হজের ব্যয় বৃদ্ধি, যৌক্তিক ও বহনক্ষম করা জরুরি
jugantor
হজের ব্যয় বৃদ্ধি, যৌক্তিক ও বহনক্ষম করা জরুরি

  সম্পাদকীয়  

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের হজ চুক্তি অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। জানা গেছে, এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার এবং বেসরকারিভাবে ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ জুন সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এবার হজ প্যাকেজের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। এ বছর যারা হজে যাবেন, গতবারের চেয়ে তাদের দেড় থেকে ২ লাখ টাকা বেশি ব্যয় করতে হবে।

এ বিষয়ে অবশ্য হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) ও বাংলাদেশ বিমানের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, বাহাস বন্ধ করে হজ পালনেচ্ছুদের দুর্ভোগ হ্রাসসহ হজের ব্যয় ন্যূনতম সীমায় নামিয়ে আনার ব্যাপারে সবার মনোযোগ দেওয়া উচিত।

বলার অপেক্ষা রাখে না, হজ খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। এর সঙ্গে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আবেগ-অনুভূতি ও বিশ্বাসের প্রশ্ন জড়িত। অথচ দেখা যায়, প্রতিবছর হজ পালনেচ্ছুদের নানারকম দুর্ভোগ পোহাতে হয়-যা মোটেই কাম্য নয়। হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ভালো মানের বাড়ি, মিনায় ভালো জায়গায় তাঁবু ও হজের দিন পরিবহণ সমস্যা ছাড়াও অজু, গোসল ও টয়লেট সমস্যায় দেশের হজযাত্রীদের নাকাল হতে হয়। হজযাত্রীদের কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মহল থেকে বারবার সমস্যাগুলো সমাধানের তাগিদ দেওয়া হলেও এক্ষেত্রে দুর্ভোগের লাঘব হচ্ছে না কেন, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

দেখা গেছে, হজ পালনেচ্ছুরা কেবল সৌদি আরবেই নয়, দেশের অভ্যন্তরেও অনেকরকম সমস্যা ও দুর্ভোগের সম্মুখীন হন। প্রতারণার শিকার হয়ে হজযাত্রী অনেক নরনারী বিমানবন্দরে কান্নাকাটি করছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তার সমাধান হয়েছে-এমন নজিরও রয়েছে। এর বাইরে হজযাত্রী পরিবহণের নামে বিদেশি এয়ারলাইন্স, হাব ও কিছু ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের কতিপয় দুর্নীতিবাজ সদস্য দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় হজযাত্রীদের চরম খেসারত দিতে হয়, যা অনভিপ্রেত। সৌদি আরবে হজ পালনেচ্ছুদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়েও সরকারের নজর দেওয়া উচিত। হজের ব্যয়ভার সাধারণ মানুষের জন্য যৌক্তিক ও বহনক্ষম করার পাশাপাশি পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে তারা যাতে দেশে কিংবা সৌদি আরবে কোনো দুর্ভোগ, প্রতারণা ও হয়রানির শিকার না হন, এ ব্যাপারে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

হজের ব্যয় বৃদ্ধি, যৌক্তিক ও বহনক্ষম করা জরুরি

 সম্পাদকীয় 
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের হজ চুক্তি অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। জানা গেছে, এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার এবং বেসরকারিভাবে ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ জুন সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এবার হজ প্যাকেজের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। এ বছর যারা হজে যাবেন, গতবারের চেয়ে তাদের দেড় থেকে ২ লাখ টাকা বেশি ব্যয় করতে হবে।

এ বিষয়ে অবশ্য হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) ও বাংলাদেশ বিমানের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, বাহাস বন্ধ করে হজ পালনেচ্ছুদের দুর্ভোগ হ্রাসসহ হজের ব্যয় ন্যূনতম সীমায় নামিয়ে আনার ব্যাপারে সবার মনোযোগ দেওয়া উচিত।

বলার অপেক্ষা রাখে না, হজ খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। এর সঙ্গে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আবেগ-অনুভূতি ও বিশ্বাসের প্রশ্ন জড়িত। অথচ দেখা যায়, প্রতিবছর হজ পালনেচ্ছুদের নানারকম দুর্ভোগ পোহাতে হয়-যা মোটেই কাম্য নয়। হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ভালো মানের বাড়ি, মিনায় ভালো জায়গায় তাঁবু ও হজের দিন পরিবহণ সমস্যা ছাড়াও অজু, গোসল ও টয়লেট সমস্যায় দেশের হজযাত্রীদের নাকাল হতে হয়। হজযাত্রীদের কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মহল থেকে বারবার সমস্যাগুলো সমাধানের তাগিদ দেওয়া হলেও এক্ষেত্রে দুর্ভোগের লাঘব হচ্ছে না কেন, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

দেখা গেছে, হজ পালনেচ্ছুরা কেবল সৌদি আরবেই নয়, দেশের অভ্যন্তরেও অনেকরকম সমস্যা ও দুর্ভোগের সম্মুখীন হন। প্রতারণার শিকার হয়ে হজযাত্রী অনেক নরনারী বিমানবন্দরে কান্নাকাটি করছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তার সমাধান হয়েছে-এমন নজিরও রয়েছে। এর বাইরে হজযাত্রী পরিবহণের নামে বিদেশি এয়ারলাইন্স, হাব ও কিছু ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের কতিপয় দুর্নীতিবাজ সদস্য দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় হজযাত্রীদের চরম খেসারত দিতে হয়, যা অনভিপ্রেত। সৌদি আরবে হজ পালনেচ্ছুদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়েও সরকারের নজর দেওয়া উচিত। হজের ব্যয়ভার সাধারণ মানুষের জন্য যৌক্তিক ও বহনক্ষম করার পাশাপাশি পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে তারা যাতে দেশে কিংবা সৌদি আরবে কোনো দুর্ভোগ, প্রতারণা ও হয়রানির শিকার না হন, এ ব্যাপারে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন