রাজনৈতিক সংলাপ

শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিকল্প নেই
 সম্পাদকীয় 
০৯ জুন ২০২৩, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে সংলাপের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা সংলাপ প্রশ্নে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিলেও সাধারণভাবে মনে করা হচ্ছে, তারা আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নেবেন। অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা এজেন্ডাবিহীন কোনো সংলাপে সাড়া দেবেন না। দলটির মহাসচিব বলেছেন, সরকার যদি পদত্যাগ করতে রাজি হয়, তাহলে বিএনপি আলোচনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।

আমরা মনে করি, যে কোনো সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংলাপ বা আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। আর আলোচনায় বসতে হবে নিঃশর্তভাবে। আগাম শর্ত আরোপ করে সংলাপ হয় না। কারণ সংলাপে বসার উদ্দেশ্যই হলো সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা।

রাজনীতিতে একগুঁয়ে মনোভাবের পরিণতি কী হয়, তার অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। কাজেই নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে দেশের রাজনীতি যেভাবে দিন দিন উত্তপ্ত হচ্ছে, তাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একটি সংলাপ হওয়া প্রয়োজন এবং তা যত দ্রুত হয় ততই মঙ্গল।

তবে সংলাপ বা আলোচনা যাই হোক, তা হতে হবে অর্থবহ। অতীতে দেখা গেছে, জাতিসংঘের মধ্যস্থতাসহ বিভিন্নভাবে যেসব রাজনৈতিক সংলাপ হয়েছে, তা কোনো ফল বয়ে আনেনি। এর কারণ, সংলাপে অংশ নেওয়া পক্ষগুলোর যার যার প্রস্তাবে অটল থাকা। কাজেই ‘বিচার মানি, কিন্তু তালগাছটি আমার’-এমন মনোভাব নিয়ে সংলাপে বসে লাভ নেই।

সংলাপে বসতে হবে সত্যিকারের আন্তরিকতা নিয়ে, যাতে এক পক্ষের যৌক্তিক প্রস্তাব অন্য পক্ষ মেনে নিতে প্রস্তুত থাকে। তা না হলে সংলাপ হবে অর্থহীন। আর তাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। আমরা দেখছি, নির্বাচন সামনে রেখে দেশে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার হতে পারে, যা দেশ ও জনগণের জন্য শুভ ও কল্যাণকর হবে না।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার মধ্যেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে, এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। অথচ রাজনৈতিক দলগুলোর পালটাপালটি কর্মসূচি এবং নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণকেই শ্রেয় বলে মনে করি আমরা। বস্তুত পরস্পরের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো যদি আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসা যায় এবং সেখানে সমাধানের পথ খোঁজা হয়, তাহলে দেশের রাজনীতিতে সংঘাত-সংঘর্ষ ও নৈরাজ্য হ্রাস পাবে। এ বিষয়ে সব দলের রাজনীতিকদের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া জরুরি।

আমরা দেখছি, দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে বৈরী সম্পর্ক চলছে, তা দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে। দেশে সমঝোতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হলে এ অবস্থার অবসান ঘটবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক দলগুলো যদি প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণতার রাজনীতি পরিহার করে পরস্পরের প্রতি সহনশীল হয়, তাহলে দেশের উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন