চক্রান্ত থেমে নেই

  সৌরভ দাস ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আফসানা আহমেদ ইভা
আফসানা আহমেদ ইভা

গত ৮ জানুয়ারি রাতের ঘটনা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যথারীতি শীতের প্রকোপ ছিল বেশি। লেপমুড়ি দিয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ মোবাইল ফোনটি বেজে উঠল। রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট বাকৃবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ইশরাত জাহান শাপলা জানাল, ইভাকে নাকি আবারও ওরা ডেকেছে। ‘ওরা’ ক্যাম্পাসে বেশ দাপুটে। পুরো ক্যাম্পাস তাদের। তারা হলে সিট দেয়। তাদের কথায় প্রশাসন উঠেবসে। এই ওরা হচ্ছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আর ইভা প্রথমবর্ষের একজন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর থেকেই সে সক্রিয়ভাবে ছাত্রফ্রন্ট করে। পুরো নাম আফসানা আহমেদ ইভা। কিন্তু ইভার ছাত্রফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি ওদের বেশ ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইভাকে শায়েস্তা করার জন্য তারা ফন্দি আঁটতে থাকে।

৪ জানুয়ারি ছিল ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বাকৃবিতে ছাত্রলীগের কোনো মিছিল থাকলে এতদিন শুধু ছেলেদের হলের প্রথমবর্ষের সবাইকে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ করতে হতো। এ বছর তারা মেয়েদের হলও বাদ দিতে চাচ্ছে না। তাই মেয়েদের হল থেকেও তারা ছাত্রীদের মিছিলে নেয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। এরকম কিছু হবে আঁচ করতে পেরে হলের বেশকিছু মেয়ে মিছিলের ভয়ে ৪ জানুয়রি ক্লাস শেষে হলেই ফেরেনি। যারা তখন হলে ছিল তাদের সবাইকে ধমক দিয়ে বের করা হয়। এমন সময় ইভা সাহস করে পরিষ্কার জানিয়ে দেয়- ‘আপু দেখেন, আমি তো ছাত্রফ্রন্ট করি। আমি এ মিছিলে যাব না।’

এই সাধারণ সত্যটি বলাই যেন তার মহাঅন্যায় হয়ে গেছে! রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগ ওই রাতেই ইভাকে ডেকে নিয়ে অনেক হুমকি-ধমকি দেয়। সে পরদিন সকালে বেগম রোকেয়া হলের প্রভোস্টকে ফোন দিয়ে পুরো বিষয়টা জানায়। কিন্তু প্রভোস্টের জবাব শুনে সে হতভম্ব হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘তুমি ফার্স্ট ইয়ার। ফার্স্ট ইয়ারদের কোনো সংগঠন নাই। বড় আপুরা মিছিলে ডাকলে তুমি কেন যাবে না? অবশ্যই যাবে। না গিয়ে তুমি বেয়াদবি করেছ!’

প্রভোস্টের এরকম আচরণে ইভা দিশা হারিয়ে ফেলে। সে হলে একটা অভিযোগপত্র জমা দেয়। কিন্তু তাতে প্রশাসনের টনক নড়ে না। ইভাকে এরপরও আরেক দফা হুমকি দেয়া হয় এবং হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য আলটিমেটাম দেয়া হয়। ইভাকে তারা ৮ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডেকে নিয়ে উপর্যুপরি হুমকি দেয় এবং রোকেয়া হল ছেড়ে হেলথ কেয়ার সেন্টারের (যেখানে সিট সংকুলান না হওয়ায় কিছু ছাত্রীকে রাখা হয়েছিল) তিন তলায় যাওয়ার জন্য জোর করে। কিন্তু এরকম অনৈতিকতার সঙ্গে ইভা কোনো আপস করেনি। ছাত্রলীগের কর্মীরা ইভার জিনিসপত্র হলের বুয়াদের দিয়ে জোর করে তুলে নিয়ে ইভাকে হল থেকে বের করে দেয়। তখন ঘটনাস্থলে দ্রুত বাকৃবি শাখা ছাত্রফ্রন্ট সম্পাদক এবং অর্থ সম্পাদক এসে উপস্থিত হয়। তারা দু’জনেই ওই হলের আবাসিক ছাত্রী। হল গেট বন্ধ করে দেয়ায় তারা হলের সামনেই অবস্থান নেয়। এক এক করে তারা প্রক্টর, প্রভোস্ট সবাইকে ফোন দেয়। প্রক্টর একবার ফোন ধরার পর আর ধরেননি। প্রভোস্ট একনজর হলে এসেছিলেন বটে, কিন্তু তিনিও তাকে হেলথ কেয়ারের তিন তলায় থাকার সমাধান দেন। ইভা পরদিন সকালে আমরণ অনশনে বসে। আলোড়ন পড়ে যায় দেশজুড়ে।

ইভার সারাদিনের অনশনে প্রশাসনের টনক নড়ে। বিকাল চারটার দিকে ইভা তার হলের সিট ফিরে পায়। তবে তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত থেমে নেই। শুনলাম রোকেয়া হলে বলপূর্বক ইভার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেটা দিয়ে কী করা হবে কে জানে। হয়তো আরও কোনো নাটক সাজানো হবে। সে অপেক্ষাতেই হয়তো আমাদের থাকতে হবে।

সৌরভ দাস : সভাপতি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বাকৃবি শাখা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter