্বেচ্ছায় শুভাকাঙ্ক্ষী অঙ্গদান প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা নিয়ে নতুন জীবন পাচ্ছেন। আমাদের দেশে নিকটাত্মীয় ছাড়া ইমোশনাল ডোনারের কাছ থেকে অঙ্গ নেওয়ার আইন এখনো প্রণয়ন করা হয়নি। এতে বিপাকে পড়ছেন বহু রোগী। শুধু কিডনি সংযোজনে দাতা সংকটে বছরে মারা যাচ্ছে হাজার হাজার কিডনি রোগী। একইভাবে হাজার হাজার মানুষ লিভার, হার্ট, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয় ইত্যাদি সংক্রান্ত রোগে মারা যাচ্ছেন। জানা যায়, দেশে বর্তমানে কেবল কিডনি রোগীই রয়েছে প্রায় দুই কোটি। এদের মধ্যে প্রতি বছর ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয়। এসব রোগীর একটি বড় অংশই ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজনজনিত চিকিৎসার অভাবে মারা যায়। কিডনি অকেজো হয়ে গেলে বেঁচে থাকার জন্য রোগীর ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজন প্রয়োজন হয়। দেশে এ রোগের চিকিৎসা থাকলেও তা খুবই ব্যয়বহুল এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ২০১৮ সালের আইন অনুযায়ী জীবন রক্ষায় নিকটাত্মীয়ের কিডনি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিকটাত্মীয়ের তালিকাভুক্ত ২২ জনের বাইরে অন্য কারও শরীর থেকে কিডনি নিয়ে অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপনের আইনি সুযোগ নেই। এ সংক্রান্ত এক রিটের ফলে আদালত ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর একটি রায় দেন। ওই রায়ে আদালত বলেছিলেন, আত্মীয় না হয়েও কেউ আবেগের বশবর্তী হয়ে কাউকে কিডনি দান করতে চাইলে তা যেন তিনি করতে পারেন। তবে তার জন্য আইন সংশোধন করতে হবে। এখন আইনি জটিলতা দূর করে স্বেচ্ছায় শুভাকাঙ্ক্ষী অঙ্গদান চালু করতে পারলে মানুষ উপকৃত হবে। এ জন্য কর্তৃপক্ষকে জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে। অবৈধ কিডনি ব্যবসা রোধে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা যথাযথভাবে কার্যকর করার উদ্যোগও নিতে হবে।

সম্প্রতি দেশে মরণোত্তর অঙ্গদানে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এ বিষয়ে মানুষের আগ্রহ আরও বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সারা ইসলাম নামে ২০ বছর বয়সি এক ‘ব্রেনডেথ’ নারীর শরীর থেকে দুটি কিডনি পৃথক দুজনের শরীরে এবং দুটি কর্নিয়া পৃথক দুই ব্যক্তির চোখে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। দেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে এ ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। মস্তিষ্কে দুরারোগ্য টিউমারের কারণে তার মৃত্যু হলেও নিজ অঙ্গ দান করে সারা ইসলাম যে সাহসী ও মানবিক ভূমিকা পালন করেছেন, সে জন্য মানুষ তার নাম স্মরণ করবে যুগ যুগ ধরে। কোনো মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তির মহানুভবতায় আরেক মৃত্যুপথযাত্রীর জীবন যদি রক্ষা পায়, সেটা অবশ্যই সুখের বিষয়। আমরা আশা করব, সারা ইসলামকে অনুসরণ করে অন্যরাও এমন সাহসী ও মানবিক উদ্যোগ নেবেন এবং পরবর্তীতে পরিবারের অন্য সদস্যরা এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

স্বেচ্ছায় অঙ্গদান

 সম্পাদকীয় 
২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিভিন্ন দেশে কিডনি ও অন্যান্য বিকল অঙ্গের মানুষ মরণোত্তর অঙ্গদান এবং স্বেচ্ছায় শুভাকাঙ্ক্ষী অঙ্গদান প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা নিয়ে নতুন জীবন পাচ্ছেন। আমাদের দেশে নিকটাত্মীয় ছাড়া ইমোশনাল ডোনারের কাছ থেকে অঙ্গ নেওয়ার আইন এখনো প্রণয়ন করা হয়নি। এতে বিপাকে পড়ছেন বহু রোগী। শুধু কিডনি সংযোজনে দাতা সংকটে বছরে মারা যাচ্ছে হাজার হাজার কিডনি রোগী। একইভাবে হাজার হাজার মানুষ লিভার, হার্ট, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয় ইত্যাদি সংক্রান্ত রোগে মারা যাচ্ছেন। জানা যায়, দেশে বর্তমানে কেবল কিডনি রোগীই রয়েছে প্রায় দুই কোটি। এদের মধ্যে প্রতি বছর ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয়। এসব রোগীর একটি বড় অংশই ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজনজনিত চিকিৎসার অভাবে মারা যায়। কিডনি অকেজো হয়ে গেলে বেঁচে থাকার জন্য রোগীর ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজন প্রয়োজন হয়। দেশে এ রোগের চিকিৎসা থাকলেও তা খুবই ব্যয়বহুল এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ২০১৮ সালের আইন অনুযায়ী জীবন রক্ষায় নিকটাত্মীয়ের কিডনি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিকটাত্মীয়ের তালিকাভুক্ত ২২ জনের বাইরে অন্য কারও শরীর থেকে কিডনি নিয়ে অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপনের আইনি সুযোগ নেই। এ সংক্রান্ত এক রিটের ফলে আদালত ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর একটি রায় দেন। ওই রায়ে আদালত বলেছিলেন, আত্মীয় না হয়েও কেউ আবেগের বশবর্তী হয়ে কাউকে কিডনি দান করতে চাইলে তা যেন তিনি করতে পারেন। তবে তার জন্য আইন সংশোধন করতে হবে। এখন আইনি জটিলতা দূর করে স্বেচ্ছায় শুভাকাঙ্ক্ষী অঙ্গদান চালু করতে পারলে মানুষ উপকৃত হবে। এ জন্য কর্তৃপক্ষকে জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে। অবৈধ কিডনি ব্যবসা রোধে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা যথাযথভাবে কার্যকর করার উদ্যোগও নিতে হবে।

সম্প্রতি দেশে মরণোত্তর অঙ্গদানে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এ বিষয়ে মানুষের আগ্রহ আরও বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সারা ইসলাম নামে ২০ বছর বয়সি এক ‘ব্রেনডেথ’ নারীর শরীর থেকে দুটি কিডনি পৃথক দুজনের শরীরে এবং দুটি কর্নিয়া পৃথক দুই ব্যক্তির চোখে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। দেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে এ ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। মস্তিষ্কে দুরারোগ্য টিউমারের কারণে তার মৃত্যু হলেও নিজ অঙ্গ দান করে সারা ইসলাম যে সাহসী ও মানবিক ভূমিকা পালন করেছেন, সে জন্য মানুষ তার নাম স্মরণ করবে যুগ যুগ ধরে। কোনো মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তির মহানুভবতায় আরেক মৃত্যুপথযাত্রীর জীবন যদি রক্ষা পায়, সেটা অবশ্যই সুখের বিষয়। আমরা আশা করব, সারা ইসলামকে অনুসরণ করে অন্যরাও এমন সাহসী ও মানবিক উদ্যোগ নেবেন এবং পরবর্তীতে পরিবারের অন্য সদস্যরা এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন