বিশ্বব্যাংকের উদ্বেগ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরও আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম রোহিঙ্গা সংকটকে মানবিক ট্র্যাজেডি বলে উল্লেখ করেছেন। রোববার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

এ বর্বরতার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।’ এর আগে এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের দুর্দশা আমাদের গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। তারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের সহায়তা দিয়ে যেতে আমরা প্রস্তুত আছি।’

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের এসব বক্তব্যকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।

রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও সামাজিক সুরক্ষায় বাংলাদেশকে ৪৮ কোটি ডলার অনুদান দেয়ার কথাও জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংক প্রধান। তিনি আরও জানিয়েছেন, একক দেশ হিসেবে এবার বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাংক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সহায়তা দিচ্ছে।

এ বছর বাংলাদেশকে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দেয়া হবে। আমরা মনে করি, এতে রোহিঙ্গাদের ভরণপোষণের একটি সংস্থান হবে নিশ্চয়ই; তবে এর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হল রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি। বাংলাদেশ ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে মানবিক কারণে।

এজন্য বিশ্বে বাংলাদেশ প্রশংসিত হচ্ছে সন্দেহ নেই; তবে এটিও অনুধাবন করতে হবে যে বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্র। বছরের পর বছর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার ভার বহন করা আমাদের জন্য কঠিন। বিশ্বব্যাংকসহ দাতা গোষ্ঠীগুলো থেকে হয়তো আরও অর্থ আসবে।

তবে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে জায়গা দিতে গিয়ে বাংলাদেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, তাতে কি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে? রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির কারণে দেশের নিরাপত্তাও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।

এ অবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু হয় ততই মঙ্গল। কিন্তু মিয়ানমার সরকার এ বিষয়ে গড়িমসি করছে। তারা যাতে প্রত্যাবাসন নীতিমালার যথার্থ বাস্তবায়ন ঘটিয়ে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেয় এবং সেখানে তাদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে, সেজন্য আমরা বিশ্বব্যাংকসহ সব দাতাগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে দৃঢ় ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট নিজেও বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে হবে। আমরাও মনে করি, এ সংকট নিরসনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের শক্তিশালী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দৃঢ় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা সেই ভূমিকা পালন করেনি। মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার পরও তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়নি কোনো বিশ্বশক্তি বা সংস্থা। এটি দুঃখজনক।

তবে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ত্রাণ ছাড়া মিয়ানমারে সব ধরনের প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এজন্য বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে আমরা সাধুবাদ জানাই। মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার ভূমিকা থেকে কার্যকর ফল মিলবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

আশা করি, জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাও এ ধরনের দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। গতকাল জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম কক্সবাজারে গিয়ে রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।

তারা নিজ চোখে দেখেছেন বিদ্যমান পরিস্থিতি। এবার তারা নতুন কী পদক্ষেপ নেন, আমরা তা দেখার অপেক্ষায় থাকব।