প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

নির্বাচনের অনেক কিছুই খোলাসা হয়েছে

  যুগান্তর ডেস্ক ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শুক্রবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
শুক্রবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। সরকার দেশের কোন্ কোন্ খাতে কী কী উন্নতি করেছে, এ ভাষণে তিনি তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী তুলে ধরেছেন এবং সাফল্য ও ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে এগিয়ে যেতে চান বলে তার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উন্নয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে যা বলেছেন, তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার কিছু নেই। অতীতের সাফল্য ও ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করার অঙ্গীকারও সুবিবেচনারই বহিঃপ্রকাশ নিশ্চয়ই।

প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচন নিয়েও তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন। বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী এ বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবে এবং তা হবে সংবিধান মোতাবেক নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনেই। তিনি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর আগামী নির্বাচন কখন এবং কী ধরনের সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। আমরাও মনে করি, শুধু নির্বাচন নয়, দেশের যে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেরই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোনো ক্ষেত্রেই সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই আমাদের। তবে এটাও ঠিক, সংবিধানের আওতায়ই এমন একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা সম্ভব, যা বিরোধী দল, বিশেষত বিএনপির মতো জনপ্রতিনিধিত্বশীল একটি বড় দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। বিএনপি অনেকদিন ধরেই সুষ্ঠু নির্বাচনে সহায়ক হতে পারে এমন একটি নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি উচ্চারণ করে আসছে। আমরা মনে করি, বিএনপির সেই দাবির প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্বও অনেকাংশে সরকারের ওপর বর্তায়। ফলে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সরকার, বিশেষত প্রধানমন্ত্রীকে সবদিকই বিবেচনায় রাখতে হবে বলে মনে করি আমরা, যাতে নির্বাচনটি সর্বাংশে অংশগ্রহণমূলক হতে পারে।

নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনের নামে জানমালের ক্ষতি জনগণ মেনে নেবে না বলে যা উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী, তার সঙ্গেও দ্বিমত করার কিছু নেই। আমরা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে-পরে আন্দোলনের নামে যা ঘটতে দেখেছি, তা দুঃখজনক। সেসব কর্মসূচিতে অনেকেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন, দেশের অবকাঠামোর ক্ষতিসাধন হয়েছে প্রচুর। এ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে। নির্বাচনে অংশ নিতে হবে সব পক্ষকেই এবং তা গণতান্ত্রিক চেতনার ভিত্তিতেই। পরাজয় মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকলে অন্যথা হওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর রাজনীতির সব পক্ষই শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter